বিপুল যন্ত্রাংশ উদ্ধারসহ গ্রেফতার৩: ‘ট্র্যাকিং এড়াতে মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ খুলে আলাদাভাবে বিক্রি করত চক্রটি’
- আপডেট: ০৩:১২:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
- / ১৮০৪৩
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের নবীনগর হাউজিং এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ চোরাইকৃত মোবাইল ফোন, ট্যাব, ডিসপ্লে ও মোবাইলের যন্ত্রাংশসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-২।
র্যাব জানায়, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রযুক্তিনির্ভর ট্র্যাকিং এড়াতে তারা মোবাইল ফোন খুলে যন্ত্রাংশ আলাদাভাবে বিক্রি করত। পাশাপাশি মোবাইল ফোনের IMEI নম্বর পরিবর্তন করে অপরাধীদের বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সহায়তা করত
রবিবার (১২ জুলাই) রাজধানীর মোহাম্মদপুরের র্যাব-২ সদরদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব জানান র্যাব-২-এর উপ-অধিনায়ক নিফাজ রহমান।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- মো. মুন্না শেখ (২৯), মো. নাসির উদ্দিন শান্ত (২৬) ও মো. নাসিম (২৮)।
নিফাজ রহমান বলেন, সম্প্রতি রাজধানীতে মোবাইল ফোন চুরির ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় চোরাই মোবাইল কেনাবেচা চক্রের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায় র্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে নবীনগর হাউজিং এলাকার একটি বাসায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫টি নতুন অ্যান্ড্রয়েড ফোন, ১২৬টি পুরোনো মোবাইল ফোন, ১৬৫টি পুরোনো মোবাইল ডিসপ্লে, ১৬টি পুরোনো ট্যাব এবং ৬৫টি মোবাইল ফোনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছে যে তারা দীর্ঘদিন ধরে চোর ও ছিনতাইকারীদের কাছ থেকে চোরাই মোবাইল ফোন কিনে কম দামে বিক্রি করছিল। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রযুক্তিনির্ভর ট্র্যাকিং এড়াতে তারা মোবাইল ফোন খুলে যন্ত্রাংশ আলাদাভাবে বিক্রি করত। পাশাপাশি মোবাইল ফোনের আইএমইআই (IMEI) নম্বর পরিবর্তন করে অপরাধীদের বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সহায়তা করত বলেও জানিয়েছে তারা।
এক প্রশ্নের জবাবে এই কর্মকর্তা বলেন, মাঠ পর্যায়ের চোর ও ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও কেনাবেচা চক্রের সদস্যরা আড়ালে থাকতো। এই চক্রে আরও অনেকে জড়িত। তাদের ধরতে কাজ চলছে।
গ্রেফতারকৃত সদস্যরা ব্যাচেলর হিসেবে বাসা ভাড়া নিয়ে সেখানে লোকচক্ষুর আড়ালে মোবাইল ও যন্ত্রাংশ কেনাবেন করতো বলেও জানান তিনি।
উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন ও যন্ত্রাংশ চোরাই এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যদি মোবাইল সার্ভিসিং করে থাকে তাহলে গ্রাহকদের কাছ থেকে মোবাইল জমা রাখার রিসিট তাদের কাছে থাকতো। কিন্তু তারা আমাদের কোন ডকুমেন্টস দেখাতে পারেনি। সাধারণ ভাবেই কেউ যখন কেউ তার মোবাইল সার্ভিস করতে দেয় তখন তার মোবাইল জমা রাখার রিসিট দেয়া হয়। তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমান মোবাইল ও যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়েছে যার কোন ডকুমেন্টস তাদের কাছে নেই।
উদ্ধার হওয়া ফোনের মধ্যে কোন ফোন হারানোর জিডির কোন তথ্য পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই ব্যাপারে আমরা কাজ করছি। যেহেতু উদ্ধার হওয়া ফোনের সংখ্যাটা অনেক এই প্রত্যেকটা ফোনের আইএমইআই নাম্বার, সিরিয়াল নাম্বার সেগুলো আমরা সবকিছু যাচাই-বাছাই করছি।
এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় দণ্ডবিধির ৪১৩ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতার এবং চোরাই মোবাইল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




















