০২:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জালিয়াতি মামলার আসামি, তবুও বহাল তবিয়তে ডেসকোর এমডি, চুক্তি নবায়নের তোড়জোড় !

  • আপডেট: ০৯:০২:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৮০০৮

নিজস্ব প্রতিবেদন,ঢাকা

দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় থেকে সুবিধা নিলেও, গণঅভ্যুত্থানে আ’লীগ সরকার পতনের পর আবারও পাল্টে ফেলেছেন খোলস। মোটা অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে রাজধানীর বিদ্যুৎ বিতরণী কোম্পানি ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (ডেসকো) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে পদ ভাগিয়ে নিয়েছেন ফ্যাসিস্ট দোসর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামীম আহমেদ।

গত ২৯ অক্টোবর, ২০২৪ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স-১ অধিশাখার উপসচিব মাসুদা খাতুন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপণে নিয়োগ দেওয়া হয় আওয়ামী লীগের পৃষ্ঠপোষকতায় চাকুরী নেওয়া ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামীম আহমেদ।

বিগত কয়েক বছর সরকারী প্রতিষ্ঠানটি লোকসানে আছে, যার মূলকারণ বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে ব্যাপক লাগামহীন দুর্নীতি ও লুটপাট। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়েও প্রতিষ্ঠানটিতে পরিবর্তনের তেমন কোনো ছোঁয়া লাগেনি। শীর্ষপর্যায়ের কোনো পরিবর্তন আসেনি।

বিশেষ করে ফ্যাসিস্ট আমলে গঠিত বোর্ডের সুপারিশ প্রাপ্ত হয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামীম আহমেদ প্রাথমিকভাবে যোগদানের তারিখ হতে ০২ (দুই) বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান, যদিও তিনি ডেসকো কর্তৃক এমডি নিয়োগ তালিকায় শর্ট লিস্টে ছিলেন না, সাবেক উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফয়জুল কবির খান এর আনুকূল্যে সুপারিশ পান।

এই শামীম আহমেদ ২০২২ সালের ১৫ই আগস্ট নিজ উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবসে শেখ পরিবারের হয়ে মুজিব স্বরণে দোআ ও মিলাতের আয়োজন করেন, দুস্থদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, তিনি জোরপূর্বক ভূমিদখল ও জালিয়াতি মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী, সি.আর মামলা ০৬/২০২৫, ক্যান্টনমেন্ট থানা, ঢাকা। তার বিরুদ্ধে বিজ্ঞ চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, চট্টগ্রামেও পৃথক দুটি মামলা বিচারাধীন (সি.আর মামলা ৬৮৮/২০২৪ ও সি.আর মামলা ৭০২/২০২৪)।

তিনি নিজে অ্যাসিউর গ্রুপের (আবাসন গ্রুপ) সিইও ছিলেন। উক্ত পদে থেকে ভূমিদস্যূতা ও দখলদারিত্ব করেছেন এবং এখলাস মোল্লা ও ইলিয়াস মোল্লা/সাগুপ্তার ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে নিরীহ সাধারণ ও বিএনপিপন্থীদের ভূমি দখল করতেন। তার ভূমি দখল নিয়ে এশিয়ান টিভি ৪ পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।এছাড়াও বাংলাদেশী জনপ্রিয় সাংবাদিক খালেদ মহিউদ্দিনের উপস্থাপনায় আমেরিকান টেলিভিশন “ঠিকানা”য় বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. তোফায়েল আহমেদ ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামীম আহমেদ কে একজন চিহ্নিত ভূমিদস্যু হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং তিনি কিভাবে ডেসকো এমডি হয়েছেন তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন।
তিনি ডেসকোতে যোগদানের পরেই বিগত ফ্যাসিস্ট পতিত আওয়ামী সরকারের ঘনিষ্ট সহচর, জুলাই বিপ্লব বিরোধী এবং গুপ্ত সংগঠনের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের নিয়ে তাহার নিজস্ব সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। তিনি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সময়ের চিহ্নিত দুর্নীতিগ্রস্থ আওয়ামী লীগপন্থী ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন দিয়েছেন। ফ্যাসিস্টদের নিজ উদ্যোগে পদোন্নতি প্রদান, মিনিস্ট্রির নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ০৪ জন চিহ্নিত ফ্যাসিস্টকে প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি দিয়েছেন । তাদের মধ্যে একজন ২০১৫ সালের ৩১ জানুয়ারি সাবেক তিন বারের সফল প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশানস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিলেন।

