১০:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

এসআরবির নতুন মহাপরিচালক কে এই ফারুক আহমেদ

  • আপডেট: ০৯:১৬:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • / ১৮০০৫

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অতিরিক্ত আইজিপি ফারুক আহমেদ। মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো, যানবাহনে চাঁদাবাজি ও ডাকাতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখার পর এবার তাকে এসআরবির নেতৃত্বে আনা হলো।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের কথা জানানো হয়। একই প্রজ্ঞাপনে অতিরিক্ত আইজিপি ও ডিআইজি পদমর্যাদার মোট সাত পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্বে রদবদল করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজন অতিরিক্ত আইজিপি ও দুজন ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তা রয়েছেন।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ফারুক আহমেদ সদ্য সাবেক এসআরবি মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশের স্থলাভিষিক্ত হলেন।

মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ফারুক আহমেদের ভূমিকা

ফারুক আহমেদের পেশাগত জীবনের সাম্প্রতিক সময়ে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হাইওয়ে পুলিশের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা। গত জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে এ দায়িত্ব নেওয়ার পর মহাসড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা এবং চাঁদাবাজি ও ডাকাতি নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ নেন তিনি। তার অগ্রাধিকার ছিল মহাসড়কে অপরাধের সুযোগ কমানো, জনবান্ধব পুলিশিংয়ের মাধ্যমে যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পুলিশের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও কার্যকর করা।

তার পরিকল্পনায় মহাসড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। সরকারের অপরাধ ও মাদক চোরাচালানের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা হয়। পাশাপাশি মহাসড়কের ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে স্থাপন করা হয় অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ক্যামেরা। ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কেও এ ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে অপরাধ ও মাদক চোরাচালান শনাক্ত এবং সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি জোরদারের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

একই সঙ্গে মহাসড়কে যানবাহন থেকে চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও অন্যান্য অপরাধ দমনে মাঠপর্যায়ে পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো হয়। দায়িত্ব পালনে জবাবদিহি নিশ্চিত করা, অপরাধপ্রবণ এলাকায় নজরদারি জোরদার এবং মহাসড়কে পুলিশের উপস্থিতি কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এসব পদক্ষেপের ফলে তার দায়িত্ব পালনকালে মহাসড়কে চাঁদাবাজি ও ডাকাতির ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এসব অপরাধ শূন্যের কোঠায় নেমে আসে বলেও দাবি করা হয়েছে।

প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, অপরাধ দমনে মাঠপর্যায়ের তৎপরতা এবং মহাসড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় নেওয়া এসব উদ্যোগকে হাইওয়ে পুলিশের নেতৃত্বে তার উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কে এই ফারুক আহমেদ

ফারুক আহমেদের বাড়ি বগুড়া জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলার কৈডালা (রণবাঘা) গ্রামে। তিনি রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে ১৭ তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের মাধ্যমে ১৯৯৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। প্রায় তিন দশকের দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি একজন সৎ, দক্ষ ও পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।

বগুড়ায় বাড়ি হওয়ায় রাজনৈতিক বিবেচনায় বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে তাকে পদোন্নতি বঞ্চিত রাখা হয়েছিল। ২০০৯ সালে ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১৭ দিনের মাথায় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের হস্তক্ষেপে তাকে সেখান থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়।

তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুলিশের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে পদোন্নতি ও রদবদলের মধ্যে তিনি পুলিশ সুপার থেকে পদোন্নতি পেয়ে ডিআইজি হন। পরবর্তীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (অ্যাডমিন) দায়িত্ব পালন করেন। সেখানে তিনি প্রশাসনিক কাজে দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দেন।

কিন্তু অন্তর্বতীকালীন সরকারের আমলে দায়িত্ব পালনকালে অন্যায় আদেশ না শোনায় ওই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. ইউনূসের বিশেষ সহকারী খোদা বকশ্ চৌধুরীর রোষানলে পড়েন ফারুক আহমেদ। পরে তাকে বদলি করে তৎকালীন র‍্যাবে পাঠানো হয়।

পরবর্তীতে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ৪ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ফারুক আহমেদসহ পুলিশের পাঁচ ডিআইজিকে পদোন্নতি দিয়ে অতিরিক্ত আইজিপি করে। এরপর গত জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে তাকে হাইওয়ে পুলিশের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এবার এসআরবির মহাপরিচালক হিসেবে নতুন দায়িত্ব পেলেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এসআরবির নতুন মহাপরিচালক কে এই ফারুক আহমেদ

