০৪:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চাঁদা না দেওয়ায় কেরানীগঞ্জে বাড়ি ভাঙচুর করে দখলের চেষ্টার অভিযোগ, অসহায় পরিবার

  • আপডেট: ০৩:৫০:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৮০০৩

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

ঢাকা কেরানীগঞ্জের হযরতপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ বালুচরে চাঁদা না দেওয়ায় বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করে এবং হামলা চালিয়ে জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় থানায় মামলায় না নেওয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় দিন পার করছেন অসহায় ভুক্তভোগী পরিবার।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে কান্না জড়িত কন্ঠে এসব অভিযোগ জানিয়ে নিজেদের নিরাপত্তা ও বিচারের দাবি জানান ভুক্তভোগী পরিবার।

ভুক্তভোগী আউয়াল হোসেন বলেন, চাহিদা মত ২০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় কেরানীগঞ্জের সন্ত্রাসীরা মোহাম্মদপুর ও টঙ্গী থেকে আরও সন্ত্রাসী ভাড়া করে এনে গত ১১ সেপ্টেম্বর সকালে রাস্তা সব বন্ধ করে দেয় যাতে কেউ আমাদের বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে।

বাড়িতে প্রায় তিনজন নারী ছাড়া আর কেউ ছিল না। তখন এরা নির্বিঘ্নে প্রবেশ করে বাড়িতে এবং প্রথমেই সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করে এবং ওয়াইফাই লাইন কেটে দেয়, যেন বাইরে কেউ যোগাযোগ করতে না পারে। তারপর বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট শুরু করে।
আমরা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ আসে কিন্তু পুলিশ চলে যাওয়ার পর তারা আবার ভাঙতে থাকে এবং লুটপাট চালাতে থাকে। এমনকি ঘরের আসবাবপত্র নিয়ে যায়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, হযরতপুর মৌজায় সিএস, এসএ ও আরএস খতিয়ানভুক্ত প্রায় ২১১ শতাংশ জমি অভিযোগকারীর বাবা ক্রয়সূত্রে মালিক ছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর থেকে তারা ওই সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছেন এবং জমির নামজারি ও খাজনা পরিশোধ করা রয়েছে। হামলাকারীরা লাঠিসোটা, লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের জমিতে প্রবেশ করে পুকুর দখলের চেষ্টা করেন। এ সময় পুকুরপাড়ের কলাগাছ, আমগাছ কেটে এবং বিভিন্ন ধরনের সবজি নষ্ট করে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। এছাড়া পুকুর থেকে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে আরও প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়ে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ঘটনার খবর পেয়ে ভুক্তভোগী ও তার লোকজন ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্তরা তাদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেন। এর আগে একই সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে অভিযোগকারী ও তার ভাই-বোনেরা আদালতে পিটিশন মামলা নং-১৯৪/২৬, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় মামলা করেন।

মোমিন তালুকদার বলেন, গত শুক্রবার সকাল ৯ টায় কুখ্যাত সন্ত্রাসী দল এসে এক বাড়ির উপর হামলা করে। বাড়ির উপরে হামলা করে এবং পুরা টিনশেড বিল্ডিংটা ভাঙচুর করে। ভাঙচুর করার পর আসবাবপত্রসহ যা ছিল মালামাল, সম্পূর্ণ তারা লুটপাট করে নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী আছিয়া বলেন, আমি হযরতপুরের মেয়ে। আমার বাপের বাড়ি বালুচর শাহবাড়ি। কেন এরা এরকম করতাছে? কীভাবে আমাদের সাথে এরকম অত্যাচার করতাছে? আমার থানায় অভিযোগ দিয়েছি, কিন্ত থানা মামলা নিচ্ছে না, কোনো আমলেও নিচ্ছে না। এভাবে হলে আমরা কোথায় কার কাছে যাবো? বাড়ি ঘর ভেঙে দেওয়ায় আমরা অসহায় ভাবে দিন কাটাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, ওরা ২০ লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছে, কই থেকে দিবে আমার ভাইরা? আমার ভাইরা থাকে প্রবাসে। আমার ভাইরা রাজনীতি করেন না। সারাজীবন ওরা বিদেশে থাকছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই বিষয়ে বিচার ও নিরাপত্তা চেয়ে অনুরোধ করছি।

চাঁদাবাজি ও বাড়িঘর ভাঙচুরের বিষয়ে থানায় মামলা না নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল কুদ্দুস বলেন, বিষয়টি আমার জানা নাই, কোন ঘটনা মনে পড়ছে না। আমি খোঁজ খবর নিয়ে পরে জানাবো।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

