১১:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬

দুবাইয়ের কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেলেন সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ

  • আপডেট: ০৫:৫৮:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৮০০৫

অনলাইন ডেস্ক,সোনালী খবর

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাইয়ে কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। গত সোমবার (২৭ জুলাই) দুবাইয়ের একটি আদালত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। পরবর্তী আইনি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) তিনি কারামুক্ত হন।

কারামুক্তির পর একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে বেনজীর আহমেদ জানান, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তিনি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জামিনে মুক্ত হয়েছেন এবং বর্তমানে শারীরিকভাবে সুস্থ রয়েছেন। তবে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম বা ভবিষ্যৎ আইনি পদক্ষেপ নিয়ে এই মুহূর্তে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।

দুবাইয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বেনজীর আহমেদের জামিনের ক্ষেত্রে আদালত কয়েকটি শর্ত আরোপ করেছেন। শর্ত অনুযায়ী, তার পাসপোর্ট আদালতের হেফাজতে থাকবে এবং আদালতের পূর্বানুমতি ছাড়া তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন না।

এছাড়া মামলার শুনানিসহ আদালতের যেকোনো নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে বলেও জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রত্যর্পণসংক্রান্ত নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে দুবাইয়ের আদালতে উভয় পক্ষের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত শর্তসাপেক্ষে তাকে জামিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

তবে এ বিষয়ে দুবাই কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি। বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারাও বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়। দুবাই পুলিশের সহায়তায় এবং আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে আটক করা হয়।

গত ১২ জুন দুবাই পুলিশ এক চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে তার গ্রেফতারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করে।

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে একাধিক মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

অভিযোগগুলোর তদন্তের অংশ হিসেবে দেশ-বিদেশে তার সম্পদ ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে অনুসন্ধান শুরু হয়। তদন্ত চলাকালে তিনি দেশ ত্যাগ করেন। পরে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয় এবং আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার এবং র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে দীর্ঘ সময় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকার কারণে তিনি দেশের অন্যতম আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

২০২১ সালের ডিসেম্বরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র র‌্যাবের সাতজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ওই তালিকায় বেনজীর আহমেদের নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

২০২১ সালের ডিসেম্বরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র র‌্যাবের সাতজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ওই তালিকায় বেনজীর আহমেদের নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে এলে দুদক আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা, সম্পদ জব্দের উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক আইনি সহযোগিতার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

বর্তমানে তিনি দুবাইয়ে জামিনে মুক্ত থাকলেও মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা এবং বাংলাদেশ সরকারের প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত আইনি উদ্যোগের ওপর তার ভবিষ্যৎ অবস্থান নির্ভর করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

দুবাইয়ের কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেলেন সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ

আপডেট: ০৫:৫৮:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক,সোনালী খবর

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাইয়ে কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। গত সোমবার (২৭ জুলাই) দুবাইয়ের একটি আদালত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। পরবর্তী আইনি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) তিনি কারামুক্ত হন।

কারামুক্তির পর একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে বেনজীর আহমেদ জানান, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তিনি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জামিনে মুক্ত হয়েছেন এবং বর্তমানে শারীরিকভাবে সুস্থ রয়েছেন। তবে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম বা ভবিষ্যৎ আইনি পদক্ষেপ নিয়ে এই মুহূর্তে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।

দুবাইয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বেনজীর আহমেদের জামিনের ক্ষেত্রে আদালত কয়েকটি শর্ত আরোপ করেছেন। শর্ত অনুযায়ী, তার পাসপোর্ট আদালতের হেফাজতে থাকবে এবং আদালতের পূর্বানুমতি ছাড়া তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন না।

এছাড়া মামলার শুনানিসহ আদালতের যেকোনো নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে বলেও জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রত্যর্পণসংক্রান্ত নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে দুবাইয়ের আদালতে উভয় পক্ষের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত শর্তসাপেক্ষে তাকে জামিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

তবে এ বিষয়ে দুবাই কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি। বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারাও বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়। দুবাই পুলিশের সহায়তায় এবং আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে আটক করা হয়।

গত ১২ জুন দুবাই পুলিশ এক চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে তার গ্রেফতারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করে।

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে একাধিক মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

অভিযোগগুলোর তদন্তের অংশ হিসেবে দেশ-বিদেশে তার সম্পদ ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে অনুসন্ধান শুরু হয়। তদন্ত চলাকালে তিনি দেশ ত্যাগ করেন। পরে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয় এবং আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার এবং র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে দীর্ঘ সময় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকার কারণে তিনি দেশের অন্যতম আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

২০২১ সালের ডিসেম্বরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র র‌্যাবের সাতজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ওই তালিকায় বেনজীর আহমেদের নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

২০২১ সালের ডিসেম্বরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র র‌্যাবের সাতজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ওই তালিকায় বেনজীর আহমেদের নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে এলে দুদক আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা, সম্পদ জব্দের উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক আইনি সহযোগিতার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

বর্তমানে তিনি দুবাইয়ে জামিনে মুক্ত থাকলেও মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা এবং বাংলাদেশ সরকারের প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত আইনি উদ্যোগের ওপর তার ভবিষ্যৎ অবস্থান নির্ভর করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।