তিনি জুলাই বিপ্লব ধারণকারী ও বিএনপিপন্থী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নানাভাবে কোণঠাসা রাখা ও পদোন্নতি বঞ্চিত রেখেছেন, আওয়ামীপন্থীদের পদোন্নতি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কমিশন বাণিজ্য করে ডেসকো এমডি শামীম আহমেদ ও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগপন্থী দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সমন্বয় এবং সহযোগিতায় শেখ রেহানা ও তার পুত্র রেদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি মালিকানাধীন অখ্যাত প্রতিষ্ঠান ‘Oculin Tech BD Ltd’ সাথে করা ‘Smart Prepaid Meter এর সফটওয়ার’ সরবরাহের চুক্তির ১ম ধাপে ১৬৭ কোটি টাকার চুক্তি পর্যায়ক্রমে বাড়তে বাড়তে সেটা ৩৮৫ কোটি হয়। প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত নিম্নমানের পণ্য/সেবা সরবরাহ করে এবং চুক্তি অনুযায়ী কাজ সমাপ্ত না করেই গত আড়াই বছরে ৮০% টাকা তুলে নেয়।

অভিযোগ আছে, ডেসকোতে এমডির ডানহাত হিসেবে পরিচিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামীপন্থী দুর্নীতিবাজ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ সায়েদুর রহমান, যিনি ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট পরবর্তীতে অবৈধ উপায়ে অর্জিত টাকার বিনিময়ে ডেসকোর ফ্যাসিস্ট আওয়ামীপন্থীদের সহায়তায় এবং ডেসকোর এমডি’র একান্ত ইচ্ছায় জোরপূর্বক প্রকল্প পরিচালক হোন (ঢাকাস্থ ডেসকো এলাকায় বৈদ্যুতিক অবকাঠামো সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্প)।

২০২৪, ৫ই আগস্ট পূরবর্তী সময়ে প্রকৌশলী মোহাম্মদ সায়েদুর রহমান ডেসকোর বারিধারা সার্কেল এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ছিলেন, ডেসকোর সবচেয়ে লুক্রেটিভ/লোভনীয় পদায়ন বারিধারা সার্কেল, যেখানে পতিত আওয়ামী সরকারের সময় থেকেই ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তিনি পদায়ন ছিলেন। এখন প্রকৌঃ সায়েদুর নিজেকে বিএনপিপন্থী হিসেবে পরিচয় দেয়!!! কথায় কথায় সাত্তার ভাই (এ বি এম আব্দুস সাত্তার স্যার, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব) ও তুহিন ভাই (প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন) এর ঘনিষ্ঠজন বলে নাম ভাঙ্গায় এবং বিএনপিপন্থী নেতাদের নাম ভাঙ্গিয়ে নানা অপকর্ম করে।

অথচ গত দেড়-দশক নিজেকে আওয়ামী লীগ হিসেবে পরিচয় দিয়েছে, প্রচার করেছে আওয়ামীলীগ সরকারের আমলের সাবেক প্রধান বিচারপতি ওবাইদুল হাসান শাহিন ও সাবেক এমপি রেবেকা মমিন তার পারিবারিক আত্মীয়, ফ্যাসিস্ট সরকারের পলাতক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু তার ঘনিষ্ঠজন, নিজের আপন এক সহোদর মোঃ মোখলেছুর রহমান নেত্রকোণা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার আওয়ামী লীগ সমর্থিত স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, অন্য দুই সহোদর ভাই আওয়ামী লীগ কট্টর সমর্থক।

এছাড়া তার খালাতো ভাই রফিকুল ইসলাম রানা মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, ফুফাতো ভাই আব্দুর রব সবুজ নেত্রকোণা সদর আমতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ডেসকোতে প্রচার করতেন।

