আশুলিয়ায় তালাবদ্ধ কক্ষে গলাকাটা মরদেহ,ফিঙ্গারপ্রিন্টে মিলল পরিচয়,গ্রেফতার ১
- আপডেট: ০৫:৫৫:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৮০০৩
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
আশুলিয়ায় তালাবদ্ধ একটি কক্ষ থেকে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির পচনধরা গলাকাটা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিহতের পরিচয় ও হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় মো. আল-আমিন নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে নিহতের মোবাইল ফোন এবং হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিও উদ্ধার করেছে পিবিআই।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর উত্তরা এলাকায় পিবিআই ঢাকা জেলা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, গত ১৬ আগস্ট আশুলিয়া থানার বাসাইদ এলাকায় রাজু সিটির সামনে আমির আলীর ভাড়া দেওয়া একটি কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে বাড়ির মালিক তাহেরুন্নেসা পুলিশকে খবর দেন। পরে আশুলিয়া থানা-পুলিশ তালা ভেঙে ওই কক্ষ থেকে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির পচনধরা মরদেহ উদ্ধার করে।
খবর পেয়ে পিবিআই ঢাকা জেলার ক্রাইমসিন দল ঘটনাস্থলে যায়। পরে ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। নিহত ব্যক্তি খুলনার তেরখাদা উপজেলার নয়াবরসাত এলাকার বাসিন্দা মো. কামরুল খান (৪৪)। তার বাবার নাম মৃত করিম খান।
এ ঘটনায় নিহতের মামাতো ভাই মো. জামিল শেখ বাদী হয়ে ১৭ আগস্ট আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। একই দিন পিবিআই ঢাকা জেলা স্বউদ্যোগে মামলাটির তদন্তভার নেয়। মামলাটি তদন্ত করছেন পুলিশ পরিদর্শক মো. জামাল উদ্দীন।
পিবিআই জানায়, তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তা নেওয়া হয়। পিবিআই খুলনার সহযোগিতায় ১৭ আগস্ট খুলনার তেরখাদা এলাকা থেকে মামলার আসামি আল-আমিনকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর হেফাজত থেকে নিহত কামরুলের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আশুলিয়ার ওই কক্ষের বাথরুমের প্যানের ভেতর থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে পিবিআই জানায়, নিহত কামরুল ও আল-আমিন খুলনার তেরখাদা এলাকার বাসিন্দা। ছোটবেলা থেকেই তাঁদের পরিচয় ছিল। কাজের সন্ধানে গত ৮ আগস্ট তাঁরা খুলনা থেকে আশুলিয়ায় আসেন। পরে একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে রাজমিস্ত্রির কাজ শুরু করেন।
পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৪ আগস্ট রাতে কাজের টাকা শেষ হয়ে যাওয়ার পর আল-আমিন কামরুলের কাছে টাকা চান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে কামরুল সবজি কাটার ছুরি নিয়ে আল-আমিনকে আঘাত করতে উদ্যত হলে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। তখন আল-আমিন ছুরিটি কেড়ে নিয়ে কামরুলের গলায় আঘাত করেন। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
পরে আল-আমিন হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিটি বাথরুমের প্যানে ফেলে দেন। এরপর কক্ষটিতে তালা লাগিয়ে তিনি খুলনায় চলে যান বলে পিবিআই জানিয়েছে।
পিবিআই আরও জানায়, কক্ষটি ভাড়া দেওয়ার সময় বাড়ির মালিক ভাড়াটেদের কোনো পরিচয়পত্র বা মোবাইল নম্বর সংরক্ষণ করেননি। ফলে প্রাথমিকভাবে নিহত ব্যক্তি ও সম্ভাব্য আসামি সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই নিহতের পরিচয় এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
মামলার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।



















