১০:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পল্টনে ভুয়া র‌্যাব পরিচয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি: কটি-হ্যান্ডকাফ-মাইক্রোবাসসহ গ্রেফতার ৬

  • আপডেট: ০৭:০৪:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ১৮০৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

রাজধানীর পল্টন এলাকায় ভুয়া র‌্যাব পরিচয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

গ্রেফতারকৃতরা হলো— মো.জুয়েল বিশ্বাস,মো.আলামিন দুয়ারী ওরফে দিপু,শহিদ মাঝি,মামুন,মিজান ও মো.আবুল কালাম আজাদ। গ্রেফতারকালে তাদের কাছ থেকে র‌্যাব লেখা কটি,ক্যাপ,ভুয়া আইডি কার্ড,হ্যান্ডকাফ,ওয়াকিটকি সেট,অস্ত্রের কভার,ব্যাটন স্টিক,একাধিক নম্বরপ্লেটসহ একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়।

বুধবার(১০ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী। সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১০ এর অধিনায়ক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান এবং র‌্যাবের যাত্রাবাড়ী ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার এসএম হাসান সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব জানায়,গত ৯ ডিসেম্বর বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে র‌্যাব-১০,সিপিসি-১ যাত্রাবাড়ী ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদে জানতে পারে যে,পল্টন মডেল থানার ভিআইপি রোড এলাকায় একটি চক্র ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে। সন্দেহজনক মাইক্রোবাস থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাতে থাকা ছয়জন নিজেদের র‌্যাব সদস্য হিসেবে পরিচয় দেয়। পরবর্তীতে তাদের পরিচয়পত্র যাচাই করে সেগুলো ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়।

পরবর্তীতে তল্লাশিতে তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় র‌্যাব লেখা ৪টি কটি,৪টি ক্যাপ,৫টি ভুয়া আইডি কার্ড,২টি হ্যান্ডকাফ,২টি ওয়াকিটকি সেট,পিস্তলের কভার,ব্যাটন স্টিক, অতিরিক্ত নম্বর প্লেট,স্মার্টফোন,এয়ারপড,হাতঘড়ি,গ্লাভস ও নগদ ২০ হাজার ৪৫ টাকা। এসময় ডাকাতিতে ব্যবহৃত সিলভার-পার্ল রঙের মাইক্রোবাসও জব্দ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামিরা জানায়,শহিদ মাঝি, মামুন ও মিজানের পরিকল্পনায় জুয়েল ও দিপু বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে ডাকাতি করেছে। এছাড়া ৯ ডিসেম্বর গ্রেফতারের দিন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও এলাকায় তাদের ডাকাতির পরিকল্পনা ছিল বলেও জানায়।

র‌্যাব জানায়,গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। জুয়েল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ ১৫টি মামলা,আলামিন দুয়ারীর বিরুদ্ধে ডাকাতি ও অস্ত্র আইনে ১৫টি, সাজ্জাদ হোসেনের বিরুদ্ধে ছয়টি, আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ডাকাতি ও মাদকে ছয়টি এবং বোরহান মিয়ার বিরুদ্ধে মাদক আইনে চারটি মামলা রয়েছে।

জানা গেছে,জুয়েল বিশ্বাস পূর্বে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে ১৬ লাখ টাকা ডাকাতি মামলায় গ্রেফতার হয়েছিল। এছাড়া পল্টন মডেল থানায় অপহরণ ও ডাকাতির আরেকটি মামলায় তার নাম রয়েছে। সে মূলত নতুন সদস্যদের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দলে ভেড়াত এবং ডাকাতিতে বাধ্য করত।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে র‌্যাবের মুখপাত্র জানান,আসামিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলছে।

র‌্যাব-১০ এর অধিনায়ক বলেন,সাম্প্রতিক সময়ে ভুয়া র‌্যাব পরিচয়ে ডাকাতি ও ছিনতাই বেড়ে যাওয়ায় বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং জননিরাপত্তা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়ছে। এ ধরনের প্রতারকচক্রের বিরুদ্ধে র‌্যাবের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার জন্য সাধারণ জনগণকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

