০৯:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাজীপুরে ডিজে পার্টিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযান,এক্সটাসি-কোকেন-কুশসহ গ্রেফতার ৪

  • আপডেট: ০৯:০৮:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৮০০৩

নিজস্ব প্রতিবেদক,সোনালী খবর

গাজীপুরের পূবাইলে একটি রিসোর্টে আয়োজিত ডিজে পার্টিতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে এমডিএমএ বা এক্সটাসি, কুশ, কোকেন, বিদেশি মদ ও টিএইচসি-যুক্ত গামিসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন–মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান তানজিম (২৯), তুষার আহমেদ নিশু (৩২) ও মহিদুল ইসলাম রাহাত (২৮) ও বাসফিয়া মিশাত (২৫)।

গতকাল শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত পূবাইলের ভাদুন এলাকার পূবাইল রিসোর্ট ক্লাবে এ অভিযান চালানো হয়। ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক এ কে এম শওকত ইসলামের নেতৃত্বে বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা অভিযানে অংশ নেন। এতে সহায়তা করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদস্যরা।

রাতে ডিএনসির গাজীপুর জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. এমদাদুল ইসলাম মিঠুনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিএনসি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল রাতে পূবাইলের ভাদুন এলাকার পূবাইল রিসোর্ট ক্লাবে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে রিসোর্টের লেকের ভেতরে থাকা ‘টিউবরোজ-১’ নামের কটেজের একটি কক্ষ থেকে ১ গ্রাম কোকেন, ১২ পিস এমডিএমএ বা এক্সটাসি, একটি আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্স ও একটি আইফোন ১২ প্রো জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান তানজিম (২৯) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।

অন্যদিকে ‘টিউবরোজ-২’ কটেজের একটি কক্ষ থেকে ৩ দশমিক ৭৫ লিটার বিদেশি মদ, ১৫ গ্রাম কুশ, ২০ গ্রাম ‘স্ট্রবেরি ড্রিম ইনফিউজড গামিস’ এবং একটি আইফোন ১৩ প্রো ম্যাক্স ও একটি অপো এফ৭ মুঠোফোন জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় তুষার আহমেদ নিশু (৩২) ও মহিদুল ইসলাম রাহাত (২৮) নামের দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।

পরে গ্রেফতার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই রিসোর্টের লেকের ভেতরে ‘গোমতী-১’ নামের একটি কটেজে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে আরও ৯ পিস এমডিএমএ বা এক্সটাসি ও ৯ গ্রাম কুশ জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় বাসফিয়া মিশাত (২৫) নামের এক নারীকে গ্রেফতার করা হয়।

ডিএনসি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেফতার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান তানজিম, তুষার আহমেদ নিশু ও মহিদুল ইসলাম রাহাতের নেতৃত্বে ‘সনিক প্লাস’ নামে ডিজে পার্টির আয়োজন করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া তরুণ-তরুণীদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সিনথেটিক মাদক সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে।

রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে ডিএনসি আরও জানায়, অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য রিসোর্টটি তানজিম, তুষার ও মহিদুল ভাড়া নিয়েছিলেন। তবে আয়োজনের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়েরের কার্যক্রম চলছে। আইনটি ১৬ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে।

টিকেটের দাম ৬ থেকে ১২ হাজার

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে কিশোর-কিশোরীদের কাছে টিকিট বিক্রি করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গোপনীয় গ্রুপ খুলে যারা বিভিন্ন সময় এ ধরনের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছিলেন, তাদের যুক্ত করা হয়। এ ধরনের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য জনপ্রতি ৬ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত টিকিটের দাম নেওয়া হয়।

কর্মকর্তারা আরও বলেন, অনুষ্ঠান শুরুর পর আয়োজকদের নির্ধারিত মাদক সরবরাহকারীরা ভেতরে ঘুরে ঘুরে অংশগ্রহণকারীদের কাছে নানা ধরনের মাদকদ্রব্য বিক্রি করেন। সেখানে মাদক সেবনের সব ধরনের আয়োজন থাকে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ঢাকা, গাজীপুর ও কক্সবাজারের বড় বড় রিসোর্টে প্রতি মাসেই এ ধরনের ডিজে পার্টির আয়োজন করা হয়। একাধিক গ্রুপ এ আয়োজনের সঙ্গে জড়িত। জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

রিসোর্টগুলোকে সতর্ক করেছে ডিএনসি

ডিজে পার্টির আড়ালে মাদক বিক্রির এ ধরনের আয়োজনের জন্য রিসোর্ট ভাড়া না দিতে গাজীপুরের রিসোর্টগুলোকে সর্তক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গাজীপুরের উপপরিচালক এমদাদুল হক বলেন, এ ধরনের আয়োজনের তথ্য পেয়ে গাজীপুরের সব রিসোর্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে সর্তক করা হয়েছে যাতে এ ধরনের আয়োজনের জন্য তারা রিসোর্ট ভাড়া না দেয়। তিনি বলেন, যারা এ ধরনের আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

