০৭:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পানি আনতে গিয়ে শিশু সন্তান হারালেন মা, র‍্যাবের অভিযানে উদ্ধার,গ্রেফতার ৪

  • আপডেট: ০৬:০৩:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১৮০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ডাক্তার দেখিয়ে শিশু হিসানকে নিয়ে মৌচাক মার্কেটের উদ্দেশ্যে একটি অটো রিকশায় উঠেন ভুক্তভোগীর মা সুমাইয়া। রিকশায় কিছুদূর যাওয়ার পর হিসান তার মার কাছে পানি পান করতে চাইলে তাকে রিকশায় রেখে পানি আনতে যান তিনি। এই সুযোগে তিন বছর বয়সী হিসানকে নিয়ে পালিয়ে যান রিকশাচালক চাঁন মিয়া।

র‍্যাব জানায়,রিকশা চালক শিশুটিকে অপহরণের পর নিকট আত্মীয় আজাদ নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে ভুক্তভোগীকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে তার নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য হস্তান্তর করে।

এ ঘটনায় জড়িত থাকায় মোট ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। গ্রেফতারকৃতরা হলো- অপহরণকারী মো.চাঁন মিয়া,তার বাবা মো.নূর মোহাম্মদ ও মা চাঁন মালা এবং মোসাম্মদ কুলসুম বেগমকে গ্রেফতার করে।

শুক্রবার (৩০জানুয়ারি) বিকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত মুগদা হাসপাতাল থেকে শিশুকে অপহরণের ঘটনায় শিশুকে উদ্ধার এবং মূল অপহরণকারী গ্রেফতার সংক্রান্ত এক সংবাদ সন্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে এসব বলেন র‍্যাবের মুখপাত্র (উইং কমান্ডার) এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।।

এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন,গত ২৯ জানুয়ারি রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তিন বছরের শিশুকে অপহরণের ঘটনায় ভিকটিম হিসানকে উদ্ধার এবং অপহরণকারী মো.চাঁন মিয়াসহ ৪ জন আসামীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। র‍্যাব এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং অত্যন্ত দ্রুত সময় এই শিশু সন্তানটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

ঘটনার বিবরন তুলে ধরে তিনি বলেন,ভুক্তভোগী শিশু হিসানের মা সুমাইয়া আক্তার রাজধানীর দক্ষিণগাঁও সবুজবাগ থানা তিন এলাকায় বেশ কিছুদিন যাবৎ বসবাস করে আসছেন। সুমাইয়া আক্তারের স্বামী গত ১২ বছর যাবৎ প্রবাসে থাকায়,তার তিন সন্তানকে নিয়ে তিনি (সুমাইয়া) নিজেই বাড়ির যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন। গত ২৮ জানুয়ারি দুপুর ১১ টার সময় ভিক্টিম সুমাইয়া ছেলে হিসান রহমানকে নিয়ে ডাক্তার দেখানোর জন্য মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। ডাক্তার দেখানো শেষে তিনি ছেলে হিসানকে নিয়ে মৌচাক মার্কেটের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার জন্য তিনি একটি অটো রিকশায় উঠেন। রিকশায় কিছুদূর যাওয়ার পর হিসান তার মার কাছে পানি পান করতে চাইলে ভুক্তভোগীর মা সুমাইয়া আক্তার তাকে রিকশায় রেখে পানি আনতে যান এবং এসে দেখেন রিকশাচালক শিশুটিকে নিয়ে পালিয়েছে।

এরপর ওই এলাকায় ভুক্তভোগীর মা সুমাইয়া অনেকক্ষণ খোঁজখবর করে না পেয়ে গতকাল (২৯ জানুয়ারি) বাদী হয়ে মুগদা থানায় একটি মামলা দায়ের করে। এ ঘটনায় র‍্যাব ভুক্তভোগী শিশুকে উদ্ধার এবং জড়িতদের গ্রেফতারের গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে।

তিনি বলেন,গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব ৩, র‍্যাব ১৩ এবং র‍্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখার যৌথ অভিযানে রমনা থানাধীন ওয়ারলেস গেট গ্র্যান্ড প্লাজা এলাকা থেকে অপহরণকারী মো.চাঁন মিয়াকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

এছাড়াও গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ি বাস স্ট্যান্ড এলাকা থেকে আসামির বাবা মা মো.নূর মোহাম্মদ ও চান মালা এবং মোসাম্মদ কুলসুম বেগমকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, চান মিয়া তার নিকট আত্মীয় আজাদ নামে এক ব্যক্তির কাছে ভুক্তভোগীকে দিয়ে গাইবান্ধায় তার নিজ জেলায় গোবিন্দগঞ্জ তার নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য হস্তান্তর করে। এসব তথ্য পর্যালোচনা করে র‍্যাব তিন ভিক্টিমের অবস্থান নিশ্চিত করে এবং এই তথ্যটি রংপুরের র‍্যাব-১৩’কে পাঠায়। পরে র‍্যব-১৩ অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ভুক্তভোগী শিশুকে উদ্ধার করে।

গ্রেফতারকৃত চান মিয়া এর আগেও বিভিন্ন ধরনের অপরাধ কর্মে লিপ্ত ছিল। যে কারণে তার নামে গাইবান্ধা থানায় একটি হত্যা মামলা এবং মুগদা থানায় একটি মাদক মামলা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

