ধানমন্ডিতে ‘সিকিউরিটি মানি’ না দেওয়ায় ইন্টারকম বিচ্ছিন্নের অভিযোগ, থানায় জিডি
- আপডেট: ১২:৫৭:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৮০২০
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
রাজধানীর ধানমন্ডির একটি আবাসিক ভবনে ‘সিকিউরিটি মানি’ দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি এবং তা না দেওয়ায় একটি ফ্ল্যাটের ইন্টারকম সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ওই ফ্ল্যাটের অন্যান্য ইউটিলিটি ও সেবা-সুবিধা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন এক ফ্ল্যাট মালিক।
এ ঘটনায় মো. ওবায়দুল্লাহ আনসারী নামের ওই ফ্ল্যাট মালিক গতকাল সোমবার ধানমন্ডি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার আবেদন করেছেন। লিখিত আবেদনে তিনি ভবনের ফ্ল্যাট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন/কমিটির কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেন।
ওবায়দুল্লাহ আনসারীর দাবি, গত মে মাসে তিনি ধানমন্ডির সুবাস্তু রেডিয়েন্সের ১১-এ নম্বর ফ্ল্যাটটি কিনে নিজের নামে নিবন্ধন করেন। এরপর পরিবার নিয়ে সেখানে বসবাস করছেন। ফ্ল্যাটে ওঠার পর থেকেই ভবনের কমিটির পরিচয়ে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে ‘সিকিউরিটি মানি’ দেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছেন।
লিখিত আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, ওই ফ্ল্যাটের জন্য প্রযোজ্য সিকিউরিটি মানি আগের মালিক পরিশোধ করেছেন। এ ছাড়া Suvastu Properties Limited, আগের মালিক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে করা ত্রিপক্ষীয় দলিল বা চুক্তি অনুযায়ী ওই অর্থ তাঁকে পুনরায় পরিশোধ করতে হবে না বলে তাঁর দাবি। ফ্ল্যাট নিবন্ধনের পর থেকে প্রযোজ্য মাসিক সার্ভিস চার্জ পরিশোধ করাই তাঁর দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানানোর পরও সিকিউরিটি মানি দেওয়ার জন্য চাপ অব্যাহত থাকে। গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বিল্ডিং ম্যানেজারের মাধ্যমে তাঁকে একটি বৈঠকে উপস্থিত হতে বলা হয়। ওই সময় ঘুমাতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন জানিয়ে তিনি বৈঠকে যেতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
পরদিন শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) তাঁর ফ্ল্যাটের ইন্টারকম সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ওবায়দুল্লাহ আনসারী। একই সঙ্গে সিকিউরিটি মানি পরিশোধ না করলে ফ্ল্যাটের অন্যান্য ইউটিলিটি সংযোগ ও ভবনের বিভিন্ন সেবা-সুবিধা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
পরে বিষয়টি নিয়ে ভবনের অন্য ফ্ল্যাট মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ওবায়দুল্লাহ। তাঁদের পরামর্শে সব ফ্ল্যাট মালিকের যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত একটি WhatsApp গ্রুপে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। এরপর মো. রাশেদুল হক শিকদার নামের এক ফ্ল্যাট মালিক তাঁকে ওই গ্রুপ থেকে সরিয়ে দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্যের সমর্থনে যাঁরা লিখেছিলেন, তাঁদের কয়েকজনকেও ওই গ্রুপ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ভবনের বর্তমান ফ্ল্যাট ওনার্স কমিটির গঠন ও কার্যক্রম নিয়েও অভিযোগ করেছেন ওবায়দুল্লাহ। তাঁর দাবি, কমিটি গঠনের সময় বহিরাগতদের মাধ্যমে প্রক্সি ভোট, প্রভাব বিস্তার এবং ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া আগের একটি রেজুলেশনে কমিটির মেয়াদ এক বছর নির্ধারণ করা হলেও পরে তা সংশোধন করে দুই বছর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
কমিটির সভাপতি হিসেবে পরিচিত মো. জেহাদ উদ্দিনের যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারী। তাঁর দাবি, ৪-এ নম্বর ফ্ল্যাটের দলিল অনুযায়ী মালিক বেগম রাবেয়া সুলতানা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দলিল ও রেজুলেশন যাচাই করে দেখার জন্য তিনি পুলিশের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।
কমিটির একজন উপদেষ্টা হিসেবে পরিচিত কাজী শাহিদুল ইসলাম লিটনের বিরুদ্ধেও অর্থ লেনদেনের অভিযোগের কথা আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একজন সম্পত্তি ব্রোকারের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন বলে দাবি করে ওবায়দুল্লাহ বলেন, তাঁর ফ্ল্যাট বিক্রির বিপরীতে লিটন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কমিশন বা অর্থ নিয়েছেন। তবে এ তথ্যের সত্যতা তিনি নিজে যাচাই করতে পারেননি বলেও আবেদনে উল্লেখ করেছেন।
এ ছাড়া ভবনের ফ্ল্যাট মালিকদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসিক সার্ভিস চার্জ আদায় করা হলেও প্রায় দেড় বছর ধরে আয়-ব্যয়ের যথাযথ ও নিরীক্ষিত হিসাব বা প্রতিবেদন দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। পাঁচজন জ্যেষ্ঠ ফ্ল্যাট মালিকের সমন্বয়ে গঠিত একটি অডিট কমিটি হিসাব পরীক্ষা করতে চাইলে তাঁদের ভয়ভীতি দেখিয়ে তা থেকে বিরত রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এসব ঘটনার কারণে তিনি ও তাঁর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জিডির আবেদনে উল্লেখ করেছেন ওবায়দুল্লাহ আনসারী। ভবিষ্যতে আরও হয়রানি, ভয়ভীতি বা হুমকি এবং ফ্ল্যাটের প্রয়োজনীয় সেবা বন্ধ করে দেওয়ার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
আবেদনে মো. রাশেদুল হক শিকদার, কাজী শাহিদুল ইসলাম লিটন, এ.এন.এম. জিয়াউল ইসলাম মিঠু, মো. জেহাদ উদ্দিন ও নাদিম আহমেদ খানের নাম উল্লেখ করেছেন অভিযোগকারী।
ধানমন্ডি থানায় দেওয়া আবেদনে ইন্টারকম বিচ্ছিন্ন করা, হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ তদন্ত এবং ভবিষ্যতে তিনি ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছেন ওবায়দুল্লাহ আনসারী। পাশাপাশি ভবনের কমিটির গঠন ও কার্যক্রম এবং আর্থিক বিষয়গুলোও তদন্ত করে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।




















