০২:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নারকেলের ছোবড়া থেকে কোকোপিট তৈরি করছেন আনসার-ভিডিপি সদস্য

  • আপডেট: ০২:১১:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৮০০১

নিজস্ব প্রতিবেদক,সোনালী খবর

নারকেলের ছোবড়া সাধারণত বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেওয়া হয়। সেই ছোবড়া প্রক্রিয়াজাত করে কৃষির প্রয়োজনীয় উপকরণ কোকোপিট তৈরি করছেন যশোরের মনিরামপুর উপজেলার আনসার-ভিডিপি সদস্য মো. রবিউল ইসলাম। এতে একদিকে নারকেলের ছোবড়ার পুনঃব্যবহার হচ্ছে, অন্যদিকে নিজের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ তৈরি করেছেন তিনি।

রবিউল ইসলাম উপজেলার ১৫ নম্বর কুলটিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। নারকেলের ছোবড়া থেকে আঁশ আলাদা করার পর অবশিষ্ট অংশ সংগ্রহ করে বিভিন্ন ধাপে প্রক্রিয়াজাত করে কোকোপিট তৈরি করছেন তিনি।

কৃষিতে কোকোপিট উদ্ভিদ বৃদ্ধির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে প্রো-ট্রে বা ট্রে পদ্ধতিতে টমেটো, মরিচ, বেগুন, ক্যাপসিকাম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শসাসহ বিভিন্ন সবজি ও ফুলের চারা উৎপাদনে এটি ব্যবহার করা যায়। কোকোপিট হালকা এবং পানি ধারণ করতে পারে বলে চারার শিকড়ের বিকাশে এটি সহায়ক মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

মাটির পরিবর্তে কোকোপিট ব্যবহার করে চারা উৎপাদন করলে মাটিবাহিত রোগের ঝুঁকিও কমানো যায়। ফলে আধুনিক ও মাটিবিহীন পদ্ধতিতে চারা উৎপাদনে এর ব্যবহার বাড়ছে।

রবিউল ইসলামের উদ্যোগের আরেকটি দিক হলো, নারকেলের ছোবড়ার ফেলে দেওয়া অংশও কাজে লাগানো। ছোবড়া থেকে আঁশ, দড়ি বা রশি তৈরির পর অবশিষ্ট পিথজাতীয় অংশ তিনি কোকোপিট তৈরির কাজে ব্যবহার করছেন। এতে স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য একটি কৃষিজ উপজাত নতুনভাবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

জেলা ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তারা তাঁর উদ্যোগ পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানিয়েছে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা পেলে উদ্যোগটি আরও সম্প্রসারিত করার সুযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

আনসার-ভিডিপি সদস্য রবিউল ইসলাম বলেন, নারকেলের ছোবড়াকে ফেলে না দিয়ে কাজে লাগানোর পাশাপাশি আধুনিক কৃষির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ তৈরি করাই তাঁর উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

নারকেলের ছোবড়া থেকে কোকোপিট তৈরি করছেন আনসার-ভিডিপি সদস্য

আপডেট: ০২:১১:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,সোনালী খবর

নারকেলের ছোবড়া সাধারণত বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেওয়া হয়। সেই ছোবড়া প্রক্রিয়াজাত করে কৃষির প্রয়োজনীয় উপকরণ কোকোপিট তৈরি করছেন যশোরের মনিরামপুর উপজেলার আনসার-ভিডিপি সদস্য মো. রবিউল ইসলাম। এতে একদিকে নারকেলের ছোবড়ার পুনঃব্যবহার হচ্ছে, অন্যদিকে নিজের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ তৈরি করেছেন তিনি।

রবিউল ইসলাম উপজেলার ১৫ নম্বর কুলটিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। নারকেলের ছোবড়া থেকে আঁশ আলাদা করার পর অবশিষ্ট অংশ সংগ্রহ করে বিভিন্ন ধাপে প্রক্রিয়াজাত করে কোকোপিট তৈরি করছেন তিনি।

কৃষিতে কোকোপিট উদ্ভিদ বৃদ্ধির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে প্রো-ট্রে বা ট্রে পদ্ধতিতে টমেটো, মরিচ, বেগুন, ক্যাপসিকাম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শসাসহ বিভিন্ন সবজি ও ফুলের চারা উৎপাদনে এটি ব্যবহার করা যায়। কোকোপিট হালকা এবং পানি ধারণ করতে পারে বলে চারার শিকড়ের বিকাশে এটি সহায়ক মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

মাটির পরিবর্তে কোকোপিট ব্যবহার করে চারা উৎপাদন করলে মাটিবাহিত রোগের ঝুঁকিও কমানো যায়। ফলে আধুনিক ও মাটিবিহীন পদ্ধতিতে চারা উৎপাদনে এর ব্যবহার বাড়ছে।

রবিউল ইসলামের উদ্যোগের আরেকটি দিক হলো, নারকেলের ছোবড়ার ফেলে দেওয়া অংশও কাজে লাগানো। ছোবড়া থেকে আঁশ, দড়ি বা রশি তৈরির পর অবশিষ্ট পিথজাতীয় অংশ তিনি কোকোপিট তৈরির কাজে ব্যবহার করছেন। এতে স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য একটি কৃষিজ উপজাত নতুনভাবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

জেলা ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তারা তাঁর উদ্যোগ পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানিয়েছে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা পেলে উদ্যোগটি আরও সম্প্রসারিত করার সুযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

আনসার-ভিডিপি সদস্য রবিউল ইসলাম বলেন, নারকেলের ছোবড়াকে ফেলে না দিয়ে কাজে লাগানোর পাশাপাশি আধুনিক কৃষির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ তৈরি করাই তাঁর উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।