প্লটের নামে প্রতারণা: বেস্টওয়ে ল্যান্ডের এমডিসহ ১৭ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৭ কোটি টাকার মামলা করেছে সিআইডি
- আপডেট: ০৬:৩২:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
- / ১৮০০৭
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
প্লট বরাদ্দের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা নিয়ে প্রতিশ্রুত প্লট বুঝিয়ে না দেওয়া এবং সেই অর্থ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্থানান্তর ও রূপান্তরের অভিযোগে রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান বেস্টওয়ে ল্যান্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিজানুর রহমান, চেয়ারম্যান তানিয়া সুলতানা তানভী, পরিচালক মো. মোমেনসহ সংশ্লিষ্ট ১৭টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আবু তালেব এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের দীর্ঘ অনুসন্ধানে অন্তত ৩৭ জন গ্রাহকের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে ৭ কোটি ২ লাখ ৬৭ হাজার ৬০৪ টাকা নেওয়ার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। কিন্তু গ্রাহকদের প্রতিশ্রুত প্লট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি এবং তাদের অর্থও ফেরত দেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় বনানী থানায় ২১ জুলাই মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়।
সিআইডির অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১০ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ভোলাব, তরাইল, বিরাব, মোচারতালুকসহ বিভিন্ন এলাকায় প্লট বিক্রির নামে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কিস্তিতে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। প্লটের নিশ্চয়তা হিসেবে গ্রাহকদের সাব-কবলা দলিল দেওয়া হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রকৃত প্লট হস্তান্তর করা হয়নি।
সিআইডির দাবি, প্রতারণার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের বড় অংশ অভিযুক্তদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করা হয়েছে।
তদন্তে ১৭টি প্রতিষ্ঠানের ৮২টি ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা করে ২০১০ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে ৩৫৯ কোটি ২ লাখ ৭১ হাজার ৯৪৫ টাকা জমা এবং ৩৫৮ কোটি ৫৪ লাখ ৩৭ হাজার ১০২ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে।
এছাড়া অনুসন্ধানে ২০১০-২০১৪ সময়ে মোট ২ হাজার ৭১৩টি সাব-কবলা রেজিস্ট্রি দলিলের তথ্য পাওয়া গেছে, যেগুলো গ্রাহকদের কাছে জিম্মা বা গ্যারান্টি হিসেবে দেওয়া হয়েছিল।
অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আবু তালেব আরও জানান, তদন্তে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের প্রকৃত পরিমাণ, অর্থের উৎস ও গন্তব্য, ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের ধরন এবং এ ঘটনায় অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতারণার শিকার আরও গ্রাহকদের শনাক্ত করে তাদের ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজও চলছে।
এ ধরনের প্রতারণা এড়াতে আবাসন প্রকল্পে বিনিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, জমির মালিকানা, প্রকল্পের অনুমোদন ও অর্থ লেনদেনের বৈধতা যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে সিআইডি।



