নিজেকে শেখ হাসিনা/শেখ মুজিবের চেয়েও বড় আওয়ামী লীগার বলে প্রচার করতেন। বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি কোনো প্রমোশন বঞ্চিত হননি, নিয়মিত সময়ের আগেই প্রমোশন বাগিয়ে নিয়েছেন এবং ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ডেসকো প্রকৌশলীদের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক ০৯(নয়) বার বিদেশ ট্রুর/সফর করেছেন।

তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ হলো, কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে গত জুন-জুলাই মাসে ডেসকো এমডি ও তার ডানহাত হিসেবে পরিচিত প্রকল্প পরিচালক প্রকৌঃ সায়েদুর এবং ডেসকো অর্থ ও হিসাব বিভাগের ডিজিএম মাসুদুর রহমান খান ডেসকোর কোনো নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই প্রকল্পের ১৬০ কোটি টাকা ছাড় প্রদান ও পেমেন্ট করেন। যা ডেসকোতে এখন বহুল আলোচিত ইস্যু।
অবৈধভাবে টাকা পরিশোধ হলেও ফাইল এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। কারণ ডেসকো কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের লোকাল এবং ফরেন পার্টের বিল পরিশোধের পূর্বে অর্থ ও হিসাব বিভাগের মতামত গ্রহণ করার প্রচলন রয়েছে।

এছাড়া ডেসকো বোর্ডের ৪২৬ তম সভায় অনুমোদিত “আর্থিক ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ নীতিমালা-২০২১” এর ধারা ৪.১ (খ) অনুযায়ী ২৫ লক্ষ টাকার অধিক বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী পরিচালক মহোদয়ের প্রত্যয়ন এবং নির্বাহী পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) মহোদয়ের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহোদয়ের সদয় অনুমোদন গ্রহণ করতে হয়, যা সম্প্রতি প্রায় ১৬০ কোটি টাকা পরিশোধের ক্ষেত্রে করা হয়নি এবং সম্পূর্ণ অবৈধভাবে মহা-দুর্নীতিবাজ প্রকৌঃ মোহাম্মদ সায়েদুর রহমান ও ডেসকো ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিলে কমিশন বাণিজ্য করে প্রদান করেছেন। ফাইলটি বর্তমানে ডেসেকার অর্থ ও হিসাব দপ্তরে আছে, এন্ট্রির জন্য।

যদিও নির্বাহী পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) আপত্তির কারণে এটি এন্ট্রি সম্ভব হচ্ছে না। কারণ তিনি অত্যন্ত সৎ ও নিয়ম-নীতি পরায়ন প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা, ফলে তিনি মহা-দুর্নীতিবাজ প্রকৌঃ মোহাম্মদ সায়েদুর রহমান ও ডেসকো ব্যবস্থাপনা পরিচালক এর এই অনৈতিক বিল প্রদানের কাজে সহায়তা করছেন না, যা দাপ্তরিকভাবে যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত।

ডেসকোতে বর্তমানে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মুখে চাউর যে, প্রকল্প পরিচালক প্রকৌঃ সায়েদুর ও প্রধান প্রকৌশলী মঈনুদ্দিন খান সহ পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামীপন্থী দুর্নীতিবাজরা মিলে বিপুল অর্থ বিনিময়ের মাধ্যমে আওয়ামী দোসর ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)র চুক্তি নবায়নে সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন এবং ফ্যাসিস্ট আমলে গঠিত ডেসকো বোর্ড তাকে আরো ৩ বছর চুক্তি নবায়নের সুপারিশ করেছে, যাতে ডেসকোর সকল সৎ ও দেশপ্রেমিক কর্মকর্তা-কর্মচারী মর্মাহত ও বিস্মিত।

ডেসকোর সকল সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাওয়া নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে বিএনপি ব্যাপক জনসমর্থনে যে সরকার গঠন করেছে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান “সবার আগে বাংলাদেশ ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার” প্রত্যয় কে সফল ও জনকল্যাণমুখী করতে দুর্নীতিবাজদের উপযুক্ত তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় এনে দ্রুত পদ থেকে অপসারণ সময়ের দাবী। তাছাড়া বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বিদ্যুৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ডেসকোতে প্রকৃত দেশপ্রেমিক ও সৎ নেতৃত্বের প্রয়োজন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

জালিয়াতি মামলার আসামি, তবুও বহাল তবিয়তে ডেসকোর এমডি, চুক্তি নবায়নের তোড়জোড় !