গাজীপুরে ডিজে পার্টিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযান,এক্সটাসি-কোকেন-কুশসহ গ্রেফতার ৪

আপডেট: ০৯:০৮:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,সোনালী খবর

গাজীপুরের পূবাইলে একটি রিসোর্টে আয়োজিত ডিজে পার্টিতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে এমডিএমএ বা এক্সটাসি, কুশ, কোকেন, বিদেশি মদ ও টিএইচসি-যুক্ত গামিসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন–মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান তানজিম (২৯), তুষার আহমেদ নিশু (৩২) ও মহিদুল ইসলাম রাহাত (২৮) ও বাসফিয়া মিশাত (২৫)।

গতকাল শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত পূবাইলের ভাদুন এলাকার পূবাইল রিসোর্ট ক্লাবে এ অভিযান চালানো হয়। ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক এ কে এম শওকত ইসলামের নেতৃত্বে বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা অভিযানে অংশ নেন। এতে সহায়তা করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদস্যরা।

রাতে ডিএনসির গাজীপুর জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. এমদাদুল ইসলাম মিঠুনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিএনসি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল রাতে পূবাইলের ভাদুন এলাকার পূবাইল রিসোর্ট ক্লাবে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে রিসোর্টের লেকের ভেতরে থাকা ‘টিউবরোজ-১’ নামের কটেজের একটি কক্ষ থেকে ১ গ্রাম কোকেন, ১২ পিস এমডিএমএ বা এক্সটাসি, একটি আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্স ও একটি আইফোন ১২ প্রো জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান তানজিম (২৯) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।

অন্যদিকে ‘টিউবরোজ-২’ কটেজের একটি কক্ষ থেকে ৩ দশমিক ৭৫ লিটার বিদেশি মদ, ১৫ গ্রাম কুশ, ২০ গ্রাম ‘স্ট্রবেরি ড্রিম ইনফিউজড গামিস’ এবং একটি আইফোন ১৩ প্রো ম্যাক্স ও একটি অপো এফ৭ মুঠোফোন জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় তুষার আহমেদ নিশু (৩২) ও মহিদুল ইসলাম রাহাত (২৮) নামের দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।

পরে গ্রেফতার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই রিসোর্টের লেকের ভেতরে ‘গোমতী-১’ নামের একটি কটেজে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে আরও ৯ পিস এমডিএমএ বা এক্সটাসি ও ৯ গ্রাম কুশ জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় বাসফিয়া মিশাত (২৫) নামের এক নারীকে গ্রেফতার করা হয়।

ডিএনসি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেফতার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান তানজিম, তুষার আহমেদ নিশু ও মহিদুল ইসলাম রাহাতের নেতৃত্বে ‘সনিক প্লাস’ নামে ডিজে পার্টির আয়োজন করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া তরুণ-তরুণীদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সিনথেটিক মাদক সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে।

রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে ডিএনসি আরও জানায়, অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য রিসোর্টটি তানজিম, তুষার ও মহিদুল ভাড়া নিয়েছিলেন। তবে আয়োজনের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়েরের কার্যক্রম চলছে। আইনটি ১৬ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে।

টিকেটের দাম ৬ থেকে ১২ হাজার

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে কিশোর-কিশোরীদের কাছে টিকিট বিক্রি করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গোপনীয় গ্রুপ খুলে যারা বিভিন্ন সময় এ ধরনের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছিলেন, তাদের যুক্ত করা হয়। এ ধরনের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য জনপ্রতি ৬ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত টিকিটের দাম নেওয়া হয়।

কর্মকর্তারা আরও বলেন, অনুষ্ঠান শুরুর পর আয়োজকদের নির্ধারিত মাদক সরবরাহকারীরা ভেতরে ঘুরে ঘুরে অংশগ্রহণকারীদের কাছে নানা ধরনের মাদকদ্রব্য বিক্রি করেন। সেখানে মাদক সেবনের সব ধরনের আয়োজন থাকে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ঢাকা, গাজীপুর ও কক্সবাজারের বড় বড় রিসোর্টে প্রতি মাসেই এ ধরনের ডিজে পার্টির আয়োজন করা হয়। একাধিক গ্রুপ এ আয়োজনের সঙ্গে জড়িত। জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

রিসোর্টগুলোকে সতর্ক করেছে ডিএনসি

ডিজে পার্টির আড়ালে মাদক বিক্রির এ ধরনের আয়োজনের জন্য রিসোর্ট ভাড়া না দিতে গাজীপুরের রিসোর্টগুলোকে সর্তক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গাজীপুরের উপপরিচালক এমদাদুল হক বলেন, এ ধরনের আয়োজনের তথ্য পেয়ে গাজীপুরের সব রিসোর্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে সর্তক করা হয়েছে যাতে এ ধরনের আয়োজনের জন্য তারা রিসোর্ট ভাড়া না দেয়। তিনি বলেন, যারা এ ধরনের আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।