০৩:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬

বিনিয়োগের ফাঁদে ৪০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ, চক্রের এক সদস্য গ্রেফতার

  • আপডেট: ১২:০০:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
  • / ১৮০০৫

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

‘নাজরান ফিশারিজ অ্যান্ড এগ্রো প্রজেক্ট’ নামে ভুয়া কৃষি প্রকল্পে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রতারক চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে সংস্থাটির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেফতারকৃতের নাম মো. ওবায়েদুল্লাহ (৩৩)। তিনি দ্বীপ জেলা ভোলার শশীভোষণ থানার জাহানপুর এলাকার বাসিন্দা। গতকাল ঢাকা মহানগরীর সবুজবাগ থানাধীন বাসাবো এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে সিআইডির ঢাকা মেট্রো উত্তর ইউনিটের একটি দল।

জসীম উদ্দিন খান জানান, একটি চক্র ‘নাজরান ফিশারিজ অ্যান্ড এগ্রো প্রজেক্ট’ নামে একটি ভুয়া প্রকল্প চালু করে উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের ফাঁদে ফেলে। ১ লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে মাসে ৩ হাজার টাকা লাভসহ আসল ফেরত দেওয়া হবে এবং ৩৩ মাসে মূলধন দ্বিগুণ হবে।

এই প্রলোভনে পড়ে ২০২৩ সালের মে মাসে ভাটারা থানার কুড়িল চৌরাস্তা এলাকায় চক্রের অফিসে গিয়ে ভুক্তভোগী ও মামলার বাদী ৭ লাখ টাকা এবং তার দুই বান্ধবী ৫ লাখ টাকা করে বিনিয়োগ করেন। বিনিময়ে তাদের মানি রিসিট ও মাসিক ক্যাশব্যাক বহি দেওয়া হয়।

আস্থা তৈরি করে বড় অঙ্ক হাতিয়ে নিতে চক্রটি সুকৌশলে প্রথমদিকে ৪২ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে ভুক্তভোগীদের আস্থা অর্জন করে চক্রটি। পরে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে ব্যাংকের মাধ্যমে আরও ৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করানো হয়।

এরপর ‘প্রজেক্ট প্লট’ কেনার কথা বলে চাপ প্রয়োগ করে বাদী ও তার দুই বান্ধবীর কাছ থেকে মোট ১ কোটি ৬৩ লাখ ৯৮ হাজার টাকা নেওয়া হয়। যদিও এর বিপরীতে ১৮ লাখ ৭২ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছিল, পরে হঠাৎ লেনদেন বন্ধ করে অফিস গুটিয়ে আত্মগোপনে চলে যায় চক্রটি। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীরা একাধিক মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তে নেমে সিআইডি জানতে পারে, একই কৌশলে অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছে চক্রটি। প্রতিষ্ঠানটির নামে পরিচালিত ৪টি ব্যাংক হিসাব, মানি রিসিট ও সার্ভার ডেটা বিশ্লেষণে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে।

গ্রেফতারকৃত ওবায়েদুল্লাহর ব্যক্তিগত ১৪টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় আড়াই কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য মিলেছে। ২০২৫ সালের মে মাসে প্রায় ১৫ হাজার ভুক্তভোগী ৮০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনও করেন।

সিআইডির এ কর্মকর্তা আরও জানান, ওবায়েদুল্লাহর বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ভাটারা, উত্তরা পশ্চিম ও সাভার থানার মামলা উল্লেখযোগ্য। এসব মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি রয়েছে।

অভিযান অব্যাহত মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তরা পলাতক হয়ে মোবাইল নম্বর বন্ধ করে দেয়।

প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে অবস্থান শনাক্ত করে বাসাবো এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

বর্তমানে তাকে রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে সোপর্দের প্রক্রিয়া চলছে। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিনিয়োগসহ অতিরিক্ত মুনাফার ফাঁদে পা না দিতে আহবান জানিয়েছে সিআইডি। সংস্থাটি বলছে, এ ধরনের প্রতারণা থেকে বাঁচতে সিআইডি জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে। অপরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের আগে যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো আর্থিক লেনদেন থেকে বিরত থাকতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