আপডেট: ০৯:০২:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদন,ঢাকা

দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় থেকে সুবিধা নিলেও, গণঅভ্যুত্থানে আ’লীগ সরকার পতনের পর আবারও পাল্টে ফেলেছেন খোলস। মোটা অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে রাজধানীর বিদ্যুৎ বিতরণী কোম্পানি ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (ডেসকো) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে পদ ভাগিয়ে নিয়েছেন ফ্যাসিস্ট দোসর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামীম আহমেদ।

গত ২৯ অক্টোবর, ২০২৪ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স-১ অধিশাখার উপসচিব মাসুদা খাতুন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপণে নিয়োগ দেওয়া হয় আওয়ামী লীগের পৃষ্ঠপোষকতায় চাকুরী নেওয়া ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামীম আহমেদ।

বিগত কয়েক বছর সরকারী প্রতিষ্ঠানটি লোকসানে আছে, যার মূলকারণ বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে ব্যাপক লাগামহীন দুর্নীতি ও লুটপাট। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়েও প্রতিষ্ঠানটিতে পরিবর্তনের তেমন কোনো ছোঁয়া লাগেনি। শীর্ষপর্যায়ের কোনো পরিবর্তন আসেনি।

বিশেষ করে ফ্যাসিস্ট আমলে গঠিত বোর্ডের সুপারিশ প্রাপ্ত হয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামীম আহমেদ প্রাথমিকভাবে যোগদানের তারিখ হতে ০২ (দুই) বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান, যদিও তিনি ডেসকো কর্তৃক এমডি নিয়োগ তালিকায় শর্ট লিস্টে ছিলেন না, সাবেক উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফয়জুল কবির খান এর আনুকূল্যে সুপারিশ পান।

এই শামীম আহমেদ ২০২২ সালের ১৫ই আগস্ট নিজ উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবসে শেখ পরিবারের হয়ে মুজিব স্বরণে দোআ ও মিলাতের আয়োজন করেন, দুস্থদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, তিনি জোরপূর্বক ভূমিদখল ও জালিয়াতি মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী, সি.আর মামলা ০৬/২০২৫, ক্যান্টনমেন্ট থানা, ঢাকা। তার বিরুদ্ধে বিজ্ঞ চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, চট্টগ্রামেও পৃথক দুটি মামলা বিচারাধীন (সি.আর মামলা ৬৮৮/২০২৪ ও সি.আর মামলা ৭০২/২০২৪)।

তিনি নিজে অ্যাসিউর গ্রুপের (আবাসন গ্রুপ) সিইও ছিলেন। উক্ত পদে থেকে ভূমিদস্যূতা ও দখলদারিত্ব করেছেন এবং এখলাস মোল্লা ও ইলিয়াস মোল্লা/সাগুপ্তার ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে নিরীহ সাধারণ ও বিএনপিপন্থীদের ভূমি দখল করতেন। তার ভূমি দখল নিয়ে এশিয়ান টিভি ৪ পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।এছাড়াও বাংলাদেশী জনপ্রিয় সাংবাদিক খালেদ মহিউদ্দিনের উপস্থাপনায় আমেরিকান টেলিভিশন “ঠিকানা”য় বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. তোফায়েল আহমেদ ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামীম আহমেদ কে একজন চিহ্নিত ভূমিদস্যু হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং তিনি কিভাবে ডেসকো এমডি হয়েছেন তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন।
তিনি ডেসকোতে যোগদানের পরেই বিগত ফ্যাসিস্ট পতিত আওয়ামী সরকারের ঘনিষ্ট সহচর, জুলাই বিপ্লব বিরোধী এবং গুপ্ত সংগঠনের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের নিয়ে তাহার নিজস্ব সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। তিনি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সময়ের চিহ্নিত দুর্নীতিগ্রস্থ আওয়ামী লীগপন্থী ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন দিয়েছেন। ফ্যাসিস্টদের নিজ উদ্যোগে পদোন্নতি প্রদান, মিনিস্ট্রির নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ০৪ জন চিহ্নিত ফ্যাসিস্টকে প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি দিয়েছেন । তাদের মধ্যে একজন ২০১৫ সালের ৩১ জানুয়ারি সাবেক তিন বারের সফল প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশানস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিলেন।

