০৫:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬

সাভার মডেল থানার নতুন ওসি সাইফুল ঘিরে বিতর্ক, অতীত নিয়ে নানা অভিযোগ

  • আপডেট: ০৩:৩১:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৮০০৩

নিজস্ব প্রতিবেদক,সোনালী খবর

ঢাকা জেলার সাভার মডেল থানার নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলমকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে নেতিবাচক আলোচনা শুরু হয়েছে। তার অতীত দায়িত্ব পালনের সময় রাজনৈতিক হয়রানি, গ্রেফতার বাণিজ্য ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন স্থানীয় নেতা। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাইফুল আলম।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ঢাকা জেলা পুলিশ সাইফুল আলমকে সাভার মডেল থানার ওসি হিসেবে বদলি করা হয়েছে। এর আগে তিনি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা, টঙ্গীবাড়ী থানা এবং মেহেরপুর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)সহ বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করেন।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, চব্বিশের ৫ আগস্ট জুলাই আন্দোলনের সময় সাইফুল আলম মেহেরপুর জেলার ডিবির ওসি ছিলেন। বিএনপি- জামায়াত নেতাকর্মীদের অভিযোগ, সাইফুল আলম ছিলেন জেলাজুড়ে ভয়ংকর আতঙ্ক।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন ও স্ত্রী মোনালিছার নির্দেশে জুলাই আন্দোলনে বিএনপি-জামাত নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার, হয়রানি ও গ্রেপ্তার বাণিজ্যের নায়ক ছিলেন সাইফুল আলম। শুধু তাই নয়, ওই সময়ে সাবেক জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের স্ত্রী মোনালিসা ইসলামকে কেন্দ্র করে পরিচালিত একটি অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্কের কার্যক্রম পরিচালনা হতো। সেই কার্যক্রমেও সাইফুল আলমের সংশ্লিষ্টতা ছিল।

মেহেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হুসাইন অভিযোগ করেন, ডিবির ওসি থাকাকালে সাইফুল আলমের নেতৃত্বে তাদের দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হয়রানি ও গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে। জুলাই আন্দোলনের সময় কয়েকজন নেতাকর্মীকে আটকে রেখে অর্থ আদায়েরও অভিযোগ করেন তিনি।

মেহেরপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান দাবি করেন, ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত ডিবির ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তৎকালীন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের পরিবারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে সাইফুল আলম কাজ করতেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হয়নি।

মেহেরপুর জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও মুজিবনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আমিরুল ইসলামও সাইফুল আলমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তোলেন।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাইফুল আলম। তিনি বলেন, সব অভিযোগই মিথ্যা। আমি প্রায় ১৭ মাস মেহেরপুর ডিবিতে দায়িত্ব পালন করেছি। কাউকে হয়রানি করিনি।

এ বিষয়ে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

সাভার মডেল থানার নতুন ওসি সাইফুল ঘিরে বিতর্ক, অতীত নিয়ে নানা অভিযোগ

আপডেট: ০৩:৩১:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,সোনালী খবর

ঢাকা জেলার সাভার মডেল থানার নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলমকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে নেতিবাচক আলোচনা শুরু হয়েছে। তার অতীত দায়িত্ব পালনের সময় রাজনৈতিক হয়রানি, গ্রেফতার বাণিজ্য ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন স্থানীয় নেতা। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাইফুল আলম।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ঢাকা জেলা পুলিশ সাইফুল আলমকে সাভার মডেল থানার ওসি হিসেবে বদলি করা হয়েছে। এর আগে তিনি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা, টঙ্গীবাড়ী থানা এবং মেহেরপুর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)সহ বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করেন।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, চব্বিশের ৫ আগস্ট জুলাই আন্দোলনের সময় সাইফুল আলম মেহেরপুর জেলার ডিবির ওসি ছিলেন। বিএনপি- জামায়াত নেতাকর্মীদের অভিযোগ, সাইফুল আলম ছিলেন জেলাজুড়ে ভয়ংকর আতঙ্ক।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন ও স্ত্রী মোনালিছার নির্দেশে জুলাই আন্দোলনে বিএনপি-জামাত নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার, হয়রানি ও গ্রেপ্তার বাণিজ্যের নায়ক ছিলেন সাইফুল আলম। শুধু তাই নয়, ওই সময়ে সাবেক জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের স্ত্রী মোনালিসা ইসলামকে কেন্দ্র করে পরিচালিত একটি অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্কের কার্যক্রম পরিচালনা হতো। সেই কার্যক্রমেও সাইফুল আলমের সংশ্লিষ্টতা ছিল।

মেহেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হুসাইন অভিযোগ করেন, ডিবির ওসি থাকাকালে সাইফুল আলমের নেতৃত্বে তাদের দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হয়রানি ও গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে। জুলাই আন্দোলনের সময় কয়েকজন নেতাকর্মীকে আটকে রেখে অর্থ আদায়েরও অভিযোগ করেন তিনি।

মেহেরপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান দাবি করেন, ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত ডিবির ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তৎকালীন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের পরিবারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে সাইফুল আলম কাজ করতেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হয়নি।

মেহেরপুর জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও মুজিবনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আমিরুল ইসলামও সাইফুল আলমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তোলেন।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাইফুল আলম। তিনি বলেন, সব অভিযোগই মিথ্যা। আমি প্রায় ১৭ মাস মেহেরপুর ডিবিতে দায়িত্ব পালন করেছি। কাউকে হয়রানি করিনি।

এ বিষয়ে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।