১১:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিমানবন্দরে হাতাহাতির ঘটনায় যা বলছে বেবিচক ও আনসার

  • আপডেট: ১০:২২:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৮০০৩

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ক্যানোপি-২ এলাকায় যাত্রীর স্বজনদের সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মীদের হাতাহাতির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ও বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।

বেবিচক জানিয়েছে, ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনার পূর্বাপর চিত্র পাওয়া গেছে। অন্যদিকে আনসারের পক্ষ থেকেও ঘটনাটি নিয়ে পৃথক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১২টা ৫২ মিনিটে ক্যানোপি-২-এর এক্সিট গেটের বাইরে এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় একজন আগমনী যাত্রী ক্যানোপি-২ দিয়ে বের হওয়ার সময় তাকে নিতে আসা এক পুরুষ সহযাত্রী নির্ধারিত এক্সিট গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন।

বেবিচক বলছে, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও যাত্রী চলাচলের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেখানে দায়িত্বে থাকা এক আনসার সদস্য ওই ব্যক্তিকে ভেতরে প্রবেশ না করার অনুরোধ করেন এবং বাধা দেন। কিন্তু তিনি একাধিকবার ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে আরেকজন আনসার সদস্য তাকে নিবৃত্ত করতে এগিয়ে আসেন। এ সময় ওই ব্যক্তি ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান।

এরপর তাকে সঙ্গে নিয়ে আসা আরও কয়েকজন ব্যক্তি ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে দায়িত্ব পালনরত আনসার সদস্যদের ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা একজন ব্যক্তি মোবাইল ফোনে ঘটনার একটি অংশ ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বলে জানিয়েছে বেবিচক।

বেবিচকের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ঘটনার একটি অংশ দেখা যায়। তবে পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুরো ঘটনাপ্রবাহ দেখা হয়েছে। ফুটেজে ওই ব্যক্তিকে নির্ধারিত এক্সিট গেট দিয়ে একাধিকবার ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করতে এবং নিরাপত্তাকর্মীদের তা ঠেকাতে দেখা গেছে। ওই ব্যক্তি পড়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এবং হাতাহাতির সূত্রপাত হয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

হাতাহতির ঘটনায় যা বলছে আনসার

এদিকে আনসারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় ক্যানোপি-২ এলাকায় সি-শিফটে বিমানবাহিনী ও আনসার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। আনসারের বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনার সময় আনুমানিক রাত ১টা ২০ মিনিট উল্লেখ করা হয়েছে।

আনসার বলছে, এক যাত্রীর স্বজন নিরাপত্তা নির্দেশনা অমান্য করে বিমানবন্দরের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে বাধা দেন। পরে তিনি নিরাপত্তাকর্মীদের পাশ কাটিয়ে ভেতরে যাওয়ার চেষ্টা করলে একপর্যায়ে মেঝেতে পড়ে যান।

আনসার জানিয়েছে, ওই ব্যক্তিকে নিতে আসা কয়েকজন স্বজন এ সময় মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করতে থাকেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে বিমানবাহিনীর সদস্যরা তাদের ভিডিও ধারণ বন্ধ করার অনুরোধ করলে কয়েকজন উত্তেজিত হয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

একপর্যায়ে দায়িত্ব পালনরত আনসার সদস্যদের ওপর হামলার চেষ্টা করা হয় বলে দাবি করেছে আনসার। তখন সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেন। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে কয়েকজন যাত্রীর স্বজন আনসার সদস্যদের ঘিরে ফেলেন। পরে বিমানবাহিনী, আনসারসহ দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মীরা সমন্বিতভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।

আনসারের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরে উত্তেজিত যাত্রীর স্বজনেরা ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান। এ ঘটনায় দায়িত্ব পালনরত পিসি হাবিবুর রহমান এবং আনসার সদস্য মো. নুরুজ্জামান ও মো. সাদেকুল সামান্য আহত হন। তাদের ইউনিফর্মের কিছু অংশও ছিঁড়ে যায়। আহত হওয়ার পরও ওই তিন সদস্য দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন বলে জানিয়েছে আনসার।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