তিনি জুলাই বিপ্লব ধারণকারী ও বিএনপিপন্থী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নানাভাবে কোণঠাসা রাখা ও পদোন্নতি বঞ্চিত রেখেছেন, আওয়ামীপন্থীদের পদোন্নতি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কমিশন বাণিজ্য করে ডেসকো এমডি শামীম আহমেদ ও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগপন্থী দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সমন্বয় এবং সহযোগিতায় শেখ রেহানা ও তার পুত্র রেদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি মালিকানাধীন অখ্যাত প্রতিষ্ঠান ‘Oculin Tech BD Ltd’ সাথে করা ‘Smart Prepaid Meter এর সফটওয়ার’ সরবরাহের চুক্তির ১ম ধাপে ১৬৭ কোটি টাকার চুক্তি পর্যায়ক্রমে বাড়তে বাড়তে সেটা ৩৮৫ কোটি হয়। প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত নিম্নমানের পণ্য/সেবা সরবরাহ করে এবং চুক্তি অনুযায়ী কাজ সমাপ্ত না করেই গত আড়াই বছরে ৮০% টাকা তুলে নেয়।

অভিযোগ আছে, ডেসকোতে এমডির ডানহাত হিসেবে পরিচিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামীপন্থী দুর্নীতিবাজ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ সায়েদুর রহমান, যিনি ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট পরবর্তীতে অবৈধ উপায়ে অর্জিত টাকার বিনিময়ে ডেসকোর ফ্যাসিস্ট আওয়ামীপন্থীদের সহায়তায় এবং ডেসকোর এমডি’র একান্ত ইচ্ছায় জোরপূর্বক প্রকল্প পরিচালক হোন (ঢাকাস্থ ডেসকো এলাকায় বৈদ্যুতিক অবকাঠামো সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্প)।

২০২৪, ৫ই আগস্ট পূরবর্তী সময়ে প্রকৌশলী মোহাম্মদ সায়েদুর রহমান ডেসকোর বারিধারা সার্কেল এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ছিলেন, ডেসকোর সবচেয়ে লুক্রেটিভ/লোভনীয় পদায়ন বারিধারা সার্কেল, যেখানে পতিত আওয়ামী সরকারের সময় থেকেই ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তিনি পদায়ন ছিলেন। এখন প্রকৌঃ সায়েদুর নিজেকে বিএনপিপন্থী হিসেবে পরিচয় দেয়!!! কথায় কথায় সাত্তার ভাই (এ বি এম আব্দুস সাত্তার স্যার, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব) ও তুহিন ভাই (প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন) এর ঘনিষ্ঠজন বলে নাম ভাঙ্গায় এবং বিএনপিপন্থী নেতাদের নাম ভাঙ্গিয়ে নানা অপকর্ম করে।

অথচ গত দেড়-দশক নিজেকে আওয়ামী লীগ হিসেবে পরিচয় দিয়েছে, প্রচার করেছে আওয়ামীলীগ সরকারের আমলের সাবেক প্রধান বিচারপতি ওবাইদুল হাসান শাহিন ও সাবেক এমপি রেবেকা মমিন তার পারিবারিক আত্মীয়, ফ্যাসিস্ট সরকারের পলাতক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু তার ঘনিষ্ঠজন, নিজের আপন এক সহোদর মোঃ মোখলেছুর রহমান নেত্রকোণা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার আওয়ামী লীগ সমর্থিত স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, অন্য দুই সহোদর ভাই আওয়ামী লীগ কট্টর সমর্থক।

এছাড়া তার খালাতো ভাই রফিকুল ইসলাম রানা মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, ফুফাতো ভাই আব্দুর রব সবুজ নেত্রকোণা সদর আমতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ডেসকোতে প্রচার করতেন।

