স্থানীয় সরকার নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ করতে পুলিশের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব নিশ্চিতের অঙ্গীকার আইজিপির
- আপডেট: ০৩:৩১:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৮০০৪
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ করতে পুলিশের সব পর্যায়ের সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠা নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের বাংলাদেশ পুলিশ অডিটরিয়ামে নির্বাচনী দায়িত্ব পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালনের লক্ষ্যে পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি–সংক্রান্ত দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আইজিপি বলেন, নির্বাচন পরিচালনার সাংবিধানিক দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। বাংলাদেশ পুলিশ নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা ও আইন অনুযায়ী নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, মিথ্যা তথ্য ও অপতথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা মোকাবিলায় পুলিশকে সচেষ্ট থাকতে হবে।
আইজিপি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, নির্বাচন কমিশনের দিকনির্দেশনা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতা এবং পুলিশের সব পর্যায়ের সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সমন্বয়ে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, দেশে ভালো নির্বাচনের সংস্কৃতি চালু করতে চায় নির্বাচন কমিশন।
সিইসি পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্তমানে বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। নির্বাচনী পরিবেশ পুলিশই তৈরি করেছে। দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের যে ধারা চালু হয়েছে, তা অব্যাহত রাখতে পুলিশকে সচেষ্ট থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করা নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক ও আইনি দায়িত্ব। একই সঙ্গে কমিশনকে সহায়তা করাও পুলিশের আইনি দায়িত্ব। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের ওপর মানুষের যে আস্থা নষ্ট হয়েছিল, তার অধিকাংশই পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনও একই মানদণ্ডে সম্পন্ন করতে পুলিশকে চেষ্টা করতে হবে।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক) ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন, অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খোন্দকার রফিকুল ইসলামসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন। অতিরিক্ত আইজি, রেঞ্জ ডিআইজি, মহানগর পুলিশের কমিশনার, জেলা পুলিশ সুপার এবং বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটের এসপি ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার নির্বাচন–সংক্রান্ত রোডম্যাপ ও একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৬ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশ পুলিশের ১১৪টি ভেন্যুতে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ শুরু হবে। এতে প্রায় ৪০ হাজার পুলিশ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সিইসি। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে পুলিশকে কোনো বেআইনি নির্দেশ দেওয়া হবে না।
সিইসি আরও বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেভাবে সুন্দরভাবে আয়োজন করা হয়েছে, একইভাবে অন্তত একই মান বজায় রেখে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করতে চায় কমিশন।



















