পল্লবীতে মাঠ দখল ও মেলা ঘিরে বিতর্ক, প্রশ্নবিদ্ধ প্রশাসনের ভূমিকা
- আপডেট: ০১:৪৫:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
- / ১৮০১৪
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
পল্লবীতে প্লট-কাম-মাঠ নিয়ে পুরোনো অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে—দখল বদলায়,কিন্তু অভিযোগের ধরন বদলায় না—এমনটাই বলছেন স্থানীয়রা।
পল্লবী থানার নতুন ওসি আসার পর প্রশ্নটা এখন সবার—এই তথাকথিত “মেলা” কি থামবে, নাকি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে?
প্যারিস রোডের এই মাঠটি শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার জন্য খোলা রাখার কথা ছিল। কিন্তু অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র জায়গাটি দখলের চেষ্টা চালিয়ে এখন সেখানে অবৈধ স্থাপনা তুলে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালাচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী,আগে এক ধরনের প্রভাবশালী মহল এই জায়গা থেকে সুবিধা নিয়েছে,এখন নতুন একটি গোষ্ঠী নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। তাদের দাবি—সরকার বা রাজনৈতিক চেহারা বদলালেও দখল আর সুবিধাভোগীদের চক্র একইভাবে সক্রিয় থাকে।
মাঠে মেলা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত হিসেবে “তাহের” নামে এক ব্যক্তির কথা স্থানীয়রা উল্লেখ করছেন। তার দাবি, এই মেলা নাকি ৩নং ওয়ার্ড যুবদলের নেতাকর্মীরা পরিচালনা করছে এবং ডিসি,পল্লবী থানার ওসি বিষয়টি জানেন। এমনকি বিষয়টি আমিনুল হক-এর কাছেও অবগত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে মেলার আড়ালে মাদক বাণিজ্য ও অন্যান্য অপরাধ চলছে—এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি পরে কথা বলে “সমাধান” করার ইঙ্গিত দেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এখানে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা, মাদক বেচাকেনা, শ্লীলতাহানি ও চাঁদাবাজি—সবই প্রকাশ্যে চলছে। গত রমজানেও ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রির অভিযোগ উঠেছিল বড় পরিসরে। এবার আশঙ্কা—এই কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হতে পারে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এসব কিছু কি প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে চলছে, নাকি কোনো ধরনের নীরব সমর্থন রয়েছে? পল্লবী থানার ভূমিকা নিয়েও উঠছে নানা প্রশ্ন।
প্যারিস রোড ও আশপাশের এলাকায় মাদক পরিস্থিতি এখন অনেকটাই “ওপেন সিক্রেট”—বিশেষ করে বিহারি ক্যাম্প এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও পরিস্থিতি কেন নিয়ন্ত্রণে আসছে না, সেটি পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয়দের আরও দাবি, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ার কারণে এই চক্র শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। বিষয়টি গোয়েন্দা সংস্থার নজরেও এসেছে—এমন কথাও শোনা যাচ্ছে।
এখন দেখার বিষয়—নতুন ওসি কি কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে মাঠটি দখলমুক্ত করে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত করবেন, নাকি আগের মতোই সব চলতে থাকবে।




















