অল্প মানুষ রাস্তা ব্লক করে দেয় এতে অন্তঃসত্ত্বা নারী-হার্ট অ্যাটাকের রোগী হাসপাতালে যেতে পারে না:ডিএমপি কমিশনার
- আপডেট: ০৬:৩৯:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ১৮০০২
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
গত ১৫ মাসে রাজধানীতে বারবার অল্পসংখ্যক লোকের সড়ক অবরোধে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।
সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “গত ১৫ মাসে আপনারা দেখেছেন—২০ জন, ১০ জন লোক এসে পুরো রাস্তা ব্লক করে দেয়। এতে কী হয়? প্রেগন্যান্ট লেডি ডেলিভারির জন্য হাসপাতালে যেতে পারে না। হার্ট অ্যাটাকের রোগী যেতে পারে না। পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় যেতে পারে না। কারও বিমানবন্দরের টিকিট আছে—প্লেন মিস করে।”
ডিএমপি কমিশনার বলেন, রাজধানীর সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে নাগরিকদের চলাচল কার্যত অচল হয়ে পড়ে। এতে শুধু ভোগান্তিই নয়, অনেক ক্ষেত্রে মানুষের জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়ে।
সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার গত শুক্রবার নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়ন ও হাদি হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলনকারীদের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার দিকে (প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন) অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা এবং তা ছত্রভঙ্গ করার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে একপর্যায়ে ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশকে (আইজিপি) ফোন করে সহযোগিতা চাওয়া হয়। পরে ইন্সপেক্টর জেনারেল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, ”আন্দোলন দমন করতে আমি নিজে একা পারতেছি না—এটা বুঝে আমি আমার ইন্সপেক্টর জেনারেলকে ফোন করি। বলি, ভাই, আমি একা পারতেছি না, ইউ শুড কাম টু হেলপ মি। উনিও সেটা বুঝেছেন এবং নিজেই সেখানে আসছেন।”
তিনি আরও বলেন, আইজিপি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আন্দোলনকারীদের সরিয়ে পাশের জায়গায় নেওয়া হয়। “আমার ডান পাশে সহকর্মী, বাম পাশে সহকর্মী—সবাই উপস্থিত ছিল। ঠিক সেই সময় ইন্সপেক্টর জেনারেল এসে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন,” বলেন তিনি।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, পুলিশের দায়িত্ব রাজধানীকে নিরাপদ রাখা, মানুষের জানমাল সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচল অব্যাহত রাখা। এ দায়িত্ব পালনে পুলিশ সর্বোচ্চ সংযম ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, আপনারা নিশ্চিন্তে, নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে এসে সুশৃঙ্খলভাবে আপনাদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করুন। নতুন বাংলাদেশ গড়ার ঐতিহাসিক এই মাহেন্দ্রক্ষণে সকলে সম্মিলিত অবদান রাখি।
সেনাবাহিনীর তথ্যমতে ঢাকায় দুইটি আসন ঝুঁকিপূর্ণ, ডিএমপির মতে কয়টি আসন ঝুঁকিপূর্ণ জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘আমরা সেভাবে অ্যানালাইসিস করিনি। আমরা অ্যানালাইসিস করেছি, ঢাকা মেট্রোপলিটনে দুই ধরনের কেন্দ্র থাকবে। একটি হলো গুরুত্বপূর্ণ, আরেকটি হলো সাধারণ। ১ হাজার ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র এবং ৫১৭টি সাধারণ ভোটকেন্দ্র। এছাড়া আমরা ৩৭টি ভোটকেন্দ্র চিহ্নিত করেছি, যেখানে ৭ জন করে পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে।’
নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে না, চিন্তার কোনো কারণ নেই। আমাদের সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া আছে। একটি নির্বাচন যখন হয়, তখন একটি দল জয়লাভ করে, একটি দল পরাজয় লাভ করে। তখন পরাজিতরা কারচুপির কথা বলে। আমাদের দেশের কালচারই এমন। এখনো বাজারে নানা গুজব রয়েছে।’
নির্বাচন সাংবাদিকদের নিরাপত্তায় ডিএমপি কোনো পরিকল্পনা আছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের সার্বিক যে নিরাপত্তা পরিকল্পনা, সেখানে সাংবাদিক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আমার কলিগ সবাই আছে। তিন কোটি ঢাকাবাসী এই পরিকল্পনার মধ্যে আছে। কারো নিরাপত্তাহানি ঘটবে আমরা মনে করি না। শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই, আমি শতভাগ নিশ্চিত করছি।’
অতীতে পুলিশকে রাজনৈতিক দল ব্যবহার করেছে। এবার কি কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে যে পুলিশকে রাজনৈতিক দল ব্যবহার করতে পারবে না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গত ১৫ মাস আমি ডিএমপির কমিশনার। আপনারা কি দেখেছে, আমরা রাজনৈতিক দলের পক্ষে কাজ করেছি। যদি দেখেন আমরা কোনো দলের পক্ষে কাজ করিনি, তাহলে এটাই প্রমাণ করে আমরা কোনো দলের না।’
সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডিএমপি কমিশনারের লাঠি হাতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও’র বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, ‘আমি ছুটির দিনে বাসায় ইনফরমাল ড্রেসে চুল কাটাচ্ছিলাম। যখন শুনতে পেলাম আন্দোলনকারীরা যমুনায় ঢুকে পড়ছে, আমি অন্য কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই চলে এসেছি। গিয়ে দেখি পরিস্থিতি ভয়ানক। নির্বাচনের ৫-৬ দিন আগে সরকার প্রধানের বাসার সামনে আন্দোলনকারীরা এসে যদি এ ধরনের কর্মকান্ড করে, তাহলে ডিএমপি কমিশনার হিসেবে কি বসে থাকার সুযোগ আছে? ডেইলি স্টার-প্রথম আলোতে যে আক্রমণ হলো গভীর রাতে, ট্রাফিক জ্যামের কারণে আমার অফিসারদের আমি সময়মতো সেখানে পাঠাতে পারিনি। এই ধরনের ঘটনা ঘটলো। তখন সব দায় পুলিশের ওপর এলো। সরকার প্রধানের বাসভবনে যখন আন্দোলনকারীরা ঢোকার চেষ্টা করছিল, তখন ডিএমপি কমিশনার হিসেবে আমার বসে থাকার সুযোগ আছে কিনা?’

















