১১:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিমানবন্দরে দর্শনার্থীকে টেনে নেওয়ার ভিডিও নিয়ে আনসারের ব্যাখ্যা

  • আপডেট: ০৯:৩১:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৮০০৪

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক দর্শনার্থীকে আনসার সদস্যদের টেনে-হিঁচড়ে টার্মিনালের ভেতরে নেওয়ার ভিডিও নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। বাহিনীটি বলছে, নিষিদ্ধ এলাকায় অবস্থান ও নিরাপত্তাকর্মীদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার কারণে ওই ব্যক্তিকে নির্ধারিত স্থানে নেওয়া হয়েছিল।

আজ শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি করেছে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১ সেপ্টেম্বর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ক্যানোপি-২ এলাকায় এক যাত্রীর স্বজন আগমনী গেটের পাশের নিষিদ্ধ স্থানে অবস্থান করছিলেন। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাধারণ যাত্রী ও স্বজনদের ওই এলাকায় অবস্থান নিষিদ্ধ। এ কারণে কর্তব্যরত আনসার সদস্যরা ওই ব্যক্তিকে সেখান থেকে সরে যেতে একাধিকবার অনুরোধ ও নির্দেশনা দেন।

তবে তিনি নিরাপত্তা নির্দেশনা উপেক্ষা করে সেখানে অবস্থান করতে থাকেন এবং আগমনী গেটের ভেতরে বারবার উঁকিঝুঁকি দিতে থাকেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। পরে আনসার সদস্যরা তাঁকে সরে যেতে বললে তিনি দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের সঙ্গে ঠাট্টা-বিদ্রুপ, অশোভন মন্তব্য, গালাগালি ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে দাবি করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিষয়টি অ্যাভসেকের (এভিয়েশন সিকিউরিটি) এক করপোরালের নজরে এলে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই ব্যক্তিকে নিষিদ্ধ এলাকায় অবস্থান না করার নির্দেশ দেন। এ সময় ওই ব্যক্তির সঙ্গে করপোরালের বাকবিতণ্ডা হয়। পরে অ্যাভসেকের ওই কর্মকর্তা কর্তব্যরত আনসার সদস্যদের ওই ব্যক্তিকে আগমনী গেটের ভেতরে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।

আনসার বাহিনীর ভাষ্য, অ্যাভসেক কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ীই আনসার সদস্যরা ওই ব্যক্তিকে আগমনী গেটের অভ্যন্তরে নিয়ে যান। তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থাপনায় নিরাপত্তা বিধি ও প্রবেশ-নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখা নিরাপত্তাকর্মীদের নিয়মিত দায়িত্বের অংশ। নিষিদ্ধ এলাকায় কেউ অবস্থান করলে তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

আনসার বাহিনী দাবি করেছে, ওই ঘটনায় সদস্যরা নিজেদের উদ্যোগে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেননি। অ্যাভসেক কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব পালন করেছেন তাঁরা।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘আনসার সদস্যদের সঙ্গে খারাপ আচরণ, টেনে-হিঁচড়ে টার্মিনালের ভেতরে নেওয়া হলো দর্শনার্থীকে’ শিরোনামে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। আনসার বাহিনীর দাবি, সংক্ষিপ্ত ভিডিও বা একপাক্ষিক ক্যাপশনের মাধ্যমে ঘটনাটি উপস্থাপন করায় প্রকৃত ঘটনা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে তথ্য প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

বিমানবন্দরে দর্শনার্থীকে টেনে নেওয়ার ভিডিও নিয়ে আনসারের ব্যাখ্যা

আপডেট: ০৯:৩১:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক দর্শনার্থীকে আনসার সদস্যদের টেনে-হিঁচড়ে টার্মিনালের ভেতরে নেওয়ার ভিডিও নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। বাহিনীটি বলছে, নিষিদ্ধ এলাকায় অবস্থান ও নিরাপত্তাকর্মীদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার কারণে ওই ব্যক্তিকে নির্ধারিত স্থানে নেওয়া হয়েছিল।

আজ শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি করেছে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১ সেপ্টেম্বর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ক্যানোপি-২ এলাকায় এক যাত্রীর স্বজন আগমনী গেটের পাশের নিষিদ্ধ স্থানে অবস্থান করছিলেন। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাধারণ যাত্রী ও স্বজনদের ওই এলাকায় অবস্থান নিষিদ্ধ। এ কারণে কর্তব্যরত আনসার সদস্যরা ওই ব্যক্তিকে সেখান থেকে সরে যেতে একাধিকবার অনুরোধ ও নির্দেশনা দেন।

তবে তিনি নিরাপত্তা নির্দেশনা উপেক্ষা করে সেখানে অবস্থান করতে থাকেন এবং আগমনী গেটের ভেতরে বারবার উঁকিঝুঁকি দিতে থাকেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। পরে আনসার সদস্যরা তাঁকে সরে যেতে বললে তিনি দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের সঙ্গে ঠাট্টা-বিদ্রুপ, অশোভন মন্তব্য, গালাগালি ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে দাবি করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিষয়টি অ্যাভসেকের (এভিয়েশন সিকিউরিটি) এক করপোরালের নজরে এলে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই ব্যক্তিকে নিষিদ্ধ এলাকায় অবস্থান না করার নির্দেশ দেন। এ সময় ওই ব্যক্তির সঙ্গে করপোরালের বাকবিতণ্ডা হয়। পরে অ্যাভসেকের ওই কর্মকর্তা কর্তব্যরত আনসার সদস্যদের ওই ব্যক্তিকে আগমনী গেটের ভেতরে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।

আনসার বাহিনীর ভাষ্য, অ্যাভসেক কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ীই আনসার সদস্যরা ওই ব্যক্তিকে আগমনী গেটের অভ্যন্তরে নিয়ে যান। তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থাপনায় নিরাপত্তা বিধি ও প্রবেশ-নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখা নিরাপত্তাকর্মীদের নিয়মিত দায়িত্বের অংশ। নিষিদ্ধ এলাকায় কেউ অবস্থান করলে তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

আনসার বাহিনী দাবি করেছে, ওই ঘটনায় সদস্যরা নিজেদের উদ্যোগে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেননি। অ্যাভসেক কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব পালন করেছেন তাঁরা।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘আনসার সদস্যদের সঙ্গে খারাপ আচরণ, টেনে-হিঁচড়ে টার্মিনালের ভেতরে নেওয়া হলো দর্শনার্থীকে’ শিরোনামে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। আনসার বাহিনীর দাবি, সংক্ষিপ্ত ভিডিও বা একপাক্ষিক ক্যাপশনের মাধ্যমে ঘটনাটি উপস্থাপন করায় প্রকৃত ঘটনা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে তথ্য প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।