মিঠাপুকুরের পিআইও মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ ও শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ
- আপডেট: ০২:৩২:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৮০০৪
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
আওয়ামীলীগ এর দোষর ও অর্থ যোগানদাতা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) উপজেলা- মিঠাপুকুর, জেলা- রংপুর এর মনিরুজ্জামান সরকার, প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করে অল্প দিনেই শত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন।
তার এসব অবৈধ উপার্জনের বিষয়ের তদন্ত চেয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন জাফর আহম্মেদ নামের এক ব্যক্তি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায় যে,মনিরুজ্জামান সরকার, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও), উপজেলা- মিঠাপুকুর, জেলা: রংপুর-এ কর্মরত আছেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে চাকরি করে স্ত্রী ও নিজের নামে ঢাকা, রংপুর ও কুড়িগ্রামে গড়ে তুলেছেন একাধিক বাড়ি, ফ্ল্যাট, প্লট, গাড়িসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। চারটি ব্যাংকে মিলেছে কোটি কোটি টাকা লেনদেন। তিনি মনিরুজ্জামান সরকার, রংপুর মিঠাপুকুর উপজেলার অষ্টম গ্রেডের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও)। ২০১১ সালের ৭ জুলাই ঠাকুরগাঁওয়ের বোদাগঞ্জ উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) হিসেবে অ্যাডহক ভিত্তিতে যোগদান করেন মনিরুজ্জামান সরকার।
যোগদানের ছয় মাস পর স্থায়ীভাবে পিআইও পদে নিয়োগ পেয়ে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় বদলি হন। কাহারোলে দায়িত্ব পালনের সময় থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে জড়িয়ে পড়েন। এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। মাত্র ১৫ বছরের চাকরি জীবনে তার বৈধ আয় প্রায় ৯০ লাখ টাকা হলেও, এনপিবি নিউজের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে-দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি শতকোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন।
১) ২০২৫ সালে ডিসেম্বর মাসে অ্যাসোসিয়েটেড বিল্ডার্স করপোরেশন লিমিটেডের কাছ থেকে বাসা নং- ২৮ (এবিসি হোমস), মিল্ক ভিটা রোড, সেকশন-৭, রূপনগর, মিরপুর, ঢাকায় ৬ষ্ঠ তলার উত্তর পূর্ব দিকের ১৪৫০ বর্গফুট আয়তনের ফ্ল্যাট ও নিচতলার ১২০ বর্গফুটের একটি কারপার্কিং সহ ফ্ল্যাট কিনেছেন। যার দলিল নম্বর- ১১৬১২, তারিখ- ১৮/১২/২০২৫ইং, খতিয়ান নং- ২০২৬-১০০৭৩৮, জেলা- ঢাকা, মোহাম্মদপুর সার্কেল, মৌজা- উত্তর সেনপাড়া পবর্তা, বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা।
২) রংপুর নগরীর রাধাবল্লভ এলাকায় ‘জান্নাত’ বাসা- ৫২, রোড- ০৭, রাধাবল্লভ রংপুর তিনতলা আলিশান বাড়ি করেছেন। যার বর্তমান বাজার মূল্য ৫ কোটি টাকা।
৩) রংপুর সদরের কলেজ রোডে মুনিবা ছাত্রাবাস নামে ৩ তলা একটি আবাসিক হোস্টেল রয়েছে। যার বাজারমূল্য ৩ কোটি টাকা।
৪) রংপুর মহানগর সার্কেল বিনোদপুর মৌজায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ জমি রয়েছে। যার খতিয়ান নম্বর ১০১, দলিল নং-৩৭১১, বাজারমূল্য ৬০ লাখ টাকা।