চাঁদা না দেওয়ায় কেরানীগঞ্জে বাড়ি ভাঙচুর করে দখলের চেষ্টার অভিযোগ, অসহায় পরিবার

আপডেট: ০৩:৫০:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

ঢাকা কেরানীগঞ্জের হযরতপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ বালুচরে চাঁদা না দেওয়ায় বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করে এবং হামলা চালিয়ে জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় থানায় মামলায় না নেওয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় দিন পার করছেন অসহায় ভুক্তভোগী পরিবার।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে কান্না জড়িত কন্ঠে এসব অভিযোগ জানিয়ে নিজেদের নিরাপত্তা ও বিচারের দাবি জানান ভুক্তভোগী পরিবার।

ভুক্তভোগী আউয়াল হোসেন বলেন, চাহিদা মত ২০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় কেরানীগঞ্জের সন্ত্রাসীরা মোহাম্মদপুর ও টঙ্গী থেকে আরও সন্ত্রাসী ভাড়া করে এনে গত ১১ সেপ্টেম্বর সকালে রাস্তা সব বন্ধ করে দেয় যাতে কেউ আমাদের বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে।

বাড়িতে প্রায় তিনজন নারী ছাড়া আর কেউ ছিল না। তখন এরা নির্বিঘ্নে প্রবেশ করে বাড়িতে এবং প্রথমেই সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করে এবং ওয়াইফাই লাইন কেটে দেয়, যেন বাইরে কেউ যোগাযোগ করতে না পারে। তারপর বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট শুরু করে।
আমরা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ আসে কিন্তু পুলিশ চলে যাওয়ার পর তারা আবার ভাঙতে থাকে এবং লুটপাট চালাতে থাকে। এমনকি ঘরের আসবাবপত্র নিয়ে যায়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, হযরতপুর মৌজায় সিএস, এসএ ও আরএস খতিয়ানভুক্ত প্রায় ২১১ শতাংশ জমি অভিযোগকারীর বাবা ক্রয়সূত্রে মালিক ছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর থেকে তারা ওই সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছেন এবং জমির নামজারি ও খাজনা পরিশোধ করা রয়েছে। হামলাকারীরা লাঠিসোটা, লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের জমিতে প্রবেশ করে পুকুর দখলের চেষ্টা করেন। এ সময় পুকুরপাড়ের কলাগাছ, আমগাছ কেটে এবং বিভিন্ন ধরনের সবজি নষ্ট করে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। এছাড়া পুকুর থেকে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে আরও প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়ে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ঘটনার খবর পেয়ে ভুক্তভোগী ও তার লোকজন ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্তরা তাদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেন। এর আগে একই সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে অভিযোগকারী ও তার ভাই-বোনেরা আদালতে পিটিশন মামলা নং-১৯৪/২৬, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় মামলা করেন।

মোমিন তালুকদার বলেন, গত শুক্রবার সকাল ৯ টায় কুখ্যাত সন্ত্রাসী দল এসে এক বাড়ির উপর হামলা করে। বাড়ির উপরে হামলা করে এবং পুরা টিনশেড বিল্ডিংটা ভাঙচুর করে। ভাঙচুর করার পর আসবাবপত্রসহ যা ছিল মালামাল, সম্পূর্ণ তারা লুটপাট করে নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী আছিয়া বলেন, আমি হযরতপুরের মেয়ে। আমার বাপের বাড়ি বালুচর শাহবাড়ি। কেন এরা এরকম করতাছে? কীভাবে আমাদের সাথে এরকম অত্যাচার করতাছে? আমার থানায় অভিযোগ দিয়েছি, কিন্ত থানা মামলা নিচ্ছে না, কোনো আমলেও নিচ্ছে না। এভাবে হলে আমরা কোথায় কার কাছে যাবো? বাড়ি ঘর ভেঙে দেওয়ায় আমরা অসহায় ভাবে দিন কাটাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, ওরা ২০ লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছে, কই থেকে দিবে আমার ভাইরা? আমার ভাইরা থাকে প্রবাসে। আমার ভাইরা রাজনীতি করেন না। সারাজীবন ওরা বিদেশে থাকছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই বিষয়ে বিচার ও নিরাপত্তা চেয়ে অনুরোধ করছি।

চাঁদাবাজি ও বাড়িঘর ভাঙচুরের বিষয়ে থানায় মামলা না নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল কুদ্দুস বলেন, বিষয়টি আমার জানা নাই, কোন ঘটনা মনে পড়ছে না। আমি খোঁজ খবর নিয়ে পরে জানাবো।