০৩:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

এরশাদ গ্রুপের চেয়ারম্যান এরশাদ আলী মারা গেছেন

  • আপডেট: ০৮:০১:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
  • / ১৮০৩০

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও এরশাদ গ্রুপের চেয়ারম্যান এরশাদ আলী রবিবার সকালে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেছেন। দীর্ঘদিন কিডনি জটিলতা ও নানা রোগে ভুগছিলেন তিনি। মৃত্যু সংবাদটি তার ভাই আমিনুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘ঢাকা থেকে মরদেহ হেলিকপ্টারযোগে রাজশাহীতে আনা হয়েছে। এখানেই তাকে দাফন করা হবে।’

সূত্র জানিয়েছে, এরশাদ আলী বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। প্রায় ৪১টি মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে কারাগারে রাখা হয়েছিল। এসময় তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ট্রান্সপোর্ট ব্যবসার ১৩৮টি যানবাহন (কাভার্ডভ্যান, ট্রাক) জবরদখল হয়ে যায়। তাছাড়া নারায়ণগঞ্জে গড়ে তোলা রড তৈরির কারখানাটি সাবেক এমপি শামীম ওসমান, তার সহযোগী আজিজুর রহমানসহ স্থানীয় সন্ত্রাসীরা লুটে নেয়।

১লা নভেম্বর এরশাদ আলী এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অর্থদাতা হিসেবে চিহ্নিত করে ‘মিথ্যা মামলা’ দিয়ে তাকে ফাঁসানো হয়। এরপর দেওয়া হয় একে একে ৪১টি মামলা। তার নিজ হাতে গড়া প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করে চালানো হয় লুটপাট। ট্রান্সপোর্ট ব্যবসার ১৩৮টি যানবাহন জবরদখল করা হয়। এই লুটপাটের নেতৃত্বে ছিলো সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও তার বড় ছেলে শাফি মোদাচ্ছের খান জ্যোতি। এছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও রাজশাহীর মেয়র খায়রুজ্জামান খান লিটন। চক্রটি তাকে হয়রানি করতে বারবার ডিবির মাধ্যমে তুলে নিয়ে দিতো মিথ্যা মামলা।’

ওই সংবাদ সম্মেলনে কান্না জড়িত কণ্ঠে এরশাদ আলী জানিয়েছিলেন, তিনি রাজশাহীর বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনুর (বর্তমান ভূমি মন্ত্রী) সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে ছিলেন। এই থাকাই তার জীবনের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। ফলে তাকে মিথ্যা মামলায় চার বছর জেলে বন্দি করে রাখে হাসিনা সরকারের প্রশাসন।

তিনি আরও জানিয়েছিলেন, ২০১০ সালের পর রাজনৈতিক বিরোধের জেরে তাকে (এরশাদ আলী) বিএনপির অর্থদাতা হিসেবে চিহ্নিত করে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে একের পর এক মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার ও কারাবন্দি করা হয়। এরশাদ গ্রুপের কলাবাগানের নাসির ট্রেড সেন্টারে প্রধান কার্যালয় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছেলে জ্যোতি দখল করে। ধানমন্ডির বাসভবন তাদের ক্যাডার গোল্ডেন খোকনকে দিয়ে দখল করায়, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের গুদাম দখল করে নেয়। এছাড়া সোনারগাঁয়ের জংদা রি-রোলিং মিলস ও ডেমরার স্টিল মিল শামীম ওসমানের সহযোগী ও শীর্ষ সন্ত্রাসী আজিজুর রহমান আজিজ দখলে নেয়। এই আজিজের নেতৃত্বে দুইটি কারখানার আড়াইশো কোটি টাকার মেশিনসহ মালামাল লুট করা হয়। এমন কি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ২০ বিঘা জমির মাটি লুট করে জলাশয়ে পরিণত করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এরশাদ গ্রুপের চেয়ারম্যান এরশাদ আলী মারা গেছেন

আপডেট: ০৮:০১:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও এরশাদ গ্রুপের চেয়ারম্যান এরশাদ আলী রবিবার সকালে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেছেন। দীর্ঘদিন কিডনি জটিলতা ও নানা রোগে ভুগছিলেন তিনি। মৃত্যু সংবাদটি তার ভাই আমিনুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘ঢাকা থেকে মরদেহ হেলিকপ্টারযোগে রাজশাহীতে আনা হয়েছে। এখানেই তাকে দাফন করা হবে।’

সূত্র জানিয়েছে, এরশাদ আলী বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। প্রায় ৪১টি মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে কারাগারে রাখা হয়েছিল। এসময় তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ট্রান্সপোর্ট ব্যবসার ১৩৮টি যানবাহন (কাভার্ডভ্যান, ট্রাক) জবরদখল হয়ে যায়। তাছাড়া নারায়ণগঞ্জে গড়ে তোলা রড তৈরির কারখানাটি সাবেক এমপি শামীম ওসমান, তার সহযোগী আজিজুর রহমানসহ স্থানীয় সন্ত্রাসীরা লুটে নেয়।

১লা নভেম্বর এরশাদ আলী এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অর্থদাতা হিসেবে চিহ্নিত করে ‘মিথ্যা মামলা’ দিয়ে তাকে ফাঁসানো হয়। এরপর দেওয়া হয় একে একে ৪১টি মামলা। তার নিজ হাতে গড়া প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করে চালানো হয় লুটপাট। ট্রান্সপোর্ট ব্যবসার ১৩৮টি যানবাহন জবরদখল করা হয়। এই লুটপাটের নেতৃত্বে ছিলো সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও তার বড় ছেলে শাফি মোদাচ্ছের খান জ্যোতি। এছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও রাজশাহীর মেয়র খায়রুজ্জামান খান লিটন। চক্রটি তাকে হয়রানি করতে বারবার ডিবির মাধ্যমে তুলে নিয়ে দিতো মিথ্যা মামলা।’

ওই সংবাদ সম্মেলনে কান্না জড়িত কণ্ঠে এরশাদ আলী জানিয়েছিলেন, তিনি রাজশাহীর বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনুর (বর্তমান ভূমি মন্ত্রী) সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে ছিলেন। এই থাকাই তার জীবনের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। ফলে তাকে মিথ্যা মামলায় চার বছর জেলে বন্দি করে রাখে হাসিনা সরকারের প্রশাসন।

তিনি আরও জানিয়েছিলেন, ২০১০ সালের পর রাজনৈতিক বিরোধের জেরে তাকে (এরশাদ আলী) বিএনপির অর্থদাতা হিসেবে চিহ্নিত করে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে একের পর এক মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার ও কারাবন্দি করা হয়। এরশাদ গ্রুপের কলাবাগানের নাসির ট্রেড সেন্টারে প্রধান কার্যালয় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছেলে জ্যোতি দখল করে। ধানমন্ডির বাসভবন তাদের ক্যাডার গোল্ডেন খোকনকে দিয়ে দখল করায়, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের গুদাম দখল করে নেয়। এছাড়া সোনারগাঁয়ের জংদা রি-রোলিং মিলস ও ডেমরার স্টিল মিল শামীম ওসমানের সহযোগী ও শীর্ষ সন্ত্রাসী আজিজুর রহমান আজিজ দখলে নেয়। এই আজিজের নেতৃত্বে দুইটি কারখানার আড়াইশো কোটি টাকার মেশিনসহ মালামাল লুট করা হয়। এমন কি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ২০ বিঘা জমির মাটি লুট করে জলাশয়ে পরিণত করা হয়েছে।