৫) রংপুর মহানগর সার্কেল আলমনগর মৌজায় ৬ শতাংশ একটি প্লট রয়েছে। যার খতিয়ান নম্বর-১৬৬০০, দলিল নং ৩৭১২/২০১৮, তারিখ- ০১/০৩/২০১৮ইং। এ সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য ১ কোটি টাকা।
৬) কুড়িগ্রামের চিলমারীতে মাচাবান্দ মৌজায় ১৮ ও ৪৬ সর্বমোট ৬২ শতাংশ জমি রয়েছে। যার খতিয়ান নম্বর-২২৪৩ দলিল নং-৫৩০, ৫৪৫, ১৯৮২। এ জমির বাজারমূল্য ৩০ লাখ টাকা।
৭) কুড়িগ্রাম উলিপুর উপজেলায় উলিপুর মৌজায় ৩ শতাংশ জমি রয়েছে। যার খতিয়ান নম্বত-১২৩৮ দলিল নং-১৬০১,২৬০৩, বাজার মূল্য ১০ লাখ টাকা।
৮) স্ত্রী আরফাতুন নাহারের নামে কুড়িগ্রাম উলিপুর উপজেলায় সিদ্ধান্ত মালতী বাড়ির মৌজায় ১৩ শতাংশ জমি রয়েছে। খতিয়ান নাম্বার-২০১৬-১০০০০৭ দলিল নং-৪০৮১/১৫। যার বাজারমূল্য ৩০ লাখ টাকা।
৯) স্ত্রী আরফাতুন নাহার এর নামে রংপুর বিনোদপুর মৌজায় ৭ শতাংশ একটি প্লট রয়েছে। যার খতিয়ান নম্বর-১০৭১। যার বাজারমূল্য ৫০ লাখ টাকা।
১০) নিজ এলাকায় আদর্শ গ্রাম ৩ নং থানাহাট ইউনিয়ন, মাচাবান্দা, চিলমারী কুড়িগ্রামে দোতলা বাড়ি করেছেন।
১১) এছাড়াও কুড়িগ্রাম শাপলা চত্বরে বাবর টাওয়ারের নিচ তলায় মনিরুজ্জামান কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বিশাল ফার্মেসি প্রতিষ্ঠা করেছেন। এর বাইরেও কিনেছেন ৬টি মাইক্রোবাস যেগুলো বিভিন্ন রেন্ট-এ-কারের মাধ্যমে ভাড়ায় চলে। নিজে ব্যবহার করেন অর্ধকোটি টাকার গাড়ি।
১২) অভিযোগ রয়েছে। এর বাইরেও নামে, বেনামে ঢাকা, রংপুর ও কুড়িগ্রামে আরো বেশ কিছু সম্পদের রয়েছে তারা। এ বিষয়ে অনুসন্ধান চলমান।
১৩) এনপিবি নিউজের অনুসন্ধানে জানা যায়, মনিরুজ্জামান সরকার কাহারোল উপজেলায় যোগদানের পর বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মে জড়িয়ে পরেন। দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে বিগত সরকারের এমপি মনোরঞ্জনশীল গোপালের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীতে ওই এমপি নিজের সুপারিশের মাধ্যমে তাকে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় বদলি করেন।
১৪) নবাবগঞ্জ উপজেলায় ২০১৪-১৬ সালে ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ১০ কোটি টাকার টিআর ও কাবিখার বিশেষ প্রকল্প নিয়ে আসেন। যার অধিকাংশ অথই তিনি আত্মসাৎ করেন। তবে বিষয়টি জানাজানি হলে প্রকল্পের কিছু কাজ তিনি সম্পন্ন করেন। সেই সময়ে এসব দুর্নীতির বিষয়ে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় বগুড়ার দুদকের এক কর্মকর্তাকে। দুদকের সেই কর্মকর্তাকেও ম্যানেজ করে বিষয়টি ধামাচাপা দেন মনিরুজ্জামান।
১৫) বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরি মায়ার সুপারিশে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে প্রবেশ করেন মনিরুজ্জামান। এরপর তৎকালীন ডিজির সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে তার। ডিজির মাধ্যমে পিআইওদের বদলি বাণিজ্য সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন এবং সারা দেশের পিআইওদের বদলি বাণিজা করে ওই সময়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন মনিরুজ্জামান সরকার।
১৬) অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে শুকুরেরগ্রট ডিগ্রি কলেজের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল টিল্ডারের ৩ লাখ টাকা। প্রকল্পের চেয়ারম্যান ছিলেন সহকারী শ্রষ্যালক শওকত হোসেন। তাকে দুই দফায় ৩ লাখ টাকার কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল, বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেছিলেন শওকত হোসেন।
