০৮:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এনসিটিবিতে ফের সক্রিয় শেখ বেলাল ওরফে ‘নয়া দরবেশ’: লটপ্রতি ঘুষের অভিযোগ

  • আপডেট: ০৮:৩৪:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৮০০২

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) পাঠ্যপুস্তক মান নিয়ন্ত্রণে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে

বিতর্কিত ও দুর্নীতিবাজ শেখ বেলালের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইনস্পেকশন সার্ভিসেস বিডি’। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তক মান নিয়ন্ত্রণের জন্য পরিদর্শক সংস্থা (ইনস্পেকশন এজেন্ট) হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অনিয়ম ও প্রকাশ্য ঘুষ দাবির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কাজ শুরুর শুরুতেই পরিদর্শনের নামে নিদিষ্ট ২টি প্রেসের মালিকের কাছে লটপ্রতি ২ লাখ টাকা এবং অগ্রিম ৪ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। টাকা না দিলে প্রেসে মাননিয়ন্ত্রণের বাহানায় নানাভাবে হয়রানি করা হবে বলে সরাসরি হুমকি দেওয়া হচ্ছে। শেখ বেলালের ভাগিনা এবং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইনস্পেকশন সার্ভিসেসের প্রজেক্ট ম্যানেজার আবীর হোসেন হৃদয় মূলত এই অর্থ দাবি ও হুমকি-ধামকির বিষয়টি সরাসরি তদারকি করছেন। এমনকি শেখ বেলাল নিজের ঘুষ বাণিজ্য নির্বিঘ্ন রাখতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রিন্টার্সদের জানিয়ে দিয়েছেন, সকল প্রকার যোগাযোগ ও লেনদেন যেন আবীর হোসেন হৃদয়ের মাধ্যমেই অব্যাহত রাখা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২০ শিক্ষাবর্ষে এনসিটিবিতে দুর্নীতির দায়ে চাকরিচ্যুত হন এই শেখ বেলাল। চাকরি হারানোর পর তিনি নিজেই একটি ইনস্পেকশন এজেন্সি খুলে বসেন এবং পরিদর্শনের আড়ালে দুর্নীতির একচ্ছত্র লাইসেন্স গড়ে তোলেন। এই দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি গত কয়েক বছরে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অবৈধ উপায়ে উপার্জিত এই অর্থ দিয়ে ঢাকার অভিজাত ও বিলাসবহুল এলাকায় গড়ে তুলেছেন দুটি দৃষ্টিনন্দন বাড়ি। ধর্মীয় পোশাক টুপি, দাড়ি ও সুন্নতি লেবাসের আড়ালে তিনি পরিদর্শনের নামে বিভিন্ন প্রিন্টার্সদের জিম্মি করে দুর্নীতির মহোৎসব চালিয়ে যাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, নিজ এলাকায় মাদ্রাসার দোহাই দিয়ে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ চাঁদা আদায় করে গ্রামের বাড়িতেও নির্মাণ করেছেন বিশাল ৩ তলা বিলাসবহুল ভবন। বিগত ২০২১, ২০২২ এবং ২০২৩ শিক্ষাবর্ষেও পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও মান নিয়ন্ত্রণে এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি ও অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগ উঠেছিল। এতো বিতর্ক ও দুর্নীতির রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও রহস্যজনকভাবে এনসিটিবির গুরুত্বপূর্ণ মান নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ায় পুনরায় এই সংস্থাকে যুক্ত করায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মুদ্রণ শিল্পের মালিকরা। এ বিষয়ে এনসিটিবির চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন। তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, “যেকোনো ধরনের অনৈতিক লেনদেন বা অনিয়মের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলেই ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইনস্পেকশন সার্ভিসেস’-এর চুক্তি তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করা হবে। এনসিটিবি কোনো অবস্থাতেই কোনো ব্যক্তির দুর্নীতির দায়ভার গ্রহণ করবে না”।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এনসিটিবিতে ফের সক্রিয় শেখ বেলাল ওরফে ‘নয়া দরবেশ’: লটপ্রতি ঘুষের অভিযোগ

