১২:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

পাসপোর্ট-টাকা কেড়ে নিয়ে কম্বোডিয়ায় নারীকে নির্যাতন, পাচারকারী গ্রেফতার

  • আপডেট: ০৫:৩৮:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • / ১৮০০৭

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

কম্বোডিয়ায় উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে পাচারের অভিযোগে মানবপাচার চক্রের মূলহোতা মো. রুবেলকে (২৯) গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তার বিরুদ্ধে ওই নারীর অর্থ ও পাসপোর্ট আত্মসাৎ এবং তাকে শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আবু তালেব এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সিআইডির মানবপাচার শাখা (টিএইচবি) গত ২১ জুলাই ফরিদপুরের চরভদ্রাসন এলাকা থেকে রুবেলকে গ্রেফতার করে। তিনি রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার খাগজানা গ্রামের বাসিন্দা।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, আর্থিক সংকটে থাকা এক নারীর সঙ্গে স্থানীয় এক এনজিওতে কর্মরত অবস্থায় পরিচয় হয় রুবেলের। পরে কম্বোডিয়ায় কাস্টমার কেয়ার সার্ভিসে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগী নারীকে বিদেশে পাঠানোর আশ্বাস দেন। এজন্য প্রথমে এনজিও থেকে এক লাখ টাকা ঋণ নিতে উৎসাহিত করেন এবং সেই টাকা ও ভুক্তভোগীর পাসপোর্ট নিজের কাছে রেখে দেন। পরে বিভিন্ন অজুহাতে আরও অর্থ নিয়ে মোট চার লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।

২০২৫ সালের আগস্টে ওই নারীকে কম্বোডিয়ায় পাঠানো হলে সেখানে পৌঁছানোর পর চক্রের সদস্যরা তার পাসপোর্ট ও সঙ্গে থাকা অর্থ জোরপূর্বক নিয়ে নেয়।

অভিযোগ রয়েছে, তাকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনিচ্ছাকৃত কাজ করানো হয়, উপার্জিত অর্থ আত্মসাৎ করা হয় এবং অবৈধ কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। রাজি না হওয়ায় তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি প্রাণনাশ ও অন্য দালালের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

পরে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টার এবং আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থার সহযোগিতায় গত ১ জুলাই দেশে ফেরেন ভুক্তভোগী। দেশে ফিরে তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

সিআইডির এই কর্মকর্তা আরও জানান, তদন্তে ভুক্তভোগীর তথ্য, সাক্ষ্য-প্রমাণ, নথিপত্র ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে রুবেলকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতের আদেশে তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। মামলার অন্য অভিযুক্ত, মানবপাচার নেটওয়ার্ক, আর্থিক লেনদেন এবং বিদেশে অবস্থানরত সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

বিদেশে চাকরির ক্ষেত্রে উচ্চ বেতনের প্রলোভনে বিভ্রান্ত না হয়ে সরকার অনুমোদিত বৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশ যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সিআইডি। পাশাপাশি মানবপাচার বা বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণার তথ্য পেলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সিআইডিকে জানাতে নাগরিকদের অনুরোধ জানিয়েছেন অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আবু তালেব।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

পাসপোর্ট-টাকা কেড়ে নিয়ে কম্বোডিয়ায় নারীকে নির্যাতন, পাচারকারী গ্রেফতার

আপডেট: ০৫:৩৮:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

কম্বোডিয়ায় উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে পাচারের অভিযোগে মানবপাচার চক্রের মূলহোতা মো. রুবেলকে (২৯) গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তার বিরুদ্ধে ওই নারীর অর্থ ও পাসপোর্ট আত্মসাৎ এবং তাকে শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আবু তালেব এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সিআইডির মানবপাচার শাখা (টিএইচবি) গত ২১ জুলাই ফরিদপুরের চরভদ্রাসন এলাকা থেকে রুবেলকে গ্রেফতার করে। তিনি রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার খাগজানা গ্রামের বাসিন্দা।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, আর্থিক সংকটে থাকা এক নারীর সঙ্গে স্থানীয় এক এনজিওতে কর্মরত অবস্থায় পরিচয় হয় রুবেলের। পরে কম্বোডিয়ায় কাস্টমার কেয়ার সার্ভিসে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগী নারীকে বিদেশে পাঠানোর আশ্বাস দেন। এজন্য প্রথমে এনজিও থেকে এক লাখ টাকা ঋণ নিতে উৎসাহিত করেন এবং সেই টাকা ও ভুক্তভোগীর পাসপোর্ট নিজের কাছে রেখে দেন। পরে বিভিন্ন অজুহাতে আরও অর্থ নিয়ে মোট চার লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।

২০২৫ সালের আগস্টে ওই নারীকে কম্বোডিয়ায় পাঠানো হলে সেখানে পৌঁছানোর পর চক্রের সদস্যরা তার পাসপোর্ট ও সঙ্গে থাকা অর্থ জোরপূর্বক নিয়ে নেয়।

অভিযোগ রয়েছে, তাকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনিচ্ছাকৃত কাজ করানো হয়, উপার্জিত অর্থ আত্মসাৎ করা হয় এবং অবৈধ কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। রাজি না হওয়ায় তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি প্রাণনাশ ও অন্য দালালের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

পরে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টার এবং আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থার সহযোগিতায় গত ১ জুলাই দেশে ফেরেন ভুক্তভোগী। দেশে ফিরে তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

সিআইডির এই কর্মকর্তা আরও জানান, তদন্তে ভুক্তভোগীর তথ্য, সাক্ষ্য-প্রমাণ, নথিপত্র ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে রুবেলকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতের আদেশে তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। মামলার অন্য অভিযুক্ত, মানবপাচার নেটওয়ার্ক, আর্থিক লেনদেন এবং বিদেশে অবস্থানরত সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

বিদেশে চাকরির ক্ষেত্রে উচ্চ বেতনের প্রলোভনে বিভ্রান্ত না হয়ে সরকার অনুমোদিত বৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশ যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সিআইডি। পাশাপাশি মানবপাচার বা বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণার তথ্য পেলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সিআইডিকে জানাতে নাগরিকদের অনুরোধ জানিয়েছেন অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আবু তালেব।