আনসার–ভিডিপির প্রস্তুতি সমাবেশ: সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে ডিজিটাল নজরদারি ও কঠোর নির্দেশনা: আনসার মহাপরিচালক
- আপডেট: ০৩:৪৩:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ১৮০০৫
নিজস্ব প্রতিবেদক,সোনালী খবর
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬কে অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য করতে সারাদেশে প্রস্তুতি কার্যক্রম জোরদার করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি)।
পেশাদারিত্ব,নিরপেক্ষতা এবং আধুনিক ডিজিটাল তদারকির সমন্বয়ে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে জেলা পর্যায়ে প্রস্তুতিমূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এরই অংশ হিসেবে রবিবার (০৮ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। সমাবেশে চট্টগ্রাম জেলার ২৫,৫৪৫ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য সরাসরি অংশ নেন। একই সঙ্গে জায়ান্ট স্ক্রিনের মাধ্যমে কক্সবাজার জেলার নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত ৭,৭১৪ জন সদস্য যুক্ত হন।
সমাবেশে মহাপরিচালক নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে নিরপেক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও নৈতিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “প্রতিটি সদস্য একজন সাধারণ ভোটারের প্রতিনিধি এবং জাতীয় পতাকার অতন্দ্র প্রহরী। নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে কোনো সদস্যকে নিজ ইউনিয়নে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “বাহিনীর সদস্যরা কোনো পক্ষের নন; তারা নৈতিকতার আমানত রক্ষার কারিগর।”
মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ জানান, এবারই প্রথম ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা এবং মন্ত্রণালয় পর্যন্ত বিস্তৃত ডিজিটাল তদারকি ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্বাচনী কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। যেকোনো অপতৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।
তিনি বলেন, ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে নির্বাচনী স্ট্রাইকিং ফোর্সসহ সকল সদস্যের মোতায়েন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নিয়োজিত ১৩ জন সদস্যকে প্রভাবমুক্ত থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জরুরি পরিস্থিতিতে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ’ ব্যবহার করে দ্রুত নিকটস্থ স্ট্রাইকিং টিমকে অবহিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনে ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সমাবেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ত্র, সরঞ্জাম বা দায়িত্ব পালনসংক্রান্ত কোনো ছবি বা ভিডিও শেয়ার না করার বিষয়ে সদস্যদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।
মহাপরিচালক আরও জানান, সদস্যদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে STDMS সফটওয়্যারের মাধ্যমে সরাসরি নিজস্ব অ্যাকাউন্টে খাবারের টাকা ও ভাতা ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রদান করা হচ্ছে, যা আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের অপতৎপরতা রোধ করবে।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী মনে করে, সদস্যদের পেশাদারিত্ব, সততা ও দায়িত্বশীলতার ওপরই নির্ভর করে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা। ডিজিটাল প্রযুক্তি, কঠোর শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে বাহিনীর এই প্রস্তুতি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা ও গণতন্ত্রের ভিত্তি সুদৃঢ় করতে ভূমিকা রাখবে।


















