মিরপুরে নির্মাণাধীন ভবন ঘিরে চাঁদা দাবির অভিযোগ
- আপডেট: ০২:৫৯:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৮০০৩
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
রাজধানীর মিরপুরের দক্ষিণ পীরেরবাগ আমতলা ৬০ ফুট এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ভবনকে কেন্দ্র করে রাস্তার দাবিতে ‘চাঁদাবাজির’ অভিযোগ উঠেছে।
ভবনমালিকদের অভিযোগ, স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই—এমন কিছু ব্যক্তি ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা রাস্তার দাবি তুলে বিভিন্নভাবে তাঁদের হয়রানি করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভবন ও জমি নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ ভবনমালিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে মানববন্ধন করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
স্থানীয় সূত্র ও ভবনমালিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, পীরেরবাগের ওই এলাকায় ‘অ্যাচিভ রিয়েল এস্টেট লিমিটেড’ প্রায় দুই থেকে তিন মাস আগে একটি বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করে। জমির তিন পক্ষের মালিক যৌথভাবে ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্মাণের দায়িত্ব দেয় প্রতিষ্ঠানটিকে।
ভবনমালিকদের ভাষ্য, নির্মাণাধীন ভবনের উত্তর পাশে আগে তিনটি বাড়িতে যাতায়াতের জন্য একটি এজমালি পথ ছিল। পরবর্তী সময়ে ওই জমির মালিকেরা যৌথভাবে ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় পথটির ব্যবহার বন্ধ হয়ে যায়। তাঁদের দাবি, ঢাকা সিটি জরিপেও সংশ্লিষ্ট জমি ব্যক্তিমালিকানাধীন হিসেবে রয়েছে।
জমির অংশীদার প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, তাঁরা প্রায় দুই বছর আগে পুরো জায়গা খালি করে ডেভেলপারকে নির্মাণকাজের জন্য বুঝিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু নানা প্রতিকূলতার কারণে কাজ এগোতে পারছে না। এর মধ্যে রাস্তার দাবিতে বিভিন্ন পক্ষের কর্মকাণ্ডে তাঁরা আরও সমস্যায় পড়ছেন।
জাকির হোসেন বলেন, “আমরা সরকারের সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চাই। জমির মালিক ও নির্মাণকাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানকে যেন এভাবে হয়রানির হাত থেকে রেহাই দেওয়া হয়।”
ভবনমালিকদের অভিযোগ, তাঁদের নির্মাণকাজ রাজউকের অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী চলছে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট জমি ও রাস্তা নিয়ে এসি ল্যান্ডের প্রতিবেদনসহ তাঁদের কাছে বিভিন্ন নথি ও তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। রাস্তা নিয়ে যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে, সেগুলোর সত্যতা যাচাই করতে এসব নথি তাঁরা সংশ্লিষ্টদের দেখাতে প্রস্তুত বলেও জানান।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কয়েকজন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা এলাকায় বসবাস করছেন এবং আশপাশের প্রতিবেশীদের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক ভালো। কিন্তু সম্প্রতি বাইরে থেকে কিছু ব্যক্তি এসে রাস্তার দাবিতে নানা কর্মসূচি পালন করছেন। এতে নির্মাণকাজে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে এবং তাঁদের মধ্যে আতঙ্ক ও বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
ভবনমালিকদের দাবি, রাস্তার দাবিতে যাঁরা বিভিন্ন কর্মসূচি করছেন, তাঁদের অনেকেরই সংশ্লিষ্ট জমিতে মালিকানা নেই। এমনকি তাঁরা নির্মাণাধীন ভবনের আশপাশের বাড়ির মালিক বা ভাড়াটিয়াও নন। তাঁদের অভিযোগ, মূলত চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যে এসব কর্মসূচি ও প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা আরও অভিযোগ করেন, কিছু কিশোর ও যুবককে ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভিডিও ও পোস্ট ছড়ানো হচ্ছে। তাঁদের পেছনে কারা রয়েছেন, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে বের করার দাবি জানান তাঁরা। কয়েকজনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলেও তাঁরা অভিযোগ করেন। তবে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কারও বিরুদ্ধে কোনো বক্তব্যের স্বাধীন যাচাই করা যায়নি।
জাকির হোসেন বলেন, “আমাদের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য-প্রমাণ আছে। কেউ চাইলে আমরা সেগুলো সরবরাহ করব। প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করুক।”
ভবনমালিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, রাস্তার বিষয়ে কারও বৈধ দাবি থাকলে তা আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করা উচিত। কোনো ধরনের ভয়ভীতি, চাপ সৃষ্টি বা চাঁদাবাজির মাধ্যমে নির্মাণকাজ বন্ধ করার চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না।
তাঁরা এ বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।



















