নির্বাচনের আগে ঢাকায় অস্ত্র পাচারের চেষ্টা, বাস তল্লাশিতে দুই বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ ব্যবসায়ী গ্রেফতার
- আপডেট: ০৬:৪৮:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১৮০০২
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজধানীতে অবৈধ অস্ত্র ঢোকানোর চেষ্টার অভিযোগে দুইটি বিদেশি পিস্তল ও ২১ রাউন্ড গুলিসহ এক অস্ত্র ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেফতারকৃতের নাম মো. আজগর আলী ওরফে ভোলা (৫৫)। তিনি যশোর জেলার বেনাপোল থানার বাসিন্দা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর শ্যামপুরের ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে একটি যাত্রীবাহী বাস তল্লাশি করে তাকে গ্রেফতার করে ডিবির লালবাগ বিভাগের একটি দল।
বৃহস্পতিবার(২২ জানুয়ারি) বিকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবি-লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো.মোস্তাক সরকার।
তিনি জানান,গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি-লালবাগ বিভাগের একটি আভিযানিক দল বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে শ্যামপুরের চানখারপুর এলাকায় অবস্থান নেয়। এ সময় তথ্য আসে, বেনাপোল থেকে সোহাগ পরিবহনের একটি বাসে করে এক অস্ত্র ব্যবসায়ী ঢাকায় প্রবেশ করছে।
এরপর দুপুর দেড়টার দিকে শ্যামপুর পশ্চিম ধোলাইপাড় এলাকায় ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের বনফুল মিষ্টির দোকানের সামনে অবস্থান নেয় ডিবি টিম। দুপুর আনুমানিক ১টা ৪০ মিনিটে বেনাপোল থেকে আসা সোহাগ পরিবহনের বাসটিকে থামানোর সংকেত দেওয়া হয়।
বাসটির সুপারভাইজার ও হেলপারের উপস্থিতিতে তল্লাশির একপর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী আজগর আলী ওরফে ভোলাকে শনাক্ত করা হয়। তার দেহ তল্লাশি করে কোমরের এক পাশে সিলভার রঙের একটি বিদেশি পিস্তল এবং কালো স্কচ টেপে মোড়ানো দুইটি সিলভার রঙের ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। অপর পাশে কালো রঙের আরেকটি বিদেশি পিস্তল ও প্লাস্টিক স্কচ টেপে মোড়ানো দুইটি কালো ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া তার প্যান্টের পকেট থেকে ছোট শামীমে মোড়ানো ২১ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান,তার বাড়ি যশোর জেলার বেনাপোল এলাকায়। পুলিশ জানায়,গ্রেফতারকৃত আজগর আলীর বিরুদ্ধে ২০২১ সালে খিলগাঁও থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা রয়েছে। এছাড়া ২০২৪ সালে সাভার থানায় বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিলসহ গ্রেফতার হয়েছিলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিবি-লালবাগের উপ-পুলিশ কমিশনার বলেন,নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এসব অস্ত্র ঢাকায় আনা হয়েছিল কি না—তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে অবৈধ অস্ত্রের মূল উদ্দেশ্যই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো। তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে অস্ত্রের উৎস ও ঢাকায় কার কাছে বিক্রি করতো, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
গ্রেফতারকৃতের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।




