আপডেট: ০৯:১৬:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অতিরিক্ত আইজিপি ফারুক আহমেদ। মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো, যানবাহনে চাঁদাবাজি ও ডাকাতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখার পর এবার তাকে এসআরবির নেতৃত্বে আনা হলো।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের কথা জানানো হয়। একই প্রজ্ঞাপনে অতিরিক্ত আইজিপি ও ডিআইজি পদমর্যাদার মোট সাত পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্বে রদবদল করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজন অতিরিক্ত আইজিপি ও দুজন ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তা রয়েছেন।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ফারুক আহমেদ সদ্য সাবেক এসআরবি মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশের স্থলাভিষিক্ত হলেন।

মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ফারুক আহমেদের ভূমিকা

ফারুক আহমেদের পেশাগত জীবনের সাম্প্রতিক সময়ে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হাইওয়ে পুলিশের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা। গত জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে এ দায়িত্ব নেওয়ার পর মহাসড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা এবং চাঁদাবাজি ও ডাকাতি নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ নেন তিনি। তার অগ্রাধিকার ছিল মহাসড়কে অপরাধের সুযোগ কমানো, জনবান্ধব পুলিশিংয়ের মাধ্যমে যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পুলিশের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও কার্যকর করা।

তার পরিকল্পনায় মহাসড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। সরকারের অপরাধ ও মাদক চোরাচালানের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা হয়। পাশাপাশি মহাসড়কের ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে স্থাপন করা হয় অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ক্যামেরা। ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কেও এ ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে অপরাধ ও মাদক চোরাচালান শনাক্ত এবং সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি জোরদারের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

একই সঙ্গে মহাসড়কে যানবাহন থেকে চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও অন্যান্য অপরাধ দমনে মাঠপর্যায়ে পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো হয়। দায়িত্ব পালনে জবাবদিহি নিশ্চিত করা, অপরাধপ্রবণ এলাকায় নজরদারি জোরদার এবং মহাসড়কে পুলিশের উপস্থিতি কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এসব পদক্ষেপের ফলে তার দায়িত্ব পালনকালে মহাসড়কে চাঁদাবাজি ও ডাকাতির ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এসব অপরাধ শূন্যের কোঠায় নেমে আসে বলেও দাবি করা হয়েছে।

প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, অপরাধ দমনে মাঠপর্যায়ের তৎপরতা এবং মহাসড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় নেওয়া এসব উদ্যোগকে হাইওয়ে পুলিশের নেতৃত্বে তার উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কে এই ফারুক আহমেদ

ফারুক আহমেদের বাড়ি বগুড়া জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলার কৈডালা (রণবাঘা) গ্রামে। তিনি রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে ১৭ তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের মাধ্যমে ১৯৯৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। প্রায় তিন দশকের দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি একজন সৎ, দক্ষ ও পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।

বগুড়ায় বাড়ি হওয়ায় রাজনৈতিক বিবেচনায় বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে তাকে পদোন্নতি বঞ্চিত রাখা হয়েছিল। ২০০৯ সালে ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১৭ দিনের মাথায় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের হস্তক্ষেপে তাকে সেখান থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়।

তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুলিশের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে পদোন্নতি ও রদবদলের মধ্যে তিনি পুলিশ সুপার থেকে পদোন্নতি পেয়ে ডিআইজি হন। পরবর্তীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (অ্যাডমিন) দায়িত্ব পালন করেন। সেখানে তিনি প্রশাসনিক কাজে দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দেন।

কিন্তু অন্তর্বতীকালীন সরকারের আমলে দায়িত্ব পালনকালে অন্যায় আদেশ না শোনায় ওই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. ইউনূসের বিশেষ সহকারী খোদা বকশ্ চৌধুরীর রোষানলে পড়েন ফারুক আহমেদ। পরে তাকে বদলি করে তৎকালীন র‍্যাবে পাঠানো হয়।

পরবর্তীতে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ৪ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ফারুক আহমেদসহ পুলিশের পাঁচ ডিআইজিকে পদোন্নতি দিয়ে অতিরিক্ত আইজিপি করে। এরপর গত জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে তাকে হাইওয়ে পুলিশের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এবার এসআরবির মহাপরিচালক হিসেবে নতুন দায়িত্ব পেলেন তিনি।