নিজেকে শেখ হাসিনা/শেখ মুজিবের চেয়েও বড় আওয়ামী লীগার বলে প্রচার করতেন। বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি কোনো প্রমোশন বঞ্চিত হননি, নিয়মিত সময়ের আগেই প্রমোশন বাগিয়ে নিয়েছেন এবং ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ডেসকো প্রকৌশলীদের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক ০৯(নয়) বার বিদেশ ট্রুর/সফর করেছেন।

তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ হলো, কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে গত জুন-জুলাই মাসে ডেসকো এমডি ও তার ডানহাত হিসেবে পরিচিত প্রকল্প পরিচালক প্রকৌঃ সায়েদুর এবং ডেসকো অর্থ ও হিসাব বিভাগের ডিজিএম মাসুদুর রহমান খান ডেসকোর কোনো নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই প্রকল্পের ১৬০ কোটি টাকা ছাড় প্রদান ও পেমেন্ট করেন। যা ডেসকোতে এখন বহুল আলোচিত ইস্যু।
অবৈধভাবে টাকা পরিশোধ হলেও ফাইল এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। কারণ ডেসকো কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের লোকাল এবং ফরেন পার্টের বিল পরিশোধের পূর্বে অর্থ ও হিসাব বিভাগের মতামত গ্রহণ করার প্রচলন রয়েছে।

এছাড়া ডেসকো বোর্ডের ৪২৬ তম সভায় অনুমোদিত “আর্থিক ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ নীতিমালা-২০২১” এর ধারা ৪.১ (খ) অনুযায়ী ২৫ লক্ষ টাকার অধিক বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী পরিচালক মহোদয়ের প্রত্যয়ন এবং নির্বাহী পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) মহোদয়ের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহোদয়ের সদয় অনুমোদন গ্রহণ করতে হয়, যা সম্প্রতি প্রায় ১৬০ কোটি টাকা পরিশোধের ক্ষেত্রে করা হয়নি এবং সম্পূর্ণ অবৈধভাবে মহা-দুর্নীতিবাজ প্রকৌঃ মোহাম্মদ সায়েদুর রহমান ও ডেসকো ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিলে কমিশন বাণিজ্য করে প্রদান করেছেন। ফাইলটি বর্তমানে ডেসেকার অর্থ ও হিসাব দপ্তরে আছে, এন্ট্রির জন্য।

যদিও নির্বাহী পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) আপত্তির কারণে এটি এন্ট্রি সম্ভব হচ্ছে না। কারণ তিনি অত্যন্ত সৎ ও নিয়ম-নীতি পরায়ন প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা, ফলে তিনি মহা-দুর্নীতিবাজ প্রকৌঃ মোহাম্মদ সায়েদুর রহমান ও ডেসকো ব্যবস্থাপনা পরিচালক এর এই অনৈতিক বিল প্রদানের কাজে সহায়তা করছেন না, যা দাপ্তরিকভাবে যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত।

ডেসকোতে বর্তমানে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মুখে চাউর যে, প্রকল্প পরিচালক প্রকৌঃ সায়েদুর ও প্রধান প্রকৌশলী মঈনুদ্দিন খান সহ পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামীপন্থী দুর্নীতিবাজরা মিলে বিপুল অর্থ বিনিময়ের মাধ্যমে আওয়ামী দোসর ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)র চুক্তি নবায়নে সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন এবং ফ্যাসিস্ট আমলে গঠিত ডেসকো বোর্ড তাকে আরো ৩ বছর চুক্তি নবায়নের সুপারিশ করেছে, যাতে ডেসকোর সকল সৎ ও দেশপ্রেমিক কর্মকর্তা-কর্মচারী মর্মাহত ও বিস্মিত।

ডেসকোর সকল সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাওয়া নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে বিএনপি ব্যাপক জনসমর্থনে যে সরকার গঠন করেছে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান “সবার আগে বাংলাদেশ ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার” প্রত্যয় কে সফল ও জনকল্যাণমুখী করতে দুর্নীতিবাজদের উপযুক্ত তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় এনে দ্রুত পদ থেকে অপসারণ সময়ের দাবী। তাছাড়া বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বিদ্যুৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ডেসকোতে প্রকৃত দেশপ্রেমিক ও সৎ নেতৃত্বের প্রয়োজন।