০৪:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অনলাইন জুয়া ও অর্থপাচার চক্রের আরও ৪ সদস্য গ্রেফতার

  • আপডেট: ০৩:২৩:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৮০০৩

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

অনলাইন জুয়ার এজেন্ট সিম সরবরাহ এবং জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন–টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাবলু মিয়া (২৮) ও মনির হোসেন (৩০) এবং সখীপুর উপজেলার নূর সাফায়েত ইপ্তি (২৪) ও শামীম আল মামুন (২৯)।

গতকাল রবিবার রাতে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) সাইবার পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের একটি দল।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে সিআইডি জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেফতার ব্যক্তিদের অনলাইন জুয়ার সাইটে ব্যবহারের জন্য নিজেদের নামে নিবন্ধিত এজেন্ট সিম সরবরাহের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা যায়, নিয়মিত সাইবার মনিটরিংয়ের সময় সিআইডি দেশের ভেতর ও বিদেশ থেকে পরিচালিত বিভিন্ন অনলাইন বেটিং (জুয়া) ওয়েবসাইটের কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য পায়। এসব সাইটের বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রচার করা হচ্ছিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলা এবং অনলাইন ক্যাসিনোকে কেন্দ্র করে অর্থের বিনিময়ে বেটিং পরিচালনার তথ্যও পাওয়া যায়।

পরে বেটিং সাইটে ব্যবহৃত বিভিন্ন এজেন্টের মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) ও ব্যাংক হিসাবসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করে সিআইডি বাদী হয়ে গত ১৭ মে পল্টন থানায় মামলা করে। মামলায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর বিভিন্ন ধারা যুক্ত করা হয়।

মামলার তদন্তে সাইবার পুলিশ সেন্টার তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোপন তথ্যের মাধ্যমে জানতে পারে, গ্রেফতার ব্যক্তিরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনলাইন বেটিংয়ের এজেন্ট নিয়োগ করতেন। পরে তাঁদের এমএফএস ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করে বেটিং সাইটে ব্যবহার করা হতো।

সিআইডির ভাষ্য, জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত এজেন্টরা কমিশন কেটে রাখার পর বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অর্থ বিদেশে পাচার করতেন—এমন তথ্যও তদন্তে পাওয়া গেছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা অর্থের বিনিময়ে এজেন্ট সিম সংগ্রহ করে অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইট চক্রের অ্যাডমিনদের কাছে সরবরাহ করার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে সিআইডি। এসব সিম অনলাইন বেটিং সাইটে অর্থ জমা ও উত্তোলনের কাজে ব্যবহার করা হতো।

গ্রেফতার চারজনকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

সিআইডি আরও জানায়, এ মামলায় এর আগে গত জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত টাঙ্গাইল, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, নড়াইল ও রাজশাহীতে অভিযান চালিয়ে আরও ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে টাঙ্গাইলে তিনজন, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে তিনজন, নড়াইলে দুজন এবং রাজশাহীতে দুজন রয়েছেন।

মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার। অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক, অবৈধ ই-লেনদেন, অর্থপাচার এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে তদন্ত চলছে।

সিআইডি অনলাইন জুয়া ও বেটিং কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে এ ধরনের কার্যক্রমে অর্থ লেনদেন না করা এবং অনলাইন জুয়া বা বেটিং সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

অনলাইন জুয়া ও অর্থপাচার চক্রের আরও ৪ সদস্য গ্রেফতার

আপডেট: ০৩:২৩:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

অনলাইন জুয়ার এজেন্ট সিম সরবরাহ এবং জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন–টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাবলু মিয়া (২৮) ও মনির হোসেন (৩০) এবং সখীপুর উপজেলার নূর সাফায়েত ইপ্তি (২৪) ও শামীম আল মামুন (২৯)।

গতকাল রবিবার রাতে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) সাইবার পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের একটি দল।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে সিআইডি জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেফতার ব্যক্তিদের অনলাইন জুয়ার সাইটে ব্যবহারের জন্য নিজেদের নামে নিবন্ধিত এজেন্ট সিম সরবরাহের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা যায়, নিয়মিত সাইবার মনিটরিংয়ের সময় সিআইডি দেশের ভেতর ও বিদেশ থেকে পরিচালিত বিভিন্ন অনলাইন বেটিং (জুয়া) ওয়েবসাইটের কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য পায়। এসব সাইটের বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রচার করা হচ্ছিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলা এবং অনলাইন ক্যাসিনোকে কেন্দ্র করে অর্থের বিনিময়ে বেটিং পরিচালনার তথ্যও পাওয়া যায়।

পরে বেটিং সাইটে ব্যবহৃত বিভিন্ন এজেন্টের মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) ও ব্যাংক হিসাবসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করে সিআইডি বাদী হয়ে গত ১৭ মে পল্টন থানায় মামলা করে। মামলায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর বিভিন্ন ধারা যুক্ত করা হয়।

মামলার তদন্তে সাইবার পুলিশ সেন্টার তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোপন তথ্যের মাধ্যমে জানতে পারে, গ্রেফতার ব্যক্তিরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনলাইন বেটিংয়ের এজেন্ট নিয়োগ করতেন। পরে তাঁদের এমএফএস ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করে বেটিং সাইটে ব্যবহার করা হতো।

সিআইডির ভাষ্য, জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত এজেন্টরা কমিশন কেটে রাখার পর বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অর্থ বিদেশে পাচার করতেন—এমন তথ্যও তদন্তে পাওয়া গেছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা অর্থের বিনিময়ে এজেন্ট সিম সংগ্রহ করে অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইট চক্রের অ্যাডমিনদের কাছে সরবরাহ করার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে সিআইডি। এসব সিম অনলাইন বেটিং সাইটে অর্থ জমা ও উত্তোলনের কাজে ব্যবহার করা হতো।

গ্রেফতার চারজনকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

সিআইডি আরও জানায়, এ মামলায় এর আগে গত জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত টাঙ্গাইল, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, নড়াইল ও রাজশাহীতে অভিযান চালিয়ে আরও ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে টাঙ্গাইলে তিনজন, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে তিনজন, নড়াইলে দুজন এবং রাজশাহীতে দুজন রয়েছেন।

মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার। অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক, অবৈধ ই-লেনদেন, অর্থপাচার এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে তদন্ত চলছে।

সিআইডি অনলাইন জুয়া ও বেটিং কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে এ ধরনের কার্যক্রমে অর্থ লেনদেন না করা এবং অনলাইন জুয়া বা বেটিং সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করেছে।