২৫৫ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
- আপডেট: ০৬:৫৩:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৮০০৭
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর জাতীয় সংসদে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এতোদিন দলটির মহাসচিব পদে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকাল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গণনা শেষে মির্জা ফখরুলকে বিজয়ী ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
সিইসি বলেন, বৈধ বেলট পেপারের মধ্যে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমেদ পেয়েছেন ৮৮টি ভোট। এ ছাড়া বিএনপি মনোনীত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫টি ভোট পেয়েছেন।
এর আগে একই দিন দুপুর ২টা থেকে সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এরপর প্রথমেই ভোট দেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম), প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিএনপি মনোনীত রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। পরে বিকাল ৫টা পর্যন্ত একে একে সংসদ সদস্যরা নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগামী শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে শপথ নেবেন বলে জানিয়েছেন সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।
১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর ওই বছরই সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর টানা সাতজন রাষ্ট্রপতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এবার দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্যরা ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করছেন।
নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের জাতীয় রাজনীতিতে বড় নির্বাচনী সাফল্য আসে ২০০১ সালে। ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে খালেদা জিয়ার সরকারের কৃষি প্রতিমন্ত্রী এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৯ সালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হওয়ার পর তিনি বিরোধী দলের অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন। ২০১১ সালে তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলওয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর মির্জা ফখরুল ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান। ২০১৬ সালের জাতীয় সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির মহাসচিব নির্বাচিত হন।
এরপর দীর্ঘ সময় রাজপথের আন্দোলন, মামলা ও কারাবাস তার রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। আন্দোলন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তাকে একাধিকবার গ্রেফতার ও কারাবরণ করতে হয়েছে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, বিরোধী দলের নেতৃত্ব এবং দলীয় রাজনীতির নানা সংকট পেরিয়ে এবার রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে বসছেন মির্জা ফখরুল। রাজপথের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে তার এই যাত্রা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের অধ্যায় হয়ে থাকল।




















