এটিইউর নতুন পরিচয় ‘এসআরইউ’, সিটিটিসিও আসছে নতুন নামে
- আপডেট: ০৬:০৭:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৮০০৪
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ইউনিট’ (এসআরইউ) করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ— ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট এখন ‘এসআরইউ ডিএমপি’ নামে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬-এর পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নতুন কাঠামোর আওতায় দেশের বিভিন্ন মেট্রোপলিটন এলাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী এসআরইউর শাখা গঠন করা হবে। এসব ইউনিট সংশ্লিষ্ট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনারের কমান্ডে পরিচালিত হবে। তবে সামগ্রিক শৃঙ্খলা ও কেন্দ্রীয় সমন্বয় থাকবে এসআরইউর দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত আইজিপির অধীনে।
তিনি বলেন, আগে এটিইউর সদর দপ্তরে থাকা কর্মকর্তাদের সারা দেশে এক্সট্রিমিস্ট কার্যক্রমের ক্ষেত্রে কাজ করার এখতিয়ার ছিল। এখন একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যে এসআরইউকে নিয়ে আসা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন মেট্রোপলিটন এলাকায় সদস্য ও কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢাকায় সিটিটিসি এখন ‘এসআরইউ ডিএমপি’ নামে কার্যক্রম পরিচালনা করবে। দেশের অন্য যেসব এলাকায় প্রয়োজন হবে, সেখানেও এসআরইউর ইউনিট গঠন করা হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সিটিটিসি আনুষ্ঠানিকভাবে আলাদা কোনো ইউনিট হিসেবে গঠিত ছিল না; এটি ডিএমপির অধীনেই কার্যক্রম পরিচালনা করত। এখন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পুরো ব্যবস্থাকে একটি অভিন্ন সাংগঠনিক কাঠামোর আওতায় আনা হচ্ছে।
তিনি জানান, এসআরইউর সদর দপ্তর আগারগাঁওয়ে নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়ের জন্য এসআরইউর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী অতিরিক্ত আইজিপি সেখানেই থাকবেন। ইউনিটটির সাংগঠনিক কাঠামোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, লজিস্টিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সুবিধা পর্যায়ক্রমে গড়ে তোলা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফরেনসিক ও কেমিক্যাল ল্যাবের কার্যক্রমও আপাতত আগারগাঁওয়ে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয়ভাবে একটি বড় ফরেনসিক ও কেমিক্যাল ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিভাগীয় পর্যায়েও ফরেনসিক ও কেমিক্যাল ল্যাব স্থাপনের কাজ চলছে বলে জানান তিনি। ইতিমধ্যে আটটি ল্যাবের কার্যক্রম চলছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের ল্যাব উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে।
পুলিশ সদস্যদের মানসিকতার পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, উন্নতির পথে যেতে হলে প্রথমে নিজেদের মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। মানুষের মানসিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই সমাজের পরিবর্তন আসে।
তিনি বলেন, পুলিশের মধ্যে সততা, ন্যায়নিষ্ঠা, কর্তব্যপরায়ণতা ও দেশপ্রেম একসঙ্গে থাকতে হবে। নতুন প্রজন্মের জন্য নিরাপদ, সুরক্ষিত ও বাসযোগ্য দেশ রেখে যেতে হলে পুলিশকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নকে (এপিবিএন) তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে এপিবিএন সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। সেখানে প্রায় ৪০০ সাব-ইন্সপেক্টর রয়েছেন, যাদের এত দিন তদন্তের এখতিয়ার ছিল না।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে মাদক, অস্ত্র, অপহরণসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হয়। এসব অপরাধের তদন্ত করে মামলা, এজাহার ও অভিযোগপত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে দুই থানার ওপর নির্ভর করা কঠিন। এ কারণে এপিবিএনকে তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (এইচআরএম) খন্দকার রফিকুল ইসলাম। এ সময় পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) একেএম আওলাদ হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



