১৭) বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন ওই প্রকল্পের চেয়ারম্যান সহকারী শিক্ষক আবদুল কাইয়ুম।
১৮) ঠাকুরবাড়ি বাজার হতে পূর্ব জামে মসজিদের মাঠে মাটি ভরাটের জন্য ৪ লাখ ৬২ হাজার টাকা, দুর্গাপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে মাটি ভরাট ও উন্নয়নের জন্য কাবিখা ও কাবিটার তিন দফায় ২০ টন ১৭৪ কেজি গম এবং ২ লাখ টাকা, বড়বালা ইউনিয়নের তাজুলের বাড়ি হতে খালেকের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের জন্য ৩ লাখ ৫ হাজার, রানীপুকুরের বুজরুক নূরপুর বাড়ি হতে মনজুর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা ভরাটের জন্য ৩ লাখ, ইমাদপুর ইউনিয়নে মসজিদপাড়া পাকা রাস্তা হতে চড়পাড়াগামী রাস্তা সংস্কারের জন্য ৫ লাখ, বড়বালা ইউনিয়নের রতনের বাড়ি হতে মাঝিপাড়া ঘাট পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের জন্য ৫ লাখ, উপজেলা পরিষদ রাস্তা নির্মাণের জন্য ৪ লাখ টাকা এবং উপজেলা পরিষদ মাঠে মাটি ভরাটের জন্য ১৩ টন গম বরাদ্দসহ অন্তত আরও ৩০টি প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে ভুয়া বিল ভাউচার করে অর্থ হরিলুট করেছিলেন।
১৯) এনপিবি নিউজের অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, মনিরুজ্জামান তৎকালীন নিজ অফিস খরচের কথা বলে সাবেক এমপির কাছ থেকে টিআর ও কাবিটার ১৪ লাখ টাকা এবং কাবিখার ১৩ টন গম বরাদ্দ নেন। যার কাজ দেখানো হয়েছে উপজেলা পরিষদের সংলগ্ন রাস্তা নির্মাণ ৪ লাখ টাকা, ইমাদপুর ইউনিয়নের মসজিদপাড়া পাকা রাস্তা হতে চড়পাড়াগামী রাস্তা সংস্কার ৫ লাখ, বড়বালা ইউনিয়নের রতনের বাড়ি হতে মাঝিপাড়া ঘাট পর্যন্ত রাস্তা। সংস্কার ৫ লাখ এবং উপজেলা পরিষদ মাঠে মাটি ভরাট ১৩ টন গম।
এসব প্রকল্পের চেয়ারম্যান করা হয় সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান এবং ইউপি সদস্যদের। তবে এসব কাজ না করে চেয়ারম্যান মেম্বারদের মাধ্যমে প্রকল্পের টাকা তুলে নিয়েছিলেন পিআইও। যদিও জনপ্রতিনিধিদের দাবি ছিল, তারা প্রকল্পের টাকা ব্যাংক থেকে তোলার বিষয়ে কিছুই জানতেন না।
২০২২-২৩ অর্থবছরে পিগ্রাইওর কার্যালয়ে উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ৩ লাখ ২২ হাজার এবং গেল অর্থবছরে একই কাজের জন্য তিন দফায় বরাদ্দ বাড়িয়ে হয় ৭ লাখ ৫৬ কাজেই করেননি। ওই স্টাফ আরও জানিয়েছিল, পিআইও টিআর প্রকল্প থেকে দুই দফায় কমপিউটার সেট কেনার জন্য ১ লাখ ৯৬ হাজার ৪৯৭ টাকা বরাদ্দ নিয়ে আত্মসাৎ করেছিলেন মনিরুজ্জামান। তবে এর এক মাস আগে মন্ত্রণালয় থেকে কমপিউটার সেট কেনার জন্য ১ লাখ টাকা বরাদ্দ নিয়ে এসেছিলেন, তবে সেটাও ছিল অদৃশ্য।
এছাড়াও অভিযোগ, ব্রিজ নির্মাণ, টিআর ও কাবিটা প্রকল্পের কাজ কাগজে-কলমে শতভাগ দেখিয়ে বিল পাস করে ট্রেজারি অফিসের মাধ্যমে পিআইও মনিরুজ্জামান সরকার নিজের ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এন আরবিসি ব্যাংকের মিঠাপুকুর শাখায় প্রায় ৩ কোটি টাকা রেখেছিলেন। সেই ঘটনায় তৎকালীন সময়ে রংপুরসহ সারা দেশের তোলপাড় সৃষ্টি হয়, তুমুল বিতর্কের পরে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে চেয়ারম্যানদের দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই প্রকল্পের ১০ থেকে ২০ শতাংশ কাজ বাস্তবায়ন না করে টাকা ছাড় দিয়েছিলেন কোন এক অজানা কারণে।
