০৯:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর খালাতো ভাইয়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ১ কোটি ২১ লাখ টাকা ছিনতাই

  • আপডেট: ০৭:৩০:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৮০০৪

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

রাজধানীর উত্তরায় ব্যাংকে জমা দিতে যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রীর খালাতো ভাই তাসীন আক্তার হক ডেলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রবিবার সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে উত্তরা র‍্যাব-১ ব্যাটালিয়নের দক্ষিণ পাশে এ ঘটনা ঘটে।

ছিনতাই হওয়া টাকা ডিএল পেট্রোল পাম্পের। তাসীন আক্তার হক ডেল প্রতিষ্ঠানটির মালিকানার সঙ্গে যুক্ত। তিনি প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বোন, সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী খুরশীদ জাহান হকের ছোট ছেলে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তার খালাতো ভাইয়ের সম্পর্ক রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এ ঘটনায় পেট্রোল পাম্পের ম্যানেজার করিম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

প্রতিদিন ব্যাংকে জমা হতো ৪৫-৫০ লাখ টাকা

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডিএল পেট্রোল পাম্পে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ লাখ টাকা লেনদেন হয়। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিনের বিক্রির টাকা সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে ব্যাংকে জমা দিতে নিয়ে যাওয়া হতো।

শুক্র ও শনিবার ব্যাংক বন্ধ থাকায় ওই দুই দিনের টাকা পরবর্তী কর্মদিবস রবিবার একসঙ্গে ব্যাংকে জমা দেওয়া হতো। ফলে রোববার পাম্প থেকে তুলনামূলক বেশি টাকা ব্যাংকে নেওয়া হয়।

গতকাল রবিবারও পাম্পের টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে উত্তরা র‍্যাব-১ ব্যাটালিয়নের দক্ষিণ পাশে পৌঁছালে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন ব্যক্তি তাঁদের গতিরোধ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, দুর্বৃত্তরা প্রথমে গাড়িতে ধাক্কা দিয়ে সেটির গতিরোধ করে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা করে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। এরপর তিনটি মোটরসাইকেলে করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় তারা।

এ সময় পেট্রোল পাম্পের ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

একই সময়ে টাকা বহন, পূর্বপরিকল্পনার সন্দেহ

দীর্ঘদিন ধরে পেট্রোল পাম্পের টাকা একই সময়ে ব্যাংকে জমা দেওয়া হতো। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে টাকা নিয়ে ব্যাংকের উদ্দেশে বের হওয়ার বিষয়টি ছিনতাইকারীরা আগে থেকেই জানত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিশেষ করে রবিবার দুই দিনের টাকা একসঙ্গে ব্যাংকে নেওয়া হবে—এ তথ্যও দুর্বৃত্তদের জানা ছিল কি না, সেটি তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনটি মোটরসাইকেলে এসে পথরোধ, গাড়িতে ধাক্কা এবং ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ছিনতাইকারীরা আগে থেকেই টাকা বহনের সময় ও রুট সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এখন পর্যন্ত ছিনতাইয়ে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাঁদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের নম্বরও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত করছে।

এ বিষয়ে বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার বলেন, মামলার পর বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। আশা করছি ভালো সংবাদ দিতে পারব।

খুরশীদ জাহান হক

তাসীন আক্তার হক ডেলের মা প্রয়াত খুরশীদ জাহান হক বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৯১–১৯৯৬ মেয়াদে তিনি সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। পরে ১৯৯৬–২০০১ এবং ২০০২–২০০৬ মেয়াদে দিনাজপুর সদর আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

তৎকালীন বিএনপি সরকারের মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন খুরশীদ জাহান হক। তিনি তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বড় বোন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রীর খালাতো ভাইয়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ১ কোটি ২১ লাখ টাকা ছিনতাই

আপডেট: ০৭:৩০:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

রাজধানীর উত্তরায় ব্যাংকে জমা দিতে যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রীর খালাতো ভাই তাসীন আক্তার হক ডেলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রবিবার সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে উত্তরা র‍্যাব-১ ব্যাটালিয়নের দক্ষিণ পাশে এ ঘটনা ঘটে।

ছিনতাই হওয়া টাকা ডিএল পেট্রোল পাম্পের। তাসীন আক্তার হক ডেল প্রতিষ্ঠানটির মালিকানার সঙ্গে যুক্ত। তিনি প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বোন, সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী খুরশীদ জাহান হকের ছোট ছেলে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তার খালাতো ভাইয়ের সম্পর্ক রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এ ঘটনায় পেট্রোল পাম্পের ম্যানেজার করিম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

প্রতিদিন ব্যাংকে জমা হতো ৪৫-৫০ লাখ টাকা

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডিএল পেট্রোল পাম্পে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ লাখ টাকা লেনদেন হয়। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিনের বিক্রির টাকা সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে ব্যাংকে জমা দিতে নিয়ে যাওয়া হতো।

শুক্র ও শনিবার ব্যাংক বন্ধ থাকায় ওই দুই দিনের টাকা পরবর্তী কর্মদিবস রবিবার একসঙ্গে ব্যাংকে জমা দেওয়া হতো। ফলে রোববার পাম্প থেকে তুলনামূলক বেশি টাকা ব্যাংকে নেওয়া হয়।

গতকাল রবিবারও পাম্পের টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে উত্তরা র‍্যাব-১ ব্যাটালিয়নের দক্ষিণ পাশে পৌঁছালে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন ব্যক্তি তাঁদের গতিরোধ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, দুর্বৃত্তরা প্রথমে গাড়িতে ধাক্কা দিয়ে সেটির গতিরোধ করে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা করে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। এরপর তিনটি মোটরসাইকেলে করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় তারা।

এ সময় পেট্রোল পাম্পের ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

একই সময়ে টাকা বহন, পূর্বপরিকল্পনার সন্দেহ

দীর্ঘদিন ধরে পেট্রোল পাম্পের টাকা একই সময়ে ব্যাংকে জমা দেওয়া হতো। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে টাকা নিয়ে ব্যাংকের উদ্দেশে বের হওয়ার বিষয়টি ছিনতাইকারীরা আগে থেকেই জানত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিশেষ করে রবিবার দুই দিনের টাকা একসঙ্গে ব্যাংকে নেওয়া হবে—এ তথ্যও দুর্বৃত্তদের জানা ছিল কি না, সেটি তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনটি মোটরসাইকেলে এসে পথরোধ, গাড়িতে ধাক্কা এবং ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ছিনতাইকারীরা আগে থেকেই টাকা বহনের সময় ও রুট সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এখন পর্যন্ত ছিনতাইয়ে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাঁদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের নম্বরও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত করছে।

এ বিষয়ে বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার বলেন, মামলার পর বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। আশা করছি ভালো সংবাদ দিতে পারব।

খুরশীদ জাহান হক

তাসীন আক্তার হক ডেলের মা প্রয়াত খুরশীদ জাহান হক বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৯১–১৯৯৬ মেয়াদে তিনি সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। পরে ১৯৯৬–২০০১ এবং ২০০২–২০০৬ মেয়াদে দিনাজপুর সদর আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

তৎকালীন বিএনপি সরকারের মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন খুরশীদ জাহান হক। তিনি তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বড় বোন।