বিমানবন্দরে হাতাহাতির ঘটনায় যা বলছে বেবিচক ও আনসার

আপডেট: ১০:২২:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ক্যানোপি-২ এলাকায় যাত্রীর স্বজনদের সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মীদের হাতাহাতির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ও বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।

বেবিচক জানিয়েছে, ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনার পূর্বাপর চিত্র পাওয়া গেছে। অন্যদিকে আনসারের পক্ষ থেকেও ঘটনাটি নিয়ে পৃথক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১২টা ৫২ মিনিটে ক্যানোপি-২-এর এক্সিট গেটের বাইরে এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় একজন আগমনী যাত্রী ক্যানোপি-২ দিয়ে বের হওয়ার সময় তাকে নিতে আসা এক পুরুষ সহযাত্রী নির্ধারিত এক্সিট গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন।

বেবিচক বলছে, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও যাত্রী চলাচলের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেখানে দায়িত্বে থাকা এক আনসার সদস্য ওই ব্যক্তিকে ভেতরে প্রবেশ না করার অনুরোধ করেন এবং বাধা দেন। কিন্তু তিনি একাধিকবার ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে আরেকজন আনসার সদস্য তাকে নিবৃত্ত করতে এগিয়ে আসেন। এ সময় ওই ব্যক্তি ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান।

এরপর তাকে সঙ্গে নিয়ে আসা আরও কয়েকজন ব্যক্তি ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে দায়িত্ব পালনরত আনসার সদস্যদের ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা একজন ব্যক্তি মোবাইল ফোনে ঘটনার একটি অংশ ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বলে জানিয়েছে বেবিচক।

বেবিচকের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ঘটনার একটি অংশ দেখা যায়। তবে পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুরো ঘটনাপ্রবাহ দেখা হয়েছে। ফুটেজে ওই ব্যক্তিকে নির্ধারিত এক্সিট গেট দিয়ে একাধিকবার ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করতে এবং নিরাপত্তাকর্মীদের তা ঠেকাতে দেখা গেছে। ওই ব্যক্তি পড়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এবং হাতাহাতির সূত্রপাত হয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

হাতাহতির ঘটনায় যা বলছে আনসার

এদিকে আনসারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় ক্যানোপি-২ এলাকায় সি-শিফটে বিমানবাহিনী ও আনসার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। আনসারের বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনার সময় আনুমানিক রাত ১টা ২০ মিনিট উল্লেখ করা হয়েছে।

আনসার বলছে, এক যাত্রীর স্বজন নিরাপত্তা নির্দেশনা অমান্য করে বিমানবন্দরের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে বাধা দেন। পরে তিনি নিরাপত্তাকর্মীদের পাশ কাটিয়ে ভেতরে যাওয়ার চেষ্টা করলে একপর্যায়ে মেঝেতে পড়ে যান।

আনসার জানিয়েছে, ওই ব্যক্তিকে নিতে আসা কয়েকজন স্বজন এ সময় মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করতে থাকেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে বিমানবাহিনীর সদস্যরা তাদের ভিডিও ধারণ বন্ধ করার অনুরোধ করলে কয়েকজন উত্তেজিত হয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

একপর্যায়ে দায়িত্ব পালনরত আনসার সদস্যদের ওপর হামলার চেষ্টা করা হয় বলে দাবি করেছে আনসার। তখন সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেন। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে কয়েকজন যাত্রীর স্বজন আনসার সদস্যদের ঘিরে ফেলেন। পরে বিমানবাহিনী, আনসারসহ দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মীরা সমন্বিতভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।

আনসারের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরে উত্তেজিত যাত্রীর স্বজনেরা ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান। এ ঘটনায় দায়িত্ব পালনরত পিসি হাবিবুর রহমান এবং আনসার সদস্য মো. নুরুজ্জামান ও মো. সাদেকুল সামান্য আহত হন। তাদের ইউনিফর্মের কিছু অংশও ছিঁড়ে যায়। আহত হওয়ার পরও ওই তিন সদস্য দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন বলে জানিয়েছে আনসার।