ভিক্ষাবৃত্তি করাতে শিশুর গোপনাঙ্গ বিচ্ছিন্ন, সুস্থ করে ১৬ বছর পর ভুক্তভোগীকে হস্তান্তর
- আপডেট: ১১:৫০:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
- / ১৮০০৪
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর এলাকায় ভিক্ষাবৃত্তি করানোর জন্য ১৬ বছর আগে শিশুর গোপনাঙ্গ বিচ্ছিন্নের ঘটনা ঘটে। পরে আদালতের নির্দেশে র্যাব তাকে জিম্মায় নিয়ে চিকিৎসা করায়। আজ সেই ভুক্তভোগীকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে র্যাব-১ কার্যালয়ে তাকে তার বাবার কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় র্যাব-১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল নেয়ামুল হালিম খান। বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন এলিনা খানসহ অন্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
রাতে এ তথ্য জানিয়েছেন র্যাব-১-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপস অ্যান্ড মিডিয়া) শাহ আলম।
২০১০ সালে ৬ সেপ্টেম্বর ওই শিশুর বয়স ছিল সাত বছর। বর্তমানে তিনি ২৩ বছর বয়সী তরুণ। তার সঙ্গে সংঘটিত এমন মর্মান্তিক ঘটনায় তার বাবা তখন বাদী হয়ে অঙ্গহানির মামলা করেন। মামলার পাঁচ আসামি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহ আলম বলেন, ২০১০ সালের ৬ সেপ্টেম্বর কামরাঙ্গীরচরে শরিফুল ইসলাম ওরফে কোরবান আলী, সালাহ উদ্দিন, খন্দকার ওমর ফারুক, ইমরান ও আব্দুল্লাহ আল মামুন শিশু অবস্থায় তাকে ভিক্ষাবৃত্তির উদ্দেশ্যে ব্লেড দিয়ে তার গোপনাঙ্গ বিচ্ছিন্নসহ, গলা-পেট ও মাথায় রক্তাক্ত জখম করে। পরে তার বাবা উমেদ আলী বাদী হয়ে কামরাঙ্গীরচর থানায় একটি মামলা করেন।
পরে র্যাব তদন্ত চালিয়ে মূল আসামি শরিফুল ইসলামসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদাতে পাঠায়। আসামিরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। ওই সময় ভুক্তভোগীকে র্যাবের জিম্মায় চিকিৎসার জন্য নির্দেশ দেন মহামান্য হাইকোর্ট।
তিনি বলেন, পরে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে দুই মাস চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। এদিকে ২০১১ সালের ১৫ মে মামলার তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। তারপর গত ২ এপ্রিল ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
গত ৯ এপ্রিল একই আদালত ভুক্তভোগীকে তার বাবার জিম্মায় দেওয়ার জন্য আদেশ দেন। আদালতের আদেশের ভিত্তিতেই তাকে তার বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহ আলম।



