বিগত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ও জেলার ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোতাহার হোসেনের সঙ্গে মিলেমিশে ভাগবাঁটোয়ারা করে খেতেন প্রকল্পের বিভিন্ন অর্থ, মনিরুজ্জামান সরকারের বিরুদ্ধে অধিকাংশ অভিযোামাল দিতেন মোতাহার হোসেন।
এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, পিআইও মনিরুজ্জামান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের এপিডি’র দায়িত্ব পালনকালে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা কামিয়েছেন।
আর এই সব অবৈধ সম্পদ বৈধ করার জন্য নামমাত্র লোন নিয়েছে ব্যাংক থেকে, মনিরুজ্জামান সরকার ও স্ত্রীর আরফাতুন নাহার নামে বেশ কয়েকটি ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য এনআরবি ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক।
এসব বিষয়ে জানতে ফোনকল করা হলে মনিরুজ্জামান এনপিবি নিউজকে বলেন, আমার সম্পদসহ সকল বিষয়ে আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আমি অবগত করেছি, এ বিষয়ে নতুন করে কিছু বলতে চাচ্ছি না। খতিয়ে দেখার তাগিদ টিআইবির
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) পরিচালক (আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, কারও আয়ের সাথে যদি অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ থাকে, এ বিষয়গুলো দুদক বা এ ধরণের এজেন্সি খতিয়ে দেখতে পারে। যদি তদন্তে বেরিয়ে আসে তার আয়ের সঙ্গে অর্জিত সম্পদের মিল নেই, তাহলে তাকে অবশ্যই সম্পদ কিভাবে অর্জন করলেন এই ব্যাখ্যা দিতে হবে। এটাই স্বচ্ছতা। উল্লেখ্য যে, তিনি আওয়ামীলীগ এর আমলে সাবেক দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী মায়াকে ম্যানেজ করে তার সমস্ত অবৈধ কর্মকান্ডকে বৈধ করেছেন। মনিরুজ্জামান মূলত ছাত্রলীগ এর ক্যাডার হওয়ায় তার চাকুরী ২০১১ইং সালে দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ে চাকুরীতে যোগদান করেন সেই কোটায়। তিনি এখন আওয়ামীলীগ এর সাবেক এমপি, মন্ত্রীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে নিয়মিত অর্থ পাঠিয়ে যাচ্ছেন।
মনিরুজ্জামান বর্তমান সরকারকে বিপদগ্রস্থ করার জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বর্তমান দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে বিভিন্ন প্রকার অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন নিয়মিত। তার সহযোগী সোহেল তার ঘুষের টাকা নিয়মিত গ্রহণ করে থাকেন মিঠাপুকুর উপজেলায়। সোহের এর ইশারা ছাড়া মনিরুজ্জামান কোন ফাইলে স্বাক্ষর করেন না। তার অবৈধ সম্পদ এর বিষয়ে সাংবাদিকগণ অনুসন্ধান করতে গেলে তিনি সাংবাদিকদের চাঁদাবাজ, মাস্তান, সন্ত্রাসী দ্বারা ভয়ভীতি দেখিয়ে তার বিষয়ে অনুসন্ধান বন্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং হত্যার হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। মনিরুজ্জামান ও তার পরিবারে অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানকালে যদি কোন সাংবাদিকের ক্ষতি বা হত্যা করা হয় তাহলে তার জন্য মনিরুজ্জামান ও তার পরিবারের সদস্যগণ দায়ী থাকিবে। বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা খুবই জরুরী।
এ বিষয়ে মনিরুজ্জামান ও তার পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যথাযথভাবে তুলে ধরা হবে।



















