০৭:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

ঢাকার সড়কে নজরদারি বাড়াতে বসছে ১ হাজার ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ ক্যামেরা

  • আপডেট: ০৫:২০:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • / ১৮০০৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

রাজধানীর সড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ প্রযুক্তির এক হাজার ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। ইতোমধ্যে ৩০০ ফিট (পূর্বাচল) সড়কে এসব ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ট্রাফিক ডাইভারশন পরিদর্শনকালে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আনিছুর রহমান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ধাপে ধাপে এসব ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক) ক্যামেরার তুলনায় ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ ক্যামেরার খরচ কম হওয়ায় সীমিত বাজেটের মধ্যেই দ্রুত বেশি এলাকা নজরদারির আওতায় আনতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আনিছুর রহমান জানান, এসব ক্যামেরায় থাকা মেমোরি কার্ডে সরাসরি ভিডিও ধারণ করা হবে। পরে সেই ফুটেজ পর্যালোচনা করে ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে রাজধানীর ১৬টি পয়েন্টে ৩৭টি এআই ক্যামেরা কার্যকর রয়েছে এবং সেগুলো নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে।

সেমি-অটোমেটিক ট্রাফিক সিগন্যাল সম্পর্কে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, বর্তমানে ১৩টি সিগন্যালে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। তবে যান্ত্রিক ত্রুটি, ভারী বৃষ্টি কিংবা অন্যান্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে সব সময় সেগুলো সচল রাখা সম্ভব হয় না।

তিনি জানান, নির্দেশনা অনুযায়ী খুব শিগগিরই ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার আরও ৫০টি ট্রাফিক সিগন্যাল চালুর প্রস্তুতি চলছে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রস্তুত হলেই সেগুলো চালু করা হবে।

সড়কে শব্দদূষণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মো. আনিছুর রহমান। তিনি বলেন, অনেক সময় যানজট না থাকলেও অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন যানবাহন অপ্রয়োজনে হুটার বাজায়। অতিরিক্ত শব্দদূষণ ট্রাফিক সদস্যদের শ্রবণশক্তি, মানসিক স্বাস্থ্য ও শারীরিক সুস্থতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

তিনি বলেন, অবৈধ হুটার, হাইড্রোলিক হর্ন ও অবৈধ লাইট ব্যবহারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যানজট কমাতে ধানমন্ডি থেকে বসিলাগামী সড়কের একটি আইল্যান্ড অপসারণ করা হয়। এর ফলে তিনটি সিগনালের পরিবর্তে দুটি সিগনাল রাখা হয়েছে।

ট্রাফিক পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিনের যানজট কমাতে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় ধানমন্ডির পশ্চিম দিক থেকে আসা যানবাহন আর মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে ডান দিকে মোড় নিতে পারবে না। তারা ময়ূর ভিলার সামনে ইউ-টার্ন নিয়ে আসাদ গেট এলাকায় প্রবেশ করবে।

তিনি বলেন, একটি সিগন্যাল কমে যাওয়ায় যানবাহনের অপেক্ষার সময় কমবে এবং ওই এলাকায় যান চলাচল আরও স্বাভাবিক হবে বলে ট্রাফিক পুলিশ আশা করছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

ঢাকার সড়কে নজরদারি বাড়াতে বসছে ১ হাজার ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ ক্যামেরা

আপডেট: ০৫:২০:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

রাজধানীর সড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ প্রযুক্তির এক হাজার ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। ইতোমধ্যে ৩০০ ফিট (পূর্বাচল) সড়কে এসব ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ট্রাফিক ডাইভারশন পরিদর্শনকালে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আনিছুর রহমান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ধাপে ধাপে এসব ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক) ক্যামেরার তুলনায় ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ ক্যামেরার খরচ কম হওয়ায় সীমিত বাজেটের মধ্যেই দ্রুত বেশি এলাকা নজরদারির আওতায় আনতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আনিছুর রহমান জানান, এসব ক্যামেরায় থাকা মেমোরি কার্ডে সরাসরি ভিডিও ধারণ করা হবে। পরে সেই ফুটেজ পর্যালোচনা করে ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে রাজধানীর ১৬টি পয়েন্টে ৩৭টি এআই ক্যামেরা কার্যকর রয়েছে এবং সেগুলো নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে।

সেমি-অটোমেটিক ট্রাফিক সিগন্যাল সম্পর্কে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, বর্তমানে ১৩টি সিগন্যালে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। তবে যান্ত্রিক ত্রুটি, ভারী বৃষ্টি কিংবা অন্যান্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে সব সময় সেগুলো সচল রাখা সম্ভব হয় না।

তিনি জানান, নির্দেশনা অনুযায়ী খুব শিগগিরই ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার আরও ৫০টি ট্রাফিক সিগন্যাল চালুর প্রস্তুতি চলছে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রস্তুত হলেই সেগুলো চালু করা হবে।

সড়কে শব্দদূষণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মো. আনিছুর রহমান। তিনি বলেন, অনেক সময় যানজট না থাকলেও অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন যানবাহন অপ্রয়োজনে হুটার বাজায়। অতিরিক্ত শব্দদূষণ ট্রাফিক সদস্যদের শ্রবণশক্তি, মানসিক স্বাস্থ্য ও শারীরিক সুস্থতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

তিনি বলেন, অবৈধ হুটার, হাইড্রোলিক হর্ন ও অবৈধ লাইট ব্যবহারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যানজট কমাতে ধানমন্ডি থেকে বসিলাগামী সড়কের একটি আইল্যান্ড অপসারণ করা হয়। এর ফলে তিনটি সিগনালের পরিবর্তে দুটি সিগনাল রাখা হয়েছে।

ট্রাফিক পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিনের যানজট কমাতে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় ধানমন্ডির পশ্চিম দিক থেকে আসা যানবাহন আর মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে ডান দিকে মোড় নিতে পারবে না। তারা ময়ূর ভিলার সামনে ইউ-টার্ন নিয়ে আসাদ গেট এলাকায় প্রবেশ করবে।

তিনি বলেন, একটি সিগন্যাল কমে যাওয়ায় যানবাহনের অপেক্ষার সময় কমবে এবং ওই এলাকায় যান চলাচল আরও স্বাভাবিক হবে বলে ট্রাফিক পুলিশ আশা করছে।