০২:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬

জুলাইযোদ্ধাদের শ্রদ্ধায় ‘একাত্তর থেকে চব্বিশ:সমরে-সগর্বে শহীদ জিয়া’ শীর্ষক সেমিনার

  • আপডেট: ১২:৩৩:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৮০০৭

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ট্রাফিক এন্ড ড্রাউভিং স্কুলে মাসব্যাপী সেমিনারের শেষ প্রোগ্রাম হিসাবে “একাত্তর থেকে চব্বিশঃ সমরে-সগর্বে শহীদ জিয়া” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) টিডিএস ৩৭তম পুলিশ সার্জেন্টদের নবায়ন কোর্স মিলনায়তনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে টিডিএস প্রশিক্ষণ প্রধান অ্যাডিশনাল ডিআইজি মোহাম্মদ আব্দুল হালিম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি এই সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক।

জুলাই গণআন্দোলনে আত্মোৎসর্গকারীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, এদেশে সর্ব প্রথম শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বৈষম্য এর বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। ১৯৭৫ পরবর্তী সময় তিনি দেশের হাল না ধরলে দেশ আজো অন্ধকারে নিমোজ্জিত থাকত। তারই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ জুলাই এদেশের ছাত্র-জনতা ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন এবং অনেকে শহীদ ও আহত হয়েছেন। এই আন্দোলনের সময় আমরা জানতাম না ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন হবে কি না। দেশে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের বিষয়টি একাডেমিক পর্যায়ে আলোচনার জন্য পুলিশের সব প্রতিষ্ঠানকে এক হওয়া দরকার। আমরা পুলিশ এই দেশের নাগরিক, আমরা সমাজ ও সব ধরনের প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে সবার আগে বাংলাদেশ গড়তে এগিয়ে যেতে চাই।

মূল প্রবন্ধে তিনি আরো বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে প্রায় দেড় দশকের এক ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। এটি শুধু একটি সরকারের পতনের বার্ষিকী নয়, বরং একটি জাতির গণতান্ত্রিক চেতনার পুনর্জাগরণের বার্ষিকী। বাংলাদেশের ইতিহাসে জনগণ বারবার সাহস, ঐক্য এবং গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রমাণ দিয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান ও ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন এই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতারই একটি অংশ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল একটি অনিবার্য এক রাজনৈতিক বিস্ফোরণ। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের শাসন ছিল এক কেন্দ্রীভূত কর্তৃত্ববাদী শাসনের দৃষ্টান্ত। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে ব্যতিক্রমী এক সামাজিক ও রাজনৈতিক অভ্যুত্থানের উদাহরণ হয়ে থাকবে। যুব নেতৃত্ব এই আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি ছিল। জন আকাঙক্ষা পূরণের জন্য রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলা, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা দূর করা, অর্থনৈতিক ন্যায্যতা ও নীতি সংস্কার, নাগরিক আস্থা পুনর্গঠন এবং গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার উপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে বাংলাদেশ পুলিশের প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলো অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

এই সময় পুলিশ সার্জেন্ট ৩৭তম নবায়ন সার্টিফিকেট কোর্সের প্রশিক্ষাণার্থীবৃন্দ, প্রশিক্ষণ শাখার সকল কর্মকর্তা ও সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

জুলাইযোদ্ধাদের শ্রদ্ধায় ‘একাত্তর থেকে চব্বিশ:সমরে-সগর্বে শহীদ জিয়া’ শীর্ষক সেমিনার

আপডেট: ১২:৩৩:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ট্রাফিক এন্ড ড্রাউভিং স্কুলে মাসব্যাপী সেমিনারের শেষ প্রোগ্রাম হিসাবে “একাত্তর থেকে চব্বিশঃ সমরে-সগর্বে শহীদ জিয়া” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) টিডিএস ৩৭তম পুলিশ সার্জেন্টদের নবায়ন কোর্স মিলনায়তনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে টিডিএস প্রশিক্ষণ প্রধান অ্যাডিশনাল ডিআইজি মোহাম্মদ আব্দুল হালিম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি এই সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক।

জুলাই গণআন্দোলনে আত্মোৎসর্গকারীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, এদেশে সর্ব প্রথম শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বৈষম্য এর বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। ১৯৭৫ পরবর্তী সময় তিনি দেশের হাল না ধরলে দেশ আজো অন্ধকারে নিমোজ্জিত থাকত। তারই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ জুলাই এদেশের ছাত্র-জনতা ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন এবং অনেকে শহীদ ও আহত হয়েছেন। এই আন্দোলনের সময় আমরা জানতাম না ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন হবে কি না। দেশে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের বিষয়টি একাডেমিক পর্যায়ে আলোচনার জন্য পুলিশের সব প্রতিষ্ঠানকে এক হওয়া দরকার। আমরা পুলিশ এই দেশের নাগরিক, আমরা সমাজ ও সব ধরনের প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে সবার আগে বাংলাদেশ গড়তে এগিয়ে যেতে চাই।

মূল প্রবন্ধে তিনি আরো বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে প্রায় দেড় দশকের এক ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। এটি শুধু একটি সরকারের পতনের বার্ষিকী নয়, বরং একটি জাতির গণতান্ত্রিক চেতনার পুনর্জাগরণের বার্ষিকী। বাংলাদেশের ইতিহাসে জনগণ বারবার সাহস, ঐক্য এবং গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রমাণ দিয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান ও ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন এই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতারই একটি অংশ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল একটি অনিবার্য এক রাজনৈতিক বিস্ফোরণ। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের শাসন ছিল এক কেন্দ্রীভূত কর্তৃত্ববাদী শাসনের দৃষ্টান্ত। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে ব্যতিক্রমী এক সামাজিক ও রাজনৈতিক অভ্যুত্থানের উদাহরণ হয়ে থাকবে। যুব নেতৃত্ব এই আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি ছিল। জন আকাঙক্ষা পূরণের জন্য রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলা, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা দূর করা, অর্থনৈতিক ন্যায্যতা ও নীতি সংস্কার, নাগরিক আস্থা পুনর্গঠন এবং গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার উপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে বাংলাদেশ পুলিশের প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলো অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

এই সময় পুলিশ সার্জেন্ট ৩৭তম নবায়ন সার্টিফিকেট কোর্সের প্রশিক্ষাণার্থীবৃন্দ, প্রশিক্ষণ শাখার সকল কর্মকর্তা ও সদস্য উপস্থিত ছিলেন।