১০:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কারারক্ষী ও আইনজীবীর পরিচয়ে প্রতারণা,গ্রেফতার ২

  • আপডেট: ০৫:৩২:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৮০০৮

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

কারারক্ষী ও আইনজীবীর পরিচয় দিয়ে আসামির স্বজনদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন মো. আব্দুস সালাম (৪৯) ও মো. সুরুজ (২৬)। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে গাজীপুরের কালীগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত তিনটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানান।

ডিবির বরাত দিয়ে আকতার হোসেন বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তিরা পরস্পরের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ওয়েবসাইট থেকে বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করতেন। পরে তাঁদের ফোন করে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিভিন্ন মামলার আসামিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতেন।

এরপর আসামিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের একজন নিজেকে ‘সাইফুল’ নামে কাশিমপুর কারাগারের প্রধান ফটকের কারারক্ষী হিসেবে পরিচয় দিতেন। পরিবারের সদস্যদের বলা হতো, তাঁদের স্বজনের জামিন নির্ধারিত আইনজীবীর মাধ্যমে নয়, মানবাধিকার সংস্থার ‘সিরাজ’ নামের এক আইনজীবীর মাধ্যমে হয়েছে।

পরে আইনজীবী পরিচয়ে কথা বলার জন্য প্রতারণা চক্রের আরেক সদস্যের মুঠোফোন নম্বর দেওয়া হতো। ওই নম্বরে ফোন করলে নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দেওয়া ব্যক্তি জানাতেন, আসামির জামিন হয়ে গেছে। আদালতের অন্যান্য প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে হবে এবং তাঁর হাতে সময় কম।

ডিবি বলছে, এরপর ভুক্তভোগীদের কাছাকাছি কোনো দোকানের বিকাশের ব্যক্তিগত নম্বরে টাকা পাঠাতে বলা হতো। পরিবারের সদস্যরা টাকা পাঠানোর পর প্রতারকেরা তা তুলে নিয়ে মুঠোফোন বন্ধ করে দিতেন। পরে দ্রুত ওই এলাকা থেকে সরে যেতেন।

ডিবি সূত্র জানায়, গত ১ জুলাই হাতিরঝিল থানায় করা বিকাশ ও নগদ প্রতারণার একটি মামলা তদন্ত করতে গিয়ে এই চক্রের অভিনব প্রতারণার বিষয়টি সামনে আসে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের একটি দল কালীগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আব্দুস সালাম ও সুরুজকে গ্রেফতার করে।

ডিবি জানিয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণার মামলা রয়েছে। তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ উদ্ধারে অভিযান চলছে।

ডিবির পক্ষ থেকে অপরিচিত কারও পরিচয় নিশ্চিত না হয়ে আর্থিক লেনদেন না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অনলাইনে কারও পরিচয় নিয়ে সন্দেহ হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় পরিচয় নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোরও পরামর্শ দিয়েছে ডিবি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

কারারক্ষী ও আইনজীবীর পরিচয়ে প্রতারণা,গ্রেফতার ২

আপডেট: ০৫:৩২:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

কারারক্ষী ও আইনজীবীর পরিচয় দিয়ে আসামির স্বজনদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন মো. আব্দুস সালাম (৪৯) ও মো. সুরুজ (২৬)। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে গাজীপুরের কালীগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত তিনটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানান।

ডিবির বরাত দিয়ে আকতার হোসেন বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তিরা পরস্পরের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ওয়েবসাইট থেকে বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করতেন। পরে তাঁদের ফোন করে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিভিন্ন মামলার আসামিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতেন।

এরপর আসামিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের একজন নিজেকে ‘সাইফুল’ নামে কাশিমপুর কারাগারের প্রধান ফটকের কারারক্ষী হিসেবে পরিচয় দিতেন। পরিবারের সদস্যদের বলা হতো, তাঁদের স্বজনের জামিন নির্ধারিত আইনজীবীর মাধ্যমে নয়, মানবাধিকার সংস্থার ‘সিরাজ’ নামের এক আইনজীবীর মাধ্যমে হয়েছে।

পরে আইনজীবী পরিচয়ে কথা বলার জন্য প্রতারণা চক্রের আরেক সদস্যের মুঠোফোন নম্বর দেওয়া হতো। ওই নম্বরে ফোন করলে নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দেওয়া ব্যক্তি জানাতেন, আসামির জামিন হয়ে গেছে। আদালতের অন্যান্য প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে হবে এবং তাঁর হাতে সময় কম।

ডিবি বলছে, এরপর ভুক্তভোগীদের কাছাকাছি কোনো দোকানের বিকাশের ব্যক্তিগত নম্বরে টাকা পাঠাতে বলা হতো। পরিবারের সদস্যরা টাকা পাঠানোর পর প্রতারকেরা তা তুলে নিয়ে মুঠোফোন বন্ধ করে দিতেন। পরে দ্রুত ওই এলাকা থেকে সরে যেতেন।

ডিবি সূত্র জানায়, গত ১ জুলাই হাতিরঝিল থানায় করা বিকাশ ও নগদ প্রতারণার একটি মামলা তদন্ত করতে গিয়ে এই চক্রের অভিনব প্রতারণার বিষয়টি সামনে আসে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের একটি দল কালীগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আব্দুস সালাম ও সুরুজকে গ্রেফতার করে।

ডিবি জানিয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণার মামলা রয়েছে। তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ উদ্ধারে অভিযান চলছে।

ডিবির পক্ষ থেকে অপরিচিত কারও পরিচয় নিশ্চিত না হয়ে আর্থিক লেনদেন না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অনলাইনে কারও পরিচয় নিয়ে সন্দেহ হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় পরিচয় নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোরও পরামর্শ দিয়েছে ডিবি।