পল্টনে ভুয়া র‌্যাব পরিচয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি: কটি-হ্যান্ডকাফ-মাইক্রোবাসসহ গ্রেফতার ৬

আপডেট: ০৭:০৪:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

রাজধানীর পল্টন এলাকায় ভুয়া র‌্যাব পরিচয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

গ্রেফতারকৃতরা হলো— মো.জুয়েল বিশ্বাস,মো.আলামিন দুয়ারী ওরফে দিপু,শহিদ মাঝি,মামুন,মিজান ও মো.আবুল কালাম আজাদ। গ্রেফতারকালে তাদের কাছ থেকে র‌্যাব লেখা কটি,ক্যাপ,ভুয়া আইডি কার্ড,হ্যান্ডকাফ,ওয়াকিটকি সেট,অস্ত্রের কভার,ব্যাটন স্টিক,একাধিক নম্বরপ্লেটসহ একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়।

বুধবার(১০ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী। সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১০ এর অধিনায়ক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান এবং র‌্যাবের যাত্রাবাড়ী ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার এসএম হাসান সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব জানায়,গত ৯ ডিসেম্বর বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে র‌্যাব-১০,সিপিসি-১ যাত্রাবাড়ী ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদে জানতে পারে যে,পল্টন মডেল থানার ভিআইপি রোড এলাকায় একটি চক্র ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে। সন্দেহজনক মাইক্রোবাস থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাতে থাকা ছয়জন নিজেদের র‌্যাব সদস্য হিসেবে পরিচয় দেয়। পরবর্তীতে তাদের পরিচয়পত্র যাচাই করে সেগুলো ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়।

পরবর্তীতে তল্লাশিতে তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় র‌্যাব লেখা ৪টি কটি,৪টি ক্যাপ,৫টি ভুয়া আইডি কার্ড,২টি হ্যান্ডকাফ,২টি ওয়াকিটকি সেট,পিস্তলের কভার,ব্যাটন স্টিক, অতিরিক্ত নম্বর প্লেট,স্মার্টফোন,এয়ারপড,হাতঘড়ি,গ্লাভস ও নগদ ২০ হাজার ৪৫ টাকা। এসময় ডাকাতিতে ব্যবহৃত সিলভার-পার্ল রঙের মাইক্রোবাসও জব্দ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামিরা জানায়,শহিদ মাঝি, মামুন ও মিজানের পরিকল্পনায় জুয়েল ও দিপু বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে ডাকাতি করেছে। এছাড়া ৯ ডিসেম্বর গ্রেফতারের দিন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও এলাকায় তাদের ডাকাতির পরিকল্পনা ছিল বলেও জানায়।

র‌্যাব জানায়,গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। জুয়েল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ ১৫টি মামলা,আলামিন দুয়ারীর বিরুদ্ধে ডাকাতি ও অস্ত্র আইনে ১৫টি, সাজ্জাদ হোসেনের বিরুদ্ধে ছয়টি, আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ডাকাতি ও মাদকে ছয়টি এবং বোরহান মিয়ার বিরুদ্ধে মাদক আইনে চারটি মামলা রয়েছে।

জানা গেছে,জুয়েল বিশ্বাস পূর্বে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে ১৬ লাখ টাকা ডাকাতি মামলায় গ্রেফতার হয়েছিল। এছাড়া পল্টন মডেল থানায় অপহরণ ও ডাকাতির আরেকটি মামলায় তার নাম রয়েছে। সে মূলত নতুন সদস্যদের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দলে ভেড়াত এবং ডাকাতিতে বাধ্য করত।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে র‌্যাবের মুখপাত্র জানান,আসামিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলছে।

র‌্যাব-১০ এর অধিনায়ক বলেন,সাম্প্রতিক সময়ে ভুয়া র‌্যাব পরিচয়ে ডাকাতি ও ছিনতাই বেড়ে যাওয়ায় বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং জননিরাপত্তা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়ছে। এ ধরনের প্রতারকচক্রের বিরুদ্ধে র‌্যাবের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার জন্য সাধারণ জনগণকে আহ্বান জানানো হয়েছে।