১১:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

ইউনিফর্ম পরে ভাইয়ের আ.লীগের মনোনয়নপত্র জমা: সেই অতিরিক্ত ডিআইজিকে বাধ্যতামূলক অবসর

  • আপডেট: ০৮:৪৯:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
  • / ১৮০০৪

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

পুলিশের ইউনিফর্ম পরে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অভিযোগে ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামানকে বাধ্যতামূলক অবসর দিয়েছে সরকার।

সোমবার (২০ জুলাই) এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সই রয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল ঝিনাইদহ-১ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী তাঁর ছোট ভাই মো. ওয়াহিদুজ্জামান ঢাকার ধানমন্ডিতে দলটির রাজনৈতিক কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে গেলে মো. মনিরুজ্জামান পুলিশের ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন এবং সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

পরদিন ৩০ এপ্রিল জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে ওই অনুষ্ঠানে ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় তাঁর উপস্থিতির ছবি ও সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ ঘটনায় পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ, উপনির্বাচনে বেআইনিভাবে প্রভাব বিস্তারের কৌশল অবলম্বন এবং জনসম্মুখে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মো. মনিরুজ্জামান লিখিত জবাব দিলেও ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত বোর্ড গঠন করা হয়। তদন্ত শেষে বোর্ড অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে বলে মত দেয়।

এরপর তাঁর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দফা কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হলেও তিনি কোনো জবাব দাখিল করেননি। অভিযোগ, লিখিত জবাব, তদন্ত প্রতিবেদন এবং অন্যান্য নথি পর্যালোচনা করে তাঁকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মতামতও চাওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, পিএসসি বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত পোষণ করে। পরে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ প্রমাণিত হওয়ায় মো. মনিরুজ্জামানকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর’ গুরুদণ্ড দেওয়া হয়।

এর আগে ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১১ আগস্ট মো. মনিরুজ্জামান স্বেচ্ছায় অবসরের আবেদন করেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে জমা দেওয়া ওই আবেদনপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, আল-কোরআনের জ্ঞান ও ন্যায়-অন্যায় সম্পর্কে উপলব্ধির ভিত্তিতে তাঁর কাছে বাংলাদেশ পুলিশে চাকরি করা আর সমীচীন মনে হচ্ছে না।

আবেদনপত্রে তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে পুলিশকে দেওয়া মন্ত্রীদের আদেশকে অবৈধ উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ছাত্র-জনতার সঙ্গে তৎকালীন সরকারের আচরণকে নিষ্ঠুরতম বলে বর্ণনা করেন।

মনিরুজ্জামান আরও লেখেন, গত ১০ বছরে বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রীদের অবৈধ আদেশ এবং পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নির্দেশে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা শিশু-কিশোরসহ বহু মানুষকে হত্যা করেছেন। এর ফলে বাংলাদেশ পুলিশ জনগণের কাছে গণশত্রুতে পরিণত হয়েছে। এ অবস্থায় মানুষের ঘৃণার পাত্র হিসেবে তিনি পুলিশ বাহিনীতে চাকরি করতে ইচ্ছুক নন এবং তাই স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

ইউনিফর্ম পরে ভাইয়ের আ.লীগের মনোনয়নপত্র জমা: সেই অতিরিক্ত ডিআইজিকে বাধ্যতামূলক অবসর

আপডেট: ০৮:৪৯:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

পুলিশের ইউনিফর্ম পরে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অভিযোগে ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামানকে বাধ্যতামূলক অবসর দিয়েছে সরকার।

সোমবার (২০ জুলাই) এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সই রয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল ঝিনাইদহ-১ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী তাঁর ছোট ভাই মো. ওয়াহিদুজ্জামান ঢাকার ধানমন্ডিতে দলটির রাজনৈতিক কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে গেলে মো. মনিরুজ্জামান পুলিশের ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন এবং সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

পরদিন ৩০ এপ্রিল জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে ওই অনুষ্ঠানে ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় তাঁর উপস্থিতির ছবি ও সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ ঘটনায় পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ, উপনির্বাচনে বেআইনিভাবে প্রভাব বিস্তারের কৌশল অবলম্বন এবং জনসম্মুখে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মো. মনিরুজ্জামান লিখিত জবাব দিলেও ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত বোর্ড গঠন করা হয়। তদন্ত শেষে বোর্ড অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে বলে মত দেয়।

এরপর তাঁর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দফা কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হলেও তিনি কোনো জবাব দাখিল করেননি। অভিযোগ, লিখিত জবাব, তদন্ত প্রতিবেদন এবং অন্যান্য নথি পর্যালোচনা করে তাঁকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মতামতও চাওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, পিএসসি বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত পোষণ করে। পরে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ প্রমাণিত হওয়ায় মো. মনিরুজ্জামানকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর’ গুরুদণ্ড দেওয়া হয়।

এর আগে ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১১ আগস্ট মো. মনিরুজ্জামান স্বেচ্ছায় অবসরের আবেদন করেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে জমা দেওয়া ওই আবেদনপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, আল-কোরআনের জ্ঞান ও ন্যায়-অন্যায় সম্পর্কে উপলব্ধির ভিত্তিতে তাঁর কাছে বাংলাদেশ পুলিশে চাকরি করা আর সমীচীন মনে হচ্ছে না।

আবেদনপত্রে তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে পুলিশকে দেওয়া মন্ত্রীদের আদেশকে অবৈধ উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ছাত্র-জনতার সঙ্গে তৎকালীন সরকারের আচরণকে নিষ্ঠুরতম বলে বর্ণনা করেন।

মনিরুজ্জামান আরও লেখেন, গত ১০ বছরে বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রীদের অবৈধ আদেশ এবং পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নির্দেশে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা শিশু-কিশোরসহ বহু মানুষকে হত্যা করেছেন। এর ফলে বাংলাদেশ পুলিশ জনগণের কাছে গণশত্রুতে পরিণত হয়েছে। এ অবস্থায় মানুষের ঘৃণার পাত্র হিসেবে তিনি পুলিশ বাহিনীতে চাকরি করতে ইচ্ছুক নন এবং তাই স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।