আপডেট: ০৮:৩৪:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) পাঠ্যপুস্তক মান নিয়ন্ত্রণে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে

বিতর্কিত ও দুর্নীতিবাজ শেখ বেলালের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইনস্পেকশন সার্ভিসেস বিডি’। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তক মান নিয়ন্ত্রণের জন্য পরিদর্শক সংস্থা (ইনস্পেকশন এজেন্ট) হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অনিয়ম ও প্রকাশ্য ঘুষ দাবির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কাজ শুরুর শুরুতেই পরিদর্শনের নামে নিদিষ্ট ২টি প্রেসের মালিকের কাছে লটপ্রতি ২ লাখ টাকা এবং অগ্রিম ৪ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। টাকা না দিলে প্রেসে মাননিয়ন্ত্রণের বাহানায় নানাভাবে হয়রানি করা হবে বলে সরাসরি হুমকি দেওয়া হচ্ছে। শেখ বেলালের ভাগিনা এবং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইনস্পেকশন সার্ভিসেসের প্রজেক্ট ম্যানেজার আবীর হোসেন হৃদয় মূলত এই অর্থ দাবি ও হুমকি-ধামকির বিষয়টি সরাসরি তদারকি করছেন। এমনকি শেখ বেলাল নিজের ঘুষ বাণিজ্য নির্বিঘ্ন রাখতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রিন্টার্সদের জানিয়ে দিয়েছেন, সকল প্রকার যোগাযোগ ও লেনদেন যেন আবীর হোসেন হৃদয়ের মাধ্যমেই অব্যাহত রাখা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২০ শিক্ষাবর্ষে এনসিটিবিতে দুর্নীতির দায়ে চাকরিচ্যুত হন এই শেখ বেলাল। চাকরি হারানোর পর তিনি নিজেই একটি ইনস্পেকশন এজেন্সি খুলে বসেন এবং পরিদর্শনের আড়ালে দুর্নীতির একচ্ছত্র লাইসেন্স গড়ে তোলেন। এই দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি গত কয়েক বছরে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অবৈধ উপায়ে উপার্জিত এই অর্থ দিয়ে ঢাকার অভিজাত ও বিলাসবহুল এলাকায় গড়ে তুলেছেন দুটি দৃষ্টিনন্দন বাড়ি। ধর্মীয় পোশাক টুপি, দাড়ি ও সুন্নতি লেবাসের আড়ালে তিনি পরিদর্শনের নামে বিভিন্ন প্রিন্টার্সদের জিম্মি করে দুর্নীতির মহোৎসব চালিয়ে যাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, নিজ এলাকায় মাদ্রাসার দোহাই দিয়ে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ চাঁদা আদায় করে গ্রামের বাড়িতেও নির্মাণ করেছেন বিশাল ৩ তলা বিলাসবহুল ভবন। বিগত ২০২১, ২০২২ এবং ২০২৩ শিক্ষাবর্ষেও পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও মান নিয়ন্ত্রণে এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি ও অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগ উঠেছিল। এতো বিতর্ক ও দুর্নীতির রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও রহস্যজনকভাবে এনসিটিবির গুরুত্বপূর্ণ মান নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ায় পুনরায় এই সংস্থাকে যুক্ত করায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মুদ্রণ শিল্পের মালিকরা। এ বিষয়ে এনসিটিবির চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন। তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, “যেকোনো ধরনের অনৈতিক লেনদেন বা অনিয়মের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলেই ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইনস্পেকশন সার্ভিসেস’-এর চুক্তি তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করা হবে। এনসিটিবি কোনো অবস্থাতেই কোনো ব্যক্তির দুর্নীতির দায়ভার গ্রহণ করবে না”।