০৩:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

নিখোঁজের ৪৫ দিন পর ফিরল মালয়েশিয়ায় জিম্মি দুই কিশোর, ধরা পড়ল পাচারচক্র

  • আপডেট: ০১:২৬:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
  • / ১৮০২৭

নিজস্ব প্রতিবেদক,সোনালী খবর

নিখোঁজের ৪৫ দিন পর মালয়েশিয়ায় পাচার হয়ে জিম্মি থাকা দুই কিশোরকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে পুলিশ। একই ঘটনায় জড়িত একটি আন্তঃজেলা ও আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের মূলহোতাসহ একাধিক সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) মো. আমিরুল ইসলাম।

পুলিশ জানায়, চান্দগাঁও থানার মৌলভীপুকুরপাড় এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মান্নান ও জনির ছেলে সোহান (১৭) এবং ইসমাইল ওরফে সাগর (১৬) স্থানীয় একটি গ্যারেজে কাজ করতেন। গত ১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে তারা নিখোঁজ হন। পরে পরিবারের সদস্যরা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, দুই কিশোরকে মালয়েশিয়ায় পাচার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ২৬ ফেব্রুয়ারি চান্দগাঁও থানায় মানব পাচার আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার তদন্তে নেমে চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নেতৃত্বে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জায়েদ আব্দুল্লাহ বিন ছরওয়ার প্রথমে চট্টগ্রাম থেকে আব্দুল কাদের মামুন ও ইয়াছিন আরাফাতকে গ্রেফতার করেন। পরে পৃথক অভিযানে চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ এলাকা থেকে মিলন এবং কক্সবাজারের উখিয়া থেকে মোস্তফাকে আটক করা হয়।

গ্রেফতার মোস্তফা জিজ্ঞাসাবাদে মালয়েশিয়াভিত্তিক পাচারচক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন।

তার দেওয়া তথ্য ও গোয়েন্দা সূত্রের ভিত্তিতে পুলিশ কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালায়। পুলিশের তৎপরতা ও চাপের মুখে পাচারচক্রটি নিজেদের রক্ষার্থে দুই কিশোরকে মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরত পাঠাতে বাধ্য হয়।

পরবর্তীতে গত ১৭ মার্চ ভোরে টেকনাফের বড়ইতলী পাহাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে রোহিঙ্গা তিন সদস্য—সাব মিয়া (৩৫), শাহ আলম (৩৫) ও মোহাম্মদ হোসেন (৪১)—কে গ্রেফতার করা হয়। তাদের হেফাজত থেকেই সোহান ও ইসমাইলকে উদ্ধার করে পুলিশ নিজেদের জিম্মায় নেয়।

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া দুই কিশোর বর্তমানে নিরাপদে রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত পুরো পাচারচক্রের নেটওয়ার্ক শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

নিখোঁজের ৪৫ দিন পর ফিরল মালয়েশিয়ায় জিম্মি দুই কিশোর, ধরা পড়ল পাচারচক্র

আপডেট: ০১:২৬:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,সোনালী খবর

নিখোঁজের ৪৫ দিন পর মালয়েশিয়ায় পাচার হয়ে জিম্মি থাকা দুই কিশোরকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে পুলিশ। একই ঘটনায় জড়িত একটি আন্তঃজেলা ও আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের মূলহোতাসহ একাধিক সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) মো. আমিরুল ইসলাম।

পুলিশ জানায়, চান্দগাঁও থানার মৌলভীপুকুরপাড় এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মান্নান ও জনির ছেলে সোহান (১৭) এবং ইসমাইল ওরফে সাগর (১৬) স্থানীয় একটি গ্যারেজে কাজ করতেন। গত ১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে তারা নিখোঁজ হন। পরে পরিবারের সদস্যরা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, দুই কিশোরকে মালয়েশিয়ায় পাচার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ২৬ ফেব্রুয়ারি চান্দগাঁও থানায় মানব পাচার আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার তদন্তে নেমে চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নেতৃত্বে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জায়েদ আব্দুল্লাহ বিন ছরওয়ার প্রথমে চট্টগ্রাম থেকে আব্দুল কাদের মামুন ও ইয়াছিন আরাফাতকে গ্রেফতার করেন। পরে পৃথক অভিযানে চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ এলাকা থেকে মিলন এবং কক্সবাজারের উখিয়া থেকে মোস্তফাকে আটক করা হয়।

গ্রেফতার মোস্তফা জিজ্ঞাসাবাদে মালয়েশিয়াভিত্তিক পাচারচক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন।

তার দেওয়া তথ্য ও গোয়েন্দা সূত্রের ভিত্তিতে পুলিশ কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালায়। পুলিশের তৎপরতা ও চাপের মুখে পাচারচক্রটি নিজেদের রক্ষার্থে দুই কিশোরকে মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরত পাঠাতে বাধ্য হয়।

পরবর্তীতে গত ১৭ মার্চ ভোরে টেকনাফের বড়ইতলী পাহাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে রোহিঙ্গা তিন সদস্য—সাব মিয়া (৩৫), শাহ আলম (৩৫) ও মোহাম্মদ হোসেন (৪১)—কে গ্রেফতার করা হয়। তাদের হেফাজত থেকেই সোহান ও ইসমাইলকে উদ্ধার করে পুলিশ নিজেদের জিম্মায় নেয়।

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া দুই কিশোর বর্তমানে নিরাপদে রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত পুরো পাচারচক্রের নেটওয়ার্ক শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।