উপকূলীয় অঞ্চলে সজাগ কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন
- আপডেট: ০৯:১৮:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ১৮০৫৩
নিজস্ব প্রতিবেদক,সোনালী খবর
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় ও নদী তীরবর্তী অঞ্চল এবং সুন্দরবনের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন।
সোমবার(২৯ ডিসেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম।
ক্যাপ্টেন মেসবাউল ইসলাম বলেন, “কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন চোরাচালান প্রতিরোধ, বন ও মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানবিক সহায়তা এবং মোংলা বন্দরসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আসছে। সুন্দরবনের জলদস্যু ও বনদস্যু নির্মূলের পাশাপাশি জেলেদের নিরাপত্তা প্রদানে আমরা জনগণের আস্থা অর্জন করেছি।”
তিনি জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সুন্দরবনে ৩৮টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২টি হাতবোমা, ৭৪টি দেশীয় অস্ত্র, ৪৪৮ রাউন্ড কার্তুজ জব্দ করা হয়েছে। ডাকাতদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৫২ জন নারী ও পুরুষ। মাদকবিরোধী অভিযানে ৫,৬৭৪ পিস ইয়াবা, ১৩ কেজি গাঁজা ও ১,২৫৬ বোতল বিদেশি মদসহ ৫১ জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অভিযানে ৬০০ হরিণের ফাঁদ, ৮২৪ কেজি হরিণের মাংস, ১৪০০-এর বেশি গেওয়া ও গড়ান কাঠ, ৬২টি বিভিন্ন প্রজাতির কচ্ছপ এবং ৩,৪০০ কেজি পলিথিন জব্দ করা হয়েছে। অবৈধ মৎস্য আহরণ রোধে ১২ কোটি মিটার জাল এবং ১৪ হাজার কেজি চিংড়ি জব্দ করা হয়েছে।
ক্যাপ্টেন মেসবাউল ইসলাম আরও জানান, চলতি বছরে ২,০০০ এর বেশি দুস্থ ও অসহায়দের চিকিৎসাসেবা প্রদান এবং ৫০০-এর বেশি শীতার্তদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থী, জেলে, মাঝি ও সাধারণ জনগণের মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণ, দুর্যোগকালীন উদ্ধার ও অগ্নি নির্বাপণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে। নিরাপদ ও সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতে সদস্যদের নির্বাচন কেন্দ্রিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ সফরের সময় নৌপথে নিরাপত্তা এবং পর্যটকবাহী নৌযানসমূহে লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার নিশ্চিত করে সুন্দরবনের পর্যটকদের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
ক্যাপ্টেন মেসবাউল ইসলাম বলেন, “কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন শুধু উপকূলীয় নিরাপত্তা নয়, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জনগণের জান-মাল রক্ষা, বন্দর নিরাপত্তা, বনজ সম্পদ সংরক্ষণ এবং মানবিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। ভবিষ্যতেও এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

















