০১:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

১৬ হাজার ইয়াবা উদ্ধারের সূত্র ধরে নতুন অভিযান,ধরা পড়ল আরও ৪ কারবারি

  • আপডেট: ০৭:৫৮:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • / ১৮০০৫

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

রাজধানীতে ধারাবাহিক গোয়েন্দা অভিযানে যশোরভিত্তিক একটি সংঘবদ্ধ ইয়াবা পাচারকারী চক্রের আরও চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৪ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা,মাদক বিক্রির ১ লাখ ১০ হাজার টাকা,চারটি মোবাইল ফোন ও দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। পূর্বের ১৬ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেফতার বাবুর তথ্যানুসারে এ অভিযান পরিচালনা করে ডিএনসি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে ডিএনসির বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোস্তাক আহমেদ এই তথ্য জানিয়েছেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- প্রিন্স মাহমুদ (৩৭), মনিরা বেগম মিষ্টি (৩০), জহিরুল হক তুহিন (৩২) ও জলি বেগম (২০)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে ডিএনসি।

ডিএনসি জানায়, গত ৯ জুন রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় বিশেষ অভিযানে ১৬ হাজার পিস ইয়াবাসহ দক্ষিণাঞ্চলের কথিত মাদক কারবারি মো. বাবুল হোসেন ওরফে বাবুকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ, গোয়েন্দা প্রধান অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ বদরুদ্দীনের নেতৃত্বে তথ্য বিশ্লেষণ এবং দীর্ঘ নজরদারির মাধ্যমে তার মাদক পাচার নেটওয়ার্কের অন্যান্য সদস্যদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিএনসি জানতে পারে, যশোরভিত্তিক একটি চক্র ঢাকায় ইয়াবার চালান সংগ্রহ করে মোটরসাইকেলে করে যশোরে নিয়ে যাবে। এ তথ্যের ভিত্তিতে ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মোস্তাক আহমেদের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল অভিযান পরিচালনা করে।

গত ৬ জুলাই রাতে রাজধানীর শ্যামপুর থানার ধোলাইপাড় এলাকায় সন্দেহভাজন দুটি মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় প্রিন্স মাহমুদ (৩৭), মনিরা বেগম মিষ্টি (৩০), জহিরুল হক তুহিন (৩২) ও জলি বেগমকে (২০) গ্রেফতার করা হয়।

তাদের কাছ থেকে ১৪ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা, ১ লাখ ১০ হাজার টাকা, চারটি মোবাইল ফোন এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

তদন্তে জানা গেছে, তারা ঢাকায় ইয়াবার চালান সংগ্রহ করে মোটরসাইকেলের মাধ্যমে যশোরে নিয়ে বিভিন্ন কারবারির কাছে সরবরাহ করতেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে তারা প্রচলিত পরিবহনের পরিবর্তে মোটরসাইকেল ব্যবহার করতেন। এছাড়া তাদের মধ্যে পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক হিসেবে তারা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত চারজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় শ্যামপুর থানায় মামলা করা হয়েছে। চক্রটির অন্য সদস্য, অর্থদাতা ও সহযোগীদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএনসি।

সংস্থাটি জানায়, ইয়াবাসহ সব ধরনের অবৈধ মাদকের বিস্তার রোধে রাজধানীসহ সারা দেশে গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

১৬ হাজার ইয়াবা উদ্ধারের সূত্র ধরে নতুন অভিযান,ধরা পড়ল আরও ৪ কারবারি

আপডেট: ০৭:৫৮:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

রাজধানীতে ধারাবাহিক গোয়েন্দা অভিযানে যশোরভিত্তিক একটি সংঘবদ্ধ ইয়াবা পাচারকারী চক্রের আরও চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৪ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা,মাদক বিক্রির ১ লাখ ১০ হাজার টাকা,চারটি মোবাইল ফোন ও দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। পূর্বের ১৬ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেফতার বাবুর তথ্যানুসারে এ অভিযান পরিচালনা করে ডিএনসি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে ডিএনসির বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোস্তাক আহমেদ এই তথ্য জানিয়েছেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- প্রিন্স মাহমুদ (৩৭), মনিরা বেগম মিষ্টি (৩০), জহিরুল হক তুহিন (৩২) ও জলি বেগম (২০)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে ডিএনসি।

ডিএনসি জানায়, গত ৯ জুন রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় বিশেষ অভিযানে ১৬ হাজার পিস ইয়াবাসহ দক্ষিণাঞ্চলের কথিত মাদক কারবারি মো. বাবুল হোসেন ওরফে বাবুকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ, গোয়েন্দা প্রধান অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ বদরুদ্দীনের নেতৃত্বে তথ্য বিশ্লেষণ এবং দীর্ঘ নজরদারির মাধ্যমে তার মাদক পাচার নেটওয়ার্কের অন্যান্য সদস্যদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিএনসি জানতে পারে, যশোরভিত্তিক একটি চক্র ঢাকায় ইয়াবার চালান সংগ্রহ করে মোটরসাইকেলে করে যশোরে নিয়ে যাবে। এ তথ্যের ভিত্তিতে ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মোস্তাক আহমেদের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল অভিযান পরিচালনা করে।

গত ৬ জুলাই রাতে রাজধানীর শ্যামপুর থানার ধোলাইপাড় এলাকায় সন্দেহভাজন দুটি মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় প্রিন্স মাহমুদ (৩৭), মনিরা বেগম মিষ্টি (৩০), জহিরুল হক তুহিন (৩২) ও জলি বেগমকে (২০) গ্রেফতার করা হয়।

তাদের কাছ থেকে ১৪ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা, ১ লাখ ১০ হাজার টাকা, চারটি মোবাইল ফোন এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

তদন্তে জানা গেছে, তারা ঢাকায় ইয়াবার চালান সংগ্রহ করে মোটরসাইকেলের মাধ্যমে যশোরে নিয়ে বিভিন্ন কারবারির কাছে সরবরাহ করতেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে তারা প্রচলিত পরিবহনের পরিবর্তে মোটরসাইকেল ব্যবহার করতেন। এছাড়া তাদের মধ্যে পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক হিসেবে তারা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত চারজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় শ্যামপুর থানায় মামলা করা হয়েছে। চক্রটির অন্য সদস্য, অর্থদাতা ও সহযোগীদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএনসি।

সংস্থাটি জানায়, ইয়াবাসহ সব ধরনের অবৈধ মাদকের বিস্তার রোধে রাজধানীসহ সারা দেশে গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।