বিনিয়োগের ফাঁদে ৪০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ, চক্রের এক সদস্য গ্রেফতার

আপডেট: ১২:০০:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

‘নাজরান ফিশারিজ অ্যান্ড এগ্রো প্রজেক্ট’ নামে ভুয়া কৃষি প্রকল্পে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রতারক চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে সংস্থাটির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেফতারকৃতের নাম মো. ওবায়েদুল্লাহ (৩৩)। তিনি দ্বীপ জেলা ভোলার শশীভোষণ থানার জাহানপুর এলাকার বাসিন্দা। গতকাল ঢাকা মহানগরীর সবুজবাগ থানাধীন বাসাবো এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে সিআইডির ঢাকা মেট্রো উত্তর ইউনিটের একটি দল।

জসীম উদ্দিন খান জানান, একটি চক্র ‘নাজরান ফিশারিজ অ্যান্ড এগ্রো প্রজেক্ট’ নামে একটি ভুয়া প্রকল্প চালু করে উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের ফাঁদে ফেলে। ১ লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে মাসে ৩ হাজার টাকা লাভসহ আসল ফেরত দেওয়া হবে এবং ৩৩ মাসে মূলধন দ্বিগুণ হবে।

এই প্রলোভনে পড়ে ২০২৩ সালের মে মাসে ভাটারা থানার কুড়িল চৌরাস্তা এলাকায় চক্রের অফিসে গিয়ে ভুক্তভোগী ও মামলার বাদী ৭ লাখ টাকা এবং তার দুই বান্ধবী ৫ লাখ টাকা করে বিনিয়োগ করেন। বিনিময়ে তাদের মানি রিসিট ও মাসিক ক্যাশব্যাক বহি দেওয়া হয়।

আস্থা তৈরি করে বড় অঙ্ক হাতিয়ে নিতে চক্রটি সুকৌশলে প্রথমদিকে ৪২ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে ভুক্তভোগীদের আস্থা অর্জন করে চক্রটি। পরে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে ব্যাংকের মাধ্যমে আরও ৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করানো হয়।

এরপর ‘প্রজেক্ট প্লট’ কেনার কথা বলে চাপ প্রয়োগ করে বাদী ও তার দুই বান্ধবীর কাছ থেকে মোট ১ কোটি ৬৩ লাখ ৯৮ হাজার টাকা নেওয়া হয়। যদিও এর বিপরীতে ১৮ লাখ ৭২ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছিল, পরে হঠাৎ লেনদেন বন্ধ করে অফিস গুটিয়ে আত্মগোপনে চলে যায় চক্রটি। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীরা একাধিক মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তে নেমে সিআইডি জানতে পারে, একই কৌশলে অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছে চক্রটি। প্রতিষ্ঠানটির নামে পরিচালিত ৪টি ব্যাংক হিসাব, মানি রিসিট ও সার্ভার ডেটা বিশ্লেষণে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে।

গ্রেফতারকৃত ওবায়েদুল্লাহর ব্যক্তিগত ১৪টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় আড়াই কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য মিলেছে। ২০২৫ সালের মে মাসে প্রায় ১৫ হাজার ভুক্তভোগী ৮০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনও করেন।

সিআইডির এ কর্মকর্তা আরও জানান, ওবায়েদুল্লাহর বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ভাটারা, উত্তরা পশ্চিম ও সাভার থানার মামলা উল্লেখযোগ্য। এসব মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি রয়েছে।

অভিযান অব্যাহত মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তরা পলাতক হয়ে মোবাইল নম্বর বন্ধ করে দেয়।

প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে অবস্থান শনাক্ত করে বাসাবো এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

বর্তমানে তাকে রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে সোপর্দের প্রক্রিয়া চলছে। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিনিয়োগসহ অতিরিক্ত মুনাফার ফাঁদে পা না দিতে আহবান জানিয়েছে সিআইডি। সংস্থাটি বলছে, এ ধরনের প্রতারণা থেকে বাঁচতে সিআইডি জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে। অপরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের আগে যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো আর্থিক লেনদেন থেকে বিরত থাকতে হবে।