০৫:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলন: বিক্ষোভকারীদের হামলায় আহত পুলিশ সদস্য

  • আপডেট: ০২:৪১:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • / ১৮০০৪

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

নুন্যতম মজুরি ৩০ হাজার টাকার দাবিতে টানা চতুর্থ দিনের মতন আজও আন্দোলনে নেমেছেন পোশাক শ্রমিকেরা। এদিন সকালে মিরপুর ১১ নম্বর এলাকায় পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এ সময় আন্দোলনকারীদের হামলায় অন্তত সাত থেকে আটজন পুলিশ সদস্যের উপর হামলা ও বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহতের ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (০৩ নভেম্বর) পল্লবী থানার ওসি জালাল উদ্দীন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মিরপুর ১১ থেকে যখন শ্রমিকদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়েছে। তখন তারা কালশীর দিলে সরে যায়। সেই সময় পল্লবী থানা থেকে কয়েকজন পুলিশ সদস্য মিরপুর ১১ এর দিকে আসছিলো। দলছুট অবস্থায় পেয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।

তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে আমরা পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছি। তারা পুলিশের উপর হামলারত অবস্থায় ছিল। গ্রেফতাররা কোন পোশাক শ্রমিক না। তারা আওয়ামীলীগ এবং অঙ্গ সংগঠনের সদস্য বলে আমরা প্রাথমিকভাবে আইডেন্টিফাই করেছি। তাদেরকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আন্দোলনকারীদের আমরা প্রধান সড়ক থেকে সরিয়ে দিয়েছি। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সেই সঙ্গে যান চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে।

এদিকে পুলিশের উপর হামলার একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, পুলিশ সদস্যর ওপর বিক্ষুব্ধ কয়েকজন লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটাচ্ছে। এসময় কয়েকজন আবার হামলাকারীদের ঠেকানোর চেষ্টা করতেও দেখা গেছে।

এর আগে এদিন সকাল সাড়ে ১০টার পর মিরপুর ১১ নম্বর এলাকায় পোশাক শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মিরপুর ১১ নম্বরের মেট্রো স্টেশন শিডিউল বিপর্যয়ে সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে বলেও জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, আন্দোলনকারীরা সড়কে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। এসময় শ্রমিকরাও পুলিশের উপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (পিওএম- দক্ষিণ) মোহাম্মদ তৌহিদুল আরিফ বলেন, পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনে দুষ্কৃতকারীরা অনুপ্রবেশ করেছিল।

শ্রমিক নেতারা গতকাল বলেছেন যে, শ্রমিকরা এই আন্দোলন থেকে সরে আসবে। যারা এর পরেও বিক্ষোভ চালিয়ে যাবে, তারা কোনোভাবেই শ্রমিক নয়—বরং তারা দুষ্কৃতকারী। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে মেট্রোরেল প্যাসেঞ্জার কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, মিরপুরে গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনে মেট্রোরেল চলাচল অব্যাহত থাকলেও কিছুটা শিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে। সাময়িক ভাবে কোনো স্টেশন (যেমন: মিরপুর -১১) বন্ধ থাকতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে সংশ্লিষ্ট স্টেশন কন্ট্রোলারের সঙ্গে যোগাযোগ করে শিডিউল জেনতে অথবা হেল্পলাইন নাম্বারে ১৬১৪৫ যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়।

পুলিশ ও পোশাক শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এমআরটি পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মহসিন শেখ।

তিনি বলেন, সংঘর্ষের কারণে সকাল ১০টা ২২ মিনিট থেকে মিরপুর-১১ নম্বর স্টেশন বন্ধ রয়েছে। এই স্টেশনে ট্রেন থামছে না। বাকি স্টেশনগুলো খোলা আছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলন: বিক্ষোভকারীদের হামলায় আহত পুলিশ সদস্য

আপডেট: ০২:৪১:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

নুন্যতম মজুরি ৩০ হাজার টাকার দাবিতে টানা চতুর্থ দিনের মতন আজও আন্দোলনে নেমেছেন পোশাক শ্রমিকেরা। এদিন সকালে মিরপুর ১১ নম্বর এলাকায় পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এ সময় আন্দোলনকারীদের হামলায় অন্তত সাত থেকে আটজন পুলিশ সদস্যের উপর হামলা ও বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহতের ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (০৩ নভেম্বর) পল্লবী থানার ওসি জালাল উদ্দীন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মিরপুর ১১ থেকে যখন শ্রমিকদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়েছে। তখন তারা কালশীর দিলে সরে যায়। সেই সময় পল্লবী থানা থেকে কয়েকজন পুলিশ সদস্য মিরপুর ১১ এর দিকে আসছিলো। দলছুট অবস্থায় পেয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।

তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে আমরা পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছি। তারা পুলিশের উপর হামলারত অবস্থায় ছিল। গ্রেফতাররা কোন পোশাক শ্রমিক না। তারা আওয়ামীলীগ এবং অঙ্গ সংগঠনের সদস্য বলে আমরা প্রাথমিকভাবে আইডেন্টিফাই করেছি। তাদেরকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আন্দোলনকারীদের আমরা প্রধান সড়ক থেকে সরিয়ে দিয়েছি। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সেই সঙ্গে যান চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে।

এদিকে পুলিশের উপর হামলার একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, পুলিশ সদস্যর ওপর বিক্ষুব্ধ কয়েকজন লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটাচ্ছে। এসময় কয়েকজন আবার হামলাকারীদের ঠেকানোর চেষ্টা করতেও দেখা গেছে।

এর আগে এদিন সকাল সাড়ে ১০টার পর মিরপুর ১১ নম্বর এলাকায় পোশাক শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মিরপুর ১১ নম্বরের মেট্রো স্টেশন শিডিউল বিপর্যয়ে সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে বলেও জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, আন্দোলনকারীরা সড়কে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। এসময় শ্রমিকরাও পুলিশের উপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (পিওএম- দক্ষিণ) মোহাম্মদ তৌহিদুল আরিফ বলেন, পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনে দুষ্কৃতকারীরা অনুপ্রবেশ করেছিল।

শ্রমিক নেতারা গতকাল বলেছেন যে, শ্রমিকরা এই আন্দোলন থেকে সরে আসবে। যারা এর পরেও বিক্ষোভ চালিয়ে যাবে, তারা কোনোভাবেই শ্রমিক নয়—বরং তারা দুষ্কৃতকারী। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে মেট্রোরেল প্যাসেঞ্জার কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, মিরপুরে গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনে মেট্রোরেল চলাচল অব্যাহত থাকলেও কিছুটা শিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে। সাময়িক ভাবে কোনো স্টেশন (যেমন: মিরপুর -১১) বন্ধ থাকতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে সংশ্লিষ্ট স্টেশন কন্ট্রোলারের সঙ্গে যোগাযোগ করে শিডিউল জেনতে অথবা হেল্পলাইন নাম্বারে ১৬১৪৫ যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়।

পুলিশ ও পোশাক শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এমআরটি পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মহসিন শেখ।

তিনি বলেন, সংঘর্ষের কারণে সকাল ১০টা ২২ মিনিট থেকে মিরপুর-১১ নম্বর স্টেশন বন্ধ রয়েছে। এই স্টেশনে ট্রেন থামছে না। বাকি স্টেশনগুলো খোলা আছে।