পানি আনতে গিয়ে শিশু সন্তান হারালেন মা, র‍্যাবের অভিযানে উদ্ধার,গ্রেফতার ৪

আপডেট: ০৬:০৩:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ডাক্তার দেখিয়ে শিশু হিসানকে নিয়ে মৌচাক মার্কেটের উদ্দেশ্যে একটি অটো রিকশায় উঠেন ভুক্তভোগীর মা সুমাইয়া। রিকশায় কিছুদূর যাওয়ার পর হিসান তার মার কাছে পানি পান করতে চাইলে তাকে রিকশায় রেখে পানি আনতে যান তিনি। এই সুযোগে তিন বছর বয়সী হিসানকে নিয়ে পালিয়ে যান রিকশাচালক চাঁন মিয়া।

র‍্যাব জানায়,রিকশা চালক শিশুটিকে অপহরণের পর নিকট আত্মীয় আজাদ নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে ভুক্তভোগীকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে তার নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য হস্তান্তর করে।

এ ঘটনায় জড়িত থাকায় মোট ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। গ্রেফতারকৃতরা হলো- অপহরণকারী মো.চাঁন মিয়া,তার বাবা মো.নূর মোহাম্মদ ও মা চাঁন মালা এবং মোসাম্মদ কুলসুম বেগমকে গ্রেফতার করে।

শুক্রবার (৩০জানুয়ারি) বিকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত মুগদা হাসপাতাল থেকে শিশুকে অপহরণের ঘটনায় শিশুকে উদ্ধার এবং মূল অপহরণকারী গ্রেফতার সংক্রান্ত এক সংবাদ সন্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে এসব বলেন র‍্যাবের মুখপাত্র (উইং কমান্ডার) এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।।

এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন,গত ২৯ জানুয়ারি রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তিন বছরের শিশুকে অপহরণের ঘটনায় ভিকটিম হিসানকে উদ্ধার এবং অপহরণকারী মো.চাঁন মিয়াসহ ৪ জন আসামীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। র‍্যাব এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং অত্যন্ত দ্রুত সময় এই শিশু সন্তানটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

ঘটনার বিবরন তুলে ধরে তিনি বলেন,ভুক্তভোগী শিশু হিসানের মা সুমাইয়া আক্তার রাজধানীর দক্ষিণগাঁও সবুজবাগ থানা তিন এলাকায় বেশ কিছুদিন যাবৎ বসবাস করে আসছেন। সুমাইয়া আক্তারের স্বামী গত ১২ বছর যাবৎ প্রবাসে থাকায়,তার তিন সন্তানকে নিয়ে তিনি (সুমাইয়া) নিজেই বাড়ির যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন। গত ২৮ জানুয়ারি দুপুর ১১ টার সময় ভিক্টিম সুমাইয়া ছেলে হিসান রহমানকে নিয়ে ডাক্তার দেখানোর জন্য মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। ডাক্তার দেখানো শেষে তিনি ছেলে হিসানকে নিয়ে মৌচাক মার্কেটের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার জন্য তিনি একটি অটো রিকশায় উঠেন। রিকশায় কিছুদূর যাওয়ার পর হিসান তার মার কাছে পানি পান করতে চাইলে ভুক্তভোগীর মা সুমাইয়া আক্তার তাকে রিকশায় রেখে পানি আনতে যান এবং এসে দেখেন রিকশাচালক শিশুটিকে নিয়ে পালিয়েছে।

এরপর ওই এলাকায় ভুক্তভোগীর মা সুমাইয়া অনেকক্ষণ খোঁজখবর করে না পেয়ে গতকাল (২৯ জানুয়ারি) বাদী হয়ে মুগদা থানায় একটি মামলা দায়ের করে। এ ঘটনায় র‍্যাব ভুক্তভোগী শিশুকে উদ্ধার এবং জড়িতদের গ্রেফতারের গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে।

তিনি বলেন,গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব ৩, র‍্যাব ১৩ এবং র‍্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখার যৌথ অভিযানে রমনা থানাধীন ওয়ারলেস গেট গ্র্যান্ড প্লাজা এলাকা থেকে অপহরণকারী মো.চাঁন মিয়াকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

এছাড়াও গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ি বাস স্ট্যান্ড এলাকা থেকে আসামির বাবা মা মো.নূর মোহাম্মদ ও চান মালা এবং মোসাম্মদ কুলসুম বেগমকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, চান মিয়া তার নিকট আত্মীয় আজাদ নামে এক ব্যক্তির কাছে ভুক্তভোগীকে দিয়ে গাইবান্ধায় তার নিজ জেলায় গোবিন্দগঞ্জ তার নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য হস্তান্তর করে। এসব তথ্য পর্যালোচনা করে র‍্যাব তিন ভিক্টিমের অবস্থান নিশ্চিত করে এবং এই তথ্যটি রংপুরের র‍্যাব-১৩’কে পাঠায়। পরে র‍্যব-১৩ অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ভুক্তভোগী শিশুকে উদ্ধার করে।

গ্রেফতারকৃত চান মিয়া এর আগেও বিভিন্ন ধরনের অপরাধ কর্মে লিপ্ত ছিল। যে কারণে তার নামে গাইবান্ধা থানায় একটি হত্যা মামলা এবং মুগদা থানায় একটি মাদক মামলা রয়েছে বলেও জানান তিনি।