০৭:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

নদীপথে ডাকাতি ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধে কোস্ট গার্ডের সাঁড়াশি অভিযান

  • আপডেট: ০৫:১৩:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
  • / ১৮০৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক,সোনালী খবর

নদীপথে ডাকাতি ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধে অভিযান পরিচালনা করে একটি বাল্কহেডসহ জিম্মি থাকা চারজনকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের মেঘনা নদীর বৈদ্যেরবাজার এলাকায় চাঁদাবাজি বন্ধে অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, গত ১২ মার্চ সন্ধ্যা ৬টার দিকে সন্দ্বীপ থেকে ‘চার তাওফিল’ নামের একটি বাল্কহেড চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। বাল্কহেডটি গুপ্তছড়া সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে একদল সশস্ত্র ডাকাত হামলা চালায়। এ সময় তারা বাল্কহেডে থাকা চারজনকে জিম্মি করে নৌযানটি ছিনিয়ে নেয়। পরে বাল্কহেডের সুকানির মোবাইল ফোন ব্যবহার করে মালিকপক্ষের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

ঘটনার পর বাল্কহেডের মালিকপক্ষ কোস্ট গার্ডের জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এ বিষয়টি জানায়। তথ্যের ভিত্তিতে ১৩ মার্চ রাত ১টার দিকে কোস্ট গার্ড স্টেশন সন্দ্বীপের একটি দল ওই এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালায়। কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে দুষ্কৃতকারীরা পালিয়ে যায়। পরে জিম্মি থাকা চারজনসহ বাল্কহেডটি উদ্ধার করে চট্টগ্রাম সি-বিচ এলাকায় নিয়ে আসা হয় এবং মালিকপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

অন্যদিকে, ১৩ মার্চ সকাল ৮টার দিকে এমভি তায়েবা জাহাজের মাস্টার মো. কাশেম কোস্ট গার্ডের জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এ ফোন করে জানান, নারায়ণগঞ্জের মেঘনা নদীর বৈদ্যেরবাজার সংলগ্ন এলাকায় কিছু চাঁদাবাজ জাহাজের ক্রুদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায় করছে। প্রতিদিন প্রায় ১০০টি জাহাজ সেখানে নোঙর করে এবং তাদের কাছ থেকে আনুমানিক ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়।

খবর পেয়ে কোস্ট গার্ড স্টেশন গজারিয়ার একটি দল তাৎক্ষণিক অভিযান চালায়। কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে চাঁদাবাজরা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। এরপর থেকে ওই এলাকায় কোস্ট গার্ডের নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। ফলে লাইটার জাহাজসহ অন্যান্য নৌযান বর্তমানে নির্বিঘ্নে চলাচল করছে।

কোস্ট গার্ড জানায়, সংশ্লিষ্ট এলাকায় অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, নদীপথ, উপকূলীয় ও সমুদ্র এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, চাঁদাবাজি প্রতিরোধ এবং অন্যান্য অপরাধ দমনে তাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

নদীপথে ডাকাতি ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধে কোস্ট গার্ডের সাঁড়াশি অভিযান

আপডেট: ০৫:১৩:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,সোনালী খবর

নদীপথে ডাকাতি ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধে অভিযান পরিচালনা করে একটি বাল্কহেডসহ জিম্মি থাকা চারজনকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের মেঘনা নদীর বৈদ্যেরবাজার এলাকায় চাঁদাবাজি বন্ধে অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, গত ১২ মার্চ সন্ধ্যা ৬টার দিকে সন্দ্বীপ থেকে ‘চার তাওফিল’ নামের একটি বাল্কহেড চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। বাল্কহেডটি গুপ্তছড়া সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে একদল সশস্ত্র ডাকাত হামলা চালায়। এ সময় তারা বাল্কহেডে থাকা চারজনকে জিম্মি করে নৌযানটি ছিনিয়ে নেয়। পরে বাল্কহেডের সুকানির মোবাইল ফোন ব্যবহার করে মালিকপক্ষের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

ঘটনার পর বাল্কহেডের মালিকপক্ষ কোস্ট গার্ডের জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এ বিষয়টি জানায়। তথ্যের ভিত্তিতে ১৩ মার্চ রাত ১টার দিকে কোস্ট গার্ড স্টেশন সন্দ্বীপের একটি দল ওই এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালায়। কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে দুষ্কৃতকারীরা পালিয়ে যায়। পরে জিম্মি থাকা চারজনসহ বাল্কহেডটি উদ্ধার করে চট্টগ্রাম সি-বিচ এলাকায় নিয়ে আসা হয় এবং মালিকপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

অন্যদিকে, ১৩ মার্চ সকাল ৮টার দিকে এমভি তায়েবা জাহাজের মাস্টার মো. কাশেম কোস্ট গার্ডের জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এ ফোন করে জানান, নারায়ণগঞ্জের মেঘনা নদীর বৈদ্যেরবাজার সংলগ্ন এলাকায় কিছু চাঁদাবাজ জাহাজের ক্রুদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায় করছে। প্রতিদিন প্রায় ১০০টি জাহাজ সেখানে নোঙর করে এবং তাদের কাছ থেকে আনুমানিক ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়।

খবর পেয়ে কোস্ট গার্ড স্টেশন গজারিয়ার একটি দল তাৎক্ষণিক অভিযান চালায়। কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে চাঁদাবাজরা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। এরপর থেকে ওই এলাকায় কোস্ট গার্ডের নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। ফলে লাইটার জাহাজসহ অন্যান্য নৌযান বর্তমানে নির্বিঘ্নে চলাচল করছে।

কোস্ট গার্ড জানায়, সংশ্লিষ্ট এলাকায় অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, নদীপথ, উপকূলীয় ও সমুদ্র এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, চাঁদাবাজি প্রতিরোধ এবং অন্যান্য অপরাধ দমনে তাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।