প্রকৃত পাসপোর্টধারীর বদলে অন্য নারীকে ইতালি পাচার, ৫৬টি পাসপোর্টসহ চক্রের ৭ সদস্য গ্রেফতার
- আপডেট: ০৬:২৭:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
- / ১৮০০৯
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
প্রকৃত পাসপোর্টধারীর পরিবর্তে অন্য এক নারীকে ইতালিতে পাঠানোর অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচার ও ভিসা জালিয়াতি চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫৬টি পাসপোর্ট, ১৫৩টি বিভিন্ন ধরনের সিল, একটি এম্বোস সিল, তিনটি সিপিইউ, একটি ল্যাপটপ এবং নগদ আড়াই লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন—মো. বেলায়েত হোসেন, নাজমুল হাসান, মেহেদী হাসান, মো. সোলাইমান সুমন, ফজলে রাব্বী, মো. তৌহিদুর রহমান ও কাওসার হোসেন।
সোমবার রাজধানীর গুলশান-১ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খানের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
যেভাবে প্রতারণার ফাঁদে পড়েন ভুক্তভোগী
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ভুক্তভোগী নারীর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে বসবাস করছেন। স্বামী ও চার সন্তানকে নিয়ে ইতালিতে যাওয়ার আশায় তিনি ইতালির দূতাবাসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পাসপোর্ট জমা দেন। পরে পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হলে নবায়নের জন্য দূতাবাসে গেলে নাজমুল হাসানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়।
নাজমুল নিজেকে দ্রুত পাসপোর্ট নবায়ন ও ইতালির ভিসা পাইয়ে দেওয়ার সক্ষম ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাকে গুলশানের একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে নিয়ে যান। সেখানে প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় বেলায়েত হোসেনকে।
অভিযুক্তরা ভিসা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ওই নারীর সঙ্গে আর্থিক চুক্তি করেন। পরে বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে মোট ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। টাকা পরিশোধের পর তাকে পাসপোর্ট ফেরত দেওয়া হয়।
বিমানবন্দরে গিয়ে বেরিয়ে আসে জালিয়াতির ঘটনা
এরপর ইতালিতে থাকা স্বামী স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য বিমানের টিকিট কাটেন। নির্ধারিত দিনে ভুক্তভোগী সন্তানদের নিয়ে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গেলে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা জানান, তার পাসপোর্টে থাকা ইতালির ভিসা ব্যবহার করে অন্য এক নারী গত ২৪ এপ্রিল ইতোমধ্যে ইতালি চলে গেছেন।
এ ঘটনায় হতবাক হয়ে তিনি সিআইডির মানবপাচার শাখায় অভিযোগ করেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়।
এ ঘটনায় হতবাক হয়ে তিনি সিআইডির মানবপাচার শাখায় অভিযোগ করেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে চলছিল ভিসা জালিয়াতি
সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি বিদেশে যাওয়ার আগ্রহীদের ইতালির ভিসা ও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিত। পরে কৌশলে তাঁদের পাসপোর্ট নিজেদের হেফাজতে রেখে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রকৃত পাসপোর্টধারীর পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিকে বিদেশে পাঠানো হতো।
জব্দ করা ৫৬টি পাসপোর্ট ও ১৫৩টি সিল থেকে ধারণা করা হচ্ছে, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে ভিসা জালিয়াতি ও মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল।
সিআইডি আরও জানায়, চক্রের মূলহোতা হিসেবে গ্রেফতার বেলায়েত হোসেন ২০১৬ সাল থেকে একই কৌশলে প্রায় ৩০ জনকে ইতালিতে পাঠানোর সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য মিলেছে। একই ধরনের অপরাধে ২০২৪ সালে বিমানবন্দর থানায় দায়ের করা একটি মামলায় তিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
তদন্ত চলছে
সিআইডি জানিয়েছে, জব্দ করা পাসপোর্ট, সিল, কম্পিউটারসহ অন্যান্য আলামতের ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের আর্থিক লেনদেন, দেশি-বিদেশি সহযোগী এবং সম্ভাব্য অন্যান্য ভুক্তভোগীকে শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
একই সঙ্গে বিদেশে কর্মসংস্থান বা অভিবাসনের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রলোভনে পড়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া অর্থ বা পাসপোর্ট হস্তান্তর না করার আহ্বান জানিয়েছে সিআইডি। সরকার অনুমোদিত বৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশ যাওয়ার পাশাপাশি ভিসা জালিয়াতি বা মানবপাচারের সন্দেহ হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সিআইডিকে জানাতে নাগরিকদের অনুরোধ করা হয়েছে।




















