০৩:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শর্ট কোর্সের মাধ্যমে পুলিশে ব্যাপকহারে নিয়োগের ইঙ্গিত দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  • আপডেট: ০৩:৩১:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৮০০৫

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

প্রয়োজনে শর্ট কোর্সের মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীর বিভিন্ন পদে ব্যাপকহারে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে পুলিশের লজিস্টিকস ও সরঞ্জামের সংখ্যা বাড়ানোর কথাও জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার বেলা ১১টায় পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এমন একটি পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে হবে, যা দক্ষতা ও পেশাদারত্বে আধুনিক, প্রযুক্তিতে সক্ষম, আচরণে মানবিক, আইন প্রয়োগে দৃঢ় এবং দায়িত্ব পালনে নিরপেক্ষ হবে। জনগণের আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে পুলিশকে গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এসব কথা শুধু বক্তৃতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। বিষয়গুলো গভীরভাবে হৃদয়ে ধারণ করে সেই অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, জুলাইয়ের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা, জনআকাঙ্ক্ষা ও জনপ্রত্যাশাকে ধারণ করে বাংলাদেশ পুলিশকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, মানবিক ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এর মাধ্যমে পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে।

কোনো পুলিশ সদস্য শৃঙ্খলাভঙ্গ, অপেশাদার আচরণ কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রচলিত ফৌজদারি আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

পদকপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পদক শুধু কৃতিত্বের স্বীকৃতি নয়, এর সঙ্গে দেশের ও জনগণের প্রতি দায়িত্বও বেড়ে যায়। পুলিশের সবচেয়ে বড় শক্তি মানুষের আস্থা। জনগণের আস্থা ছাড়া কোনো আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না।

বিগত সরকারের সময়ে পুলিশকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত সাত মাসে প্রাতিষ্ঠানিক, আইনি ও প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে পুলিশের হারানো ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনা এবং জনআস্থা পুনরুদ্ধারে কাজ করছে।

পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আইনি সংস্কারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জন-আকাঙ্ক্ষা এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের মানদণ্ড বিবেচনায় নিয়ে র‍্যাবসহ (বর্তমানে এসআরবি) বিভিন্ন সংস্থার সংস্কার ও আইনি কাঠামোর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ছাড়া আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নকে (এপিবিএন) আরও আধুনিকায়নের জন্য নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের তদন্তের ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সাহসিকতা, সততা, দক্ষতা, নিষ্ঠা, প্রশংসনীয় ও কৃতিত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং জনসেবায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশের ৯২ জন সদস্যকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম), বিপিএম-সেবা, রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম) ও পিপিএম-সেবা দেওয়া হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পদকপ্রাপ্তদের হাতে এসব পদক তুলে দেন। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, পদকপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্য এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

শর্ট কোর্সের মাধ্যমে পুলিশে ব্যাপকহারে নিয়োগের ইঙ্গিত দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট: ০৩:৩১:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

প্রয়োজনে শর্ট কোর্সের মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীর বিভিন্ন পদে ব্যাপকহারে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে পুলিশের লজিস্টিকস ও সরঞ্জামের সংখ্যা বাড়ানোর কথাও জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার বেলা ১১টায় পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এমন একটি পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে হবে, যা দক্ষতা ও পেশাদারত্বে আধুনিক, প্রযুক্তিতে সক্ষম, আচরণে মানবিক, আইন প্রয়োগে দৃঢ় এবং দায়িত্ব পালনে নিরপেক্ষ হবে। জনগণের আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে পুলিশকে গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এসব কথা শুধু বক্তৃতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। বিষয়গুলো গভীরভাবে হৃদয়ে ধারণ করে সেই অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, জুলাইয়ের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা, জনআকাঙ্ক্ষা ও জনপ্রত্যাশাকে ধারণ করে বাংলাদেশ পুলিশকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, মানবিক ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এর মাধ্যমে পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে।

কোনো পুলিশ সদস্য শৃঙ্খলাভঙ্গ, অপেশাদার আচরণ কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রচলিত ফৌজদারি আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

পদকপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পদক শুধু কৃতিত্বের স্বীকৃতি নয়, এর সঙ্গে দেশের ও জনগণের প্রতি দায়িত্বও বেড়ে যায়। পুলিশের সবচেয়ে বড় শক্তি মানুষের আস্থা। জনগণের আস্থা ছাড়া কোনো আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না।

বিগত সরকারের সময়ে পুলিশকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত সাত মাসে প্রাতিষ্ঠানিক, আইনি ও প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে পুলিশের হারানো ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনা এবং জনআস্থা পুনরুদ্ধারে কাজ করছে।

পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আইনি সংস্কারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জন-আকাঙ্ক্ষা এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের মানদণ্ড বিবেচনায় নিয়ে র‍্যাবসহ (বর্তমানে এসআরবি) বিভিন্ন সংস্থার সংস্কার ও আইনি কাঠামোর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ছাড়া আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নকে (এপিবিএন) আরও আধুনিকায়নের জন্য নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের তদন্তের ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সাহসিকতা, সততা, দক্ষতা, নিষ্ঠা, প্রশংসনীয় ও কৃতিত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং জনসেবায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশের ৯২ জন সদস্যকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম), বিপিএম-সেবা, রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম) ও পিপিএম-সেবা দেওয়া হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পদকপ্রাপ্তদের হাতে এসব পদক তুলে দেন। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, পদকপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্য এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।