০৫:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

মিরপুরে যুবদলকর্মী হত্যায় ২৫ লাখ টাকার চুক্তি,চার শুটার ভাড়া করেন ‘সিএনজি হাফিজ’

  • আপডেট: ০৩:৩২:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
  • / ১৮০০৩

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

রাজধানীর মিরপুরে যুবদলকর্মী মো.ইউসুফ হত্যা মামলার তদন্তে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ডিবির জানায়,কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে মাগুরা ও ঝিনাইদহ থেকে চার পেশাদার শুটার ভাড়া করা হয়েছিল। তবে পরিকল্পিত হামলায় লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে নিহত হন যুবদলকর্মী ইউসুফ।

সোমবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ঘটনার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে এ পর্যন্ত আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতাররা হলেন- চঞ্চল মোল্লা (৩৪), জিহাদ মোল্লা (৩০), জিয়ারুল মোল্লা (৩৯), মাসুম বিল্লাহ (২৮), নাহিদ হাসান (২১), আবির হাওলাদার (২৫), আলী হোসেন (৪৫) ও শাফিন আহমেদ (২২)।

ডিবি জানায়, কাফরুল থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজের সঙ্গে কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুর দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। স্থানীয় ময়লার টেন্ডার, ফুটপাতের দোকান, ব্যবসা এবং একটি টিনশেড বাড়ির দখল নিয়ে এ বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জের ধরেই বাবুকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ জুন প্রথম দফায় হত্যাচেষ্টা চালানোর পরিকল্পনা করা হলেও অস্ত্রে গুলি লোড করার সময় মিসফায়ারের কারণে তা ব্যর্থ হয়। পরে ২২ জুলাই অভিযুক্তরা ঢাকায় এসে মিরপুর-২ এলাকার একটি হোটেলে ওঠে এবং ২৩ জুলাই রাতে হামলার প্রস্তুতি নেয়।

ডিবিপ্রধান বলেন, ঘটনার রাতে বাবুর অফিসের সামনে অবস্থান নেওয়া সন্দেহভাজনদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা নিজেদের স্থানীয় বাসিন্দা বলে পরিচয় দেয়। পরে তাদের তল্লাশির চেষ্টা করলে একজন অস্ত্র বের করে ইউসুফকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে ইউসুফ নিহত হন। এ সময় এলোপাতাড়ি গুলিতে সবজি বিক্রেতা নালাম সরদার ও মনির হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন।

ডিবির দাবি, গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, সিএনজি হাফিজ চার শুটারকে ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে ভাড়া করেন। চুক্তির একটি অংশ অগ্রিম দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া তাদের হোটেল ভাড়া ও অন্যান্য খরচও বহন করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, তদন্তে হাফিজকে এ পরিকল্পনার মূলহোতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং ব্যবহৃত অন্যান্য অস্ত্রের উৎস শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডই বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে আইনের আওতায় আনা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা-উত্তর বিভাগের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ কামরূজ্জামান, গোয়েন্দা (ডিবি) মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রাকিব খান, মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মোস্তাক সরকার এবং ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) নিয়াজ মেহেদী।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

মিরপুরে যুবদলকর্মী হত্যায় ২৫ লাখ টাকার চুক্তি,চার শুটার ভাড়া করেন ‘সিএনজি হাফিজ’

আপডেট: ০৩:৩২:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

রাজধানীর মিরপুরে যুবদলকর্মী মো.ইউসুফ হত্যা মামলার তদন্তে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ডিবির জানায়,কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে মাগুরা ও ঝিনাইদহ থেকে চার পেশাদার শুটার ভাড়া করা হয়েছিল। তবে পরিকল্পিত হামলায় লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে নিহত হন যুবদলকর্মী ইউসুফ।

সোমবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ঘটনার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে এ পর্যন্ত আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতাররা হলেন- চঞ্চল মোল্লা (৩৪), জিহাদ মোল্লা (৩০), জিয়ারুল মোল্লা (৩৯), মাসুম বিল্লাহ (২৮), নাহিদ হাসান (২১), আবির হাওলাদার (২৫), আলী হোসেন (৪৫) ও শাফিন আহমেদ (২২)।

ডিবি জানায়, কাফরুল থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজের সঙ্গে কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুর দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। স্থানীয় ময়লার টেন্ডার, ফুটপাতের দোকান, ব্যবসা এবং একটি টিনশেড বাড়ির দখল নিয়ে এ বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জের ধরেই বাবুকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ জুন প্রথম দফায় হত্যাচেষ্টা চালানোর পরিকল্পনা করা হলেও অস্ত্রে গুলি লোড করার সময় মিসফায়ারের কারণে তা ব্যর্থ হয়। পরে ২২ জুলাই অভিযুক্তরা ঢাকায় এসে মিরপুর-২ এলাকার একটি হোটেলে ওঠে এবং ২৩ জুলাই রাতে হামলার প্রস্তুতি নেয়।

ডিবিপ্রধান বলেন, ঘটনার রাতে বাবুর অফিসের সামনে অবস্থান নেওয়া সন্দেহভাজনদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা নিজেদের স্থানীয় বাসