০১:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

সচল রাডার অচল…… আবহাওয়া অধিদপ্তরে মমিনুল সিন্ডিকেটের লাগামহীন দুর্নীতি

  • আপডেট: ০৬:৪৪:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
  • / ১৮০১৫

দেখার কি কেউ নেই?

সালাউদ্দিন সুমন :

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরে বর্তমানে একটি লাগামহীন-দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। একই ব্যক্তি একই স্থানে দীর্ঘমেয়াদী চাকুরী করা সুযোগে সরকারী অর্থ-সম্পদ নিজেদের বাপদাদার সম্পতি মনে করে যা ইচ্ছে তাই করার পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছে দীর্ঘ সময় ধরে। এমনই ঘটনা ঘটেছে খোদ রাষ্টীয় প্রতিষ্ঠান আবহাওয়া অধিদপ্তরে। দেশের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আগাম খবর নেওয়া একমাত্র মাধ্যম এই সুনামধন্য দপ্তর। দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠির যানমাল নিরাপত্তার আগাম সংকেতের পাঁচটি রাডার দেশের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ন জেলায় অবস্থিত যা পটুয়াখালীর খেপুপাড়া, মৌলভীবাজার,কক্সবাজার,রংপুর,জয়দেবপুর জেলায় দৃশ্যমান রয়েছে। সুত্রে জানা যায় খেপুপাড়া, মৌলভীবাজার,কক্সবাজার এর রাডার তিন আগে থেকে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। সম্পতি রংপুর ও জয়দেবপুরের দুইটি রাডার ওভার লোড দিয়ে অকেজ করে দেশবিদেশে ঘুরে মেগাপ্রকল্প নেওয়ার পায়তারা করে বেড়াচ্ছে প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতিবাজ পরিচালক মমিনুল ইসলাম। সূত্রে জানা যায়, যাদের মূল লক্ষ্য কেনাকাটার নামে সরকারি অর্থ লুটপাট করা। এই সিন্ডিকেটের মূলহোতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন বর্তমান পরিচালক মোঃ মমিনুল ইসলাম। তার প্রত্যক্ষ ছত্রছায়ায় অধিদপ্তরের আরও তিন প্রভাবশালী কর্মকর্তা উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ও বাজেট বিভাজন কর্মকর্তা মোঃ রাশেদুজ্জামান, উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) রুবাইয়াত কবির এবং যান্ত্রিক প্রকৌশলী আবু সাজ্জাদ চৌধুরী গড়ে তুলেছেন দুর্নীতির এক অভেদ্য দুর্গ। ২৪৭ কোটি টাকার প্রকল্প লুটপাট শেষ করে ৬০০ কোটি টাকার প্রকল্প লুটপাটের সমস্ত আয়োজনই সেরে রেখেছে এই চক্রটি।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, এই সিন্ডিকেটটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ করে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছে। দুর্নীতির প্রথম ধাপ শুরু হয় বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে। উপপরিচালক ও বাজেট বিভাজন কর্মকর্তা মোঃ রাশেদুজ্জামান যিনি ক্লাইমেট ও বাজেট শাখার দায়িত্বে আছেন, তার প্রধান কাজ হলো নির্দিষ্ট কিছু খাতে অস্বাভাবিকভাবে বেশি বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করা। বাজেট বরাদ্দ হয়ে গেলে মাঠে নামেন যান্ত্রিক প্রকৌশলী আবু সাজ্জাদ চৌধুরী। তিনি বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা বা এপিপিতে এমনভাবে কেনাকাটার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করেন যা সিন্ডিকেটের সুবিধা মত হয়। তিনিই পরিচালক মমিনুল ইসলামের যোগসাজশে নিজেদের পছন্দের কর্মকর্তাদের দিয়ে স্পেসিফিকেশন কমিটি গঠন করেন। এই কমিটি মূলত সিন্ডিকেটের ঘনিষ্ঠ প্রতিষ্ঠান ‘মাজ্জাক ইন্টারটেড’, ‘বিডিটি করর্পোরেশন’ ও ইউটেক লিমিটেডের সরবরাহকৃত স্পেসিফিকেশনকেই সরকারি নথিতে অন্তর্ভুক্ত করে টেন্ডার আহ্বান করার প্রমান আমাদের হাতে এসেছে। সিন্ডিকেটের শেষ ধাপটি সম্পন্ন করেন উপপরিচালক রুবাইয়াত কবির। তিনি অধিদপ্তরের সকল টেন্ডার ইভ্যুলেশন কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার কাজ হলো টেন্ডারে এমন কিছু বিশেষ শর্ত জুড়ে দেওয়া, যাতে কেবল তাদের নির্ধারিত কোম্পানিগুলোই কাজ পায়। এভাবে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি করে কাজ পাইয়ে দেওয়া নিশ্চিত করা হয়। তাদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকার বাড়ী,গাড়ী নেওয়ার গুঞ্জন রয়েছে খোদ দপ্তরে। এই চক্রটি বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমল থেকেই কমিশন বাণিজ্য করে অধিদপ্তরটিকে ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে পৌছে দিয়েছে। ইতিপূর্বে তারা রেডিও সতী, পাইলট সন্ডা এবং হাইড্রোজেন গ্যাস জেনারেটরের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম অত্যন্ত উচ্চমূল্যে ক্রয় করেছে। এডাবলুএস, এআরজি, ডাটা সেন্টার, সফওয়ার ও গ্যাস জেনারেটর ক্রয়ে অভিযোগ রয়েছে, এসব যন্ত্রপাতি ছিল অত্যন্ত মানহীন এবং বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে আবহাওয়ার বিভিন্ন অফিসে পড়ে থাকার প্রমান রয়েছে। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো পরিচালক মমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে এই কর্মকর্তারা যন্ত্রপাতিগুলো সঠিকভাবে বুঝে না নিয়েই কোম্পানির সঙ্গে যোগসাজশ করে দ্রুত বিল তুলে নিয়েছে বলে সুত্রে প্রকাশ। অকেজো ও নিম্নমানের যন্ত্রপাতির বিল কোনো প্রকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা যাচাই-বাচাই ছাড়াই পরিশোধ করার মূল কারণ ছিল অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি সক্রিয় দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর সাথে তাদের গোপন আঁতাত। মূলত, ব্যক্তিগত আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে এবং কোম্পানিগুলোর সাথে যোগসাজশে কোনো পরীক্ষা ছাড়াই এসবের বিল হাতিয়ে নিয়ে সরকারের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে জানা যায়। এই সিন্ডিকেটটির বর্তমান নজর ৩টি রাডার কেনার নামে পুকুর চুরির একটি বিশাল প্রকল্পের দিকে। এই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য মোঃ রাশেদুজ্জামান। এই প্রকল্পের বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০০ কোটি টাকা। কিন্তু তাদের লুটপাটে বাধা হয়ে দাঁড়ান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর অপ্রযোজনীয় খরচ কমানোর ধারাবাহিক নজির। এতে সিন্ডিকেটের ভয় যদি রাডার প্রকল্পের টাকা কমে যায় তাই প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ আসতে দেরি হওয়ায় এবং প্রকল্পের অর্থ প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে বর্তমানে সচল দুটি রাডারকে ইচ্ছাকৃতভাবে স্যাবটাজ করে অকেজো করে রেখেছেন রাডার প্রকল্পের সম্ভাব্য পিডি রাশেদুজ্জামান। রংপুরের দায়িত্বরত কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা যায় রাডারে ওভারলোড দিয়ে এটি অচল করে ফেলা হয় অত্যন্ত চতুরতার সাথে। জয়দেবপুরের রাডারটিও একই ভাবে ওভারলোড দিয়ে বৈদ্যুতিক লাইনের ট্রান্সফরমার টিকে ব্লাস্ট করে দেওয়া হয়েছে। কারণ সিন্ডিকেট আগে থেকেই জানতো এই ট্রান্সফরমার ওভারলোড নিতে সক্ষম নয়। এভাবে তারা জয়দেবপুর ও রংপুরের রাডার দুটিকে সাময়িকভাবে অকেজো করে রাখে দ্রুত রাডার প্রকল্পের টাকা ছাড় করতে। সুষ্ঠু তদন্ত হলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে বলে বিশ্বাস আবহাওয়া অধিদপ্তরের একাধিক সাধারণ কর্মকর্তাদের । প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আশরাফ উদ্দিন বর্তমান পরিচালক মমিনুল ইসলাম এর নিকট আত্মীয় পরিচয় দিয়ে দ্প্তরের দুর্নীতি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা অব্যহত রেখেছে। তাদের মধ্যকার ঘনিষ্ঠতা সবারই নজর দিয়ে ভয় দেখাচ্ছে কোন কিছু তথ্য ফাঁস হলে চাকুরি চ্যুতির। মমিনুল এই সিন্ডিকেট প্রকল্প থেকে ৪৫ থেকে ৫০ ভাগ টাকা লুটপাটের পরিকল্পনা চূড়ান্ত আলোচনা সবার মুখে মুখে। তাদের একমাত্র লক্ষ্য প্রকল্পের কাজও তাদের বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান ‘মাজ্জাক ট্রেড’-কে পাইয়ে দেওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সাধারণ কর্মকর্তাদের অভিযোগ, পরিচালক মমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে এই কর্মকর্তাদের সিন্ডিকেটটি অধিদপ্তরকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছে। যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে এই সিন্ডিকেটের হাত থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে রক্ষা করা এবং রাষ্ট্রীয় অর্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। এই অবস্থায় দেশের জনগনের যানমালের বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন দেশবাসী।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

সচল রাডার অচল…… আবহাওয়া অধিদপ্তরে মমিনুল সিন্ডিকেটের লাগামহীন দুর্নীতি

আপডেট: ০৬:৪৪:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

দেখার কি কেউ নেই?

সালাউদ্দিন সুমন :

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরে বর্তমানে একটি লাগামহীন-দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। একই ব্যক্তি একই স্থানে দীর্ঘমেয়াদী চাকুরী করা সুযোগে সরকারী অর্থ-সম্পদ নিজেদের বাপদাদার সম্পতি মনে করে যা ইচ্ছে তাই করার পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছে দীর্ঘ সময় ধরে। এমনই ঘটনা ঘটেছে খোদ রাষ্টীয় প্রতিষ্ঠান আবহাওয়া অধিদপ্তরে। দেশের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আগাম খবর নেওয়া একমাত্র মাধ্যম এই সুনামধন্য দপ্তর। দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠির যানমাল নিরাপত্তার আগাম সংকেতের পাঁচটি রাডার দেশের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ন জেলায় অবস্থিত যা পটুয়াখালীর খেপুপাড়া, মৌলভীবাজার,কক্সবাজার,রংপুর,জয়দেবপুর জেলায় দৃশ্যমান রয়েছে। সুত্রে জানা যায় খেপুপাড়া, মৌলভীবাজার,কক্সবাজার এর রাডার তিন আগে থেকে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। সম্পতি রংপুর ও জয়দেবপুরের দুইটি রাডার ওভার লোড দিয়ে অকেজ করে দেশবিদেশে ঘুরে মেগাপ্রকল্প নেওয়ার পায়তারা করে বেড়াচ্ছে প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতিবাজ পরিচালক মমিনুল ইসলাম। সূত্রে জানা যায়, যাদের মূল লক্ষ্য কেনাকাটার নামে সরকারি অর্থ লুটপাট করা। এই সিন্ডিকেটের মূলহোতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন বর্তমান পরিচালক মোঃ মমিনুল ইসলাম। তার প্রত্যক্ষ ছত্রছায়ায় অধিদপ্তরের আরও তিন প্রভাবশালী কর্মকর্তা উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ও বাজেট বিভাজন কর্মকর্তা মোঃ রাশেদুজ্জামান, উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) রুবাইয়াত কবির এবং যান্ত্রিক প্রকৌশলী আবু সাজ্জাদ চৌধুরী গড়ে তুলেছেন দুর্নীতির এক অভেদ্য দুর্গ। ২৪৭ কোটি টাকার প্রকল্প লুটপাট শেষ করে ৬০০ কোটি টাকার প্রকল্প লুটপাটের সমস্ত আয়োজনই সেরে রেখেছে এই চক্রটি।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, এই সিন্ডিকেটটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ করে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছে। দুর্নীতির প্রথম ধাপ শুরু হয় বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে। উপপরিচালক ও বাজেট বিভাজন কর্মকর্তা মোঃ রাশেদুজ্জামান যিনি ক্লাইমেট ও বাজেট শাখার দায়িত্বে আছেন, তার প্রধান কাজ হলো নির্দিষ্ট কিছু খাতে অস্বাভাবিকভাবে বেশি বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করা। বাজেট বরাদ্দ হয়ে গেলে মাঠে নামেন যান্ত্রিক প্রকৌশলী আবু সাজ্জাদ চৌধুরী। তিনি বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা বা এপিপিতে এমনভাবে কেনাকাটার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করেন যা সিন্ডিকেটের সুবিধা মত হয়। তিনিই পরিচালক মমিনুল ইসলামের যোগসাজশে নিজেদের পছন্দের কর্মকর্তাদের দিয়ে স্পেসিফিকেশন কমিটি গঠন করেন। এই কমিটি মূলত সিন্ডিকেটের ঘনিষ্ঠ প্রতিষ্ঠান ‘মাজ্জাক ইন্টারটেড’, ‘বিডিটি করর্পোরেশন’ ও ইউটেক লিমিটেডের সরবরাহকৃত স্পেসিফিকেশনকেই সরকারি নথিতে অন্তর্ভুক্ত করে টেন্ডার আহ্বান করার প্রমান আমাদের হাতে এসেছে। সিন্ডিকেটের শেষ ধাপটি সম্পন্ন করেন উপপরিচালক রুবাইয়াত কবির। তিনি অধিদপ্তরের সকল টেন্ডার ইভ্যুলেশন কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার কাজ হলো টেন্ডারে এমন কিছু বিশেষ শর্ত জুড়ে দেওয়া, যাতে কেবল তাদের নির্ধারিত কোম্পানিগুলোই কাজ পায়। এভাবে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি করে কাজ পাইয়ে দেওয়া নিশ্চিত করা হয়। তাদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকার বাড়ী,গাড়ী নেওয়ার গুঞ্জন রয়েছে খোদ দপ্তরে। এই চক্রটি বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমল থেকেই কমিশন বাণিজ্য করে অধিদপ্তরটিকে ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে পৌছে দিয়েছে। ইতিপূর্বে তারা রেডিও সতী, পাইলট সন্ডা এবং হাইড্রোজেন গ্যাস জেনারেটরের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম অত্যন্ত উচ্চমূল্যে ক্রয় করেছে। এডাবলুএস, এআরজি, ডাটা সেন্টার, সফওয়ার ও গ্যাস জেনারেটর ক্রয়ে অভিযোগ রয়েছে, এসব যন্ত্রপাতি ছিল অত্যন্ত মানহীন এবং বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে আবহাওয়ার বিভিন্ন অফিসে পড়ে থাকার প্রমান রয়েছে। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো পরিচালক মমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে এই কর্মকর্তারা যন্ত্রপাতিগুলো সঠিকভাবে বুঝে না নিয়েই কোম্পানির সঙ্গে যোগসাজশ করে দ্রুত বিল তুলে নিয়েছে বলে সুত্রে প্রকাশ। অকেজো ও নিম্নমানের যন্ত্রপাতির বিল কোনো প্রকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা যাচাই-বাচাই ছাড়াই পরিশোধ করার মূল কারণ ছিল অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি সক্রিয় দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর সাথে তাদের গোপন আঁতাত। মূলত, ব্যক্তিগত আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে এবং কোম্পানিগুলোর সাথে যোগসাজশে কোনো পরীক্ষা ছাড়াই এসবের বিল হাতিয়ে নিয়ে সরকারের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে জানা যায়। এই সিন্ডিকেটটির বর্তমান নজর ৩টি রাডার কেনার নামে পুকুর চুরির একটি বিশাল প্রকল্পের দিকে। এই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য মোঃ রাশেদুজ্জামান। এই প্রকল্পের বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০০ কোটি টাকা। কিন্তু তাদের লুটপাটে বাধা হয়ে দাঁড়ান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর অপ্রযোজনীয় খরচ কমানোর ধারাবাহিক নজির। এতে সিন্ডিকেটের ভয় যদি রাডার প্রকল্পের টাকা কমে যায় তাই প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ আসতে দেরি হওয়ায় এবং প্রকল্পের অর্থ প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে বর্তমানে সচল দুটি রাডারকে ইচ্ছাকৃতভাবে স্যাবটাজ করে অকেজো করে রেখেছেন রাডার প্রকল্পের সম্ভাব্য পিডি রাশেদুজ্জামান। রংপুরের দায়িত্বরত কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা যায় রাডারে ওভারলোড দিয়ে এটি অচল করে ফেলা হয় অত্যন্ত চতুরতার সাথে। জয়দেবপুরের রাডারটিও একই ভাবে ওভারলোড দিয়ে বৈদ্যুতিক লাইনের ট্রান্সফরমার টিকে ব্লাস্ট করে দেওয়া হয়েছে। কারণ সিন্ডিকেট আগে থেকেই জানতো এই ট্রান্সফরমার ওভারলোড নিতে সক্ষম নয়। এভাবে তারা জয়দেবপুর ও রংপুরের রাডার দুটিকে সাময়িকভাবে অকেজো করে রাখে দ্রুত রাডার প্রকল্পের টাকা ছাড় করতে। সুষ্ঠু তদন্ত হলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে বলে বিশ্বাস আবহাওয়া অধিদপ্তরের একাধিক সাধারণ কর্মকর্তাদের । প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আশরাফ উদ্দিন বর্তমান পরিচালক মমিনুল ইসলাম এর নিকট আত্মীয় পরিচয় দিয়ে দ্প্তরের দুর্নীতি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা অব্যহত রেখেছে। তাদের মধ্যকার ঘনিষ্ঠতা সবারই নজর দিয়ে ভয় দেখাচ্ছে কোন কিছু তথ্য ফাঁস হলে চাকুরি চ্যুতির। মমিনুল এই সিন্ডিকেট প্রকল্প থেকে ৪৫ থেকে ৫০ ভাগ টাকা লুটপাটের পরিকল্পনা চূড়ান্ত আলোচনা সবার মুখে মুখে। তাদের একমাত্র লক্ষ্য প্রকল্পের কাজও তাদের বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান ‘মাজ্জাক ট্রেড’-কে পাইয়ে দেওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সাধারণ কর্মকর্তাদের অভিযোগ, পরিচালক মমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে এই কর্মকর্তাদের সিন্ডিকেটটি অধিদপ্তরকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছে। যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে এই সিন্ডিকেটের হাত থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে রক্ষা করা এবং রাষ্ট্রীয় অর্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। এই অবস্থায় দেশের জনগনের যানমালের বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন দেশবাসী।