সুন্দরবনে জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ সদস্যের আত্মসমর্পণ,উদ্ধার অস্ত্র-গোলাবারুদ
- আপডেট: ০৪:২৬:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
- / ১৮০৪৪
নিজস্ব প্রতিবেদক,সোনালী খবর
সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্য অস্ত্র, গোলাবারুদ ও একটি ওয়াকিটকিসহ বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে জিম্মি থাকা এক জেলেকেও জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং বনদস্যু নির্মূলে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে।
এর ধারাবাহিকতায় গত বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সুন্দরবনের তাম্বুলবুনিয়া ফরেস্ট অফিসসংলগ্ন কলামুলি খাল এলাকায় বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সদস্য কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। তারা দুটি দেশীয় একনলা বন্দুক, একটি দেশীয় পাইপগান, ৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং একটি ওয়াকিটকি জমা দেন। একই সময়ে তাদের জিম্মিদশা থেকে এক জেলেকে উদ্ধার করা হয়।
আত্মসমর্পণকারীরা হলেন বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার আলামিন হোসেন (৪০), সাতক্ষীরার তালা উপজেলার তৈবুর রহমান (২৪) এবং খুলনার কয়রা উপজেলার মনিরুজ্জামান মামুন (২০)। কোস্ট গার্ডের দাবি, তারা দীর্ঘদিন ধরে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্য হিসেবে সুন্দরবনে ডাকাতি, জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ছিলেন।
কোস্ট গার্ড জানায়, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে ৪৯টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাজা গোলা, ৩১৬ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১০৮ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১৯৪ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি এবং দুটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় ৪২ জন বনদস্যুকে আটক এবং জিম্মি থাকা ৪১ জনকে জীবিত উদ্ধার করে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে ছোট সুমন বাহিনীর সাত সদস্যও অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
কোস্ট গার্ড আরও জানায়, আত্মসমর্পণকারী তিনজনের পুনর্বাসন, জব্দ করা অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংক্রান্ত আইনানুগ ব্যবস্থা এবং উদ্ধার হওয়া জেলেকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সংস্থাটি সুন্দরবনে সক্রিয় অন্যান্য বনদস্যুদেরও আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে।
একই সঙ্গে আত্মসমর্পণ না করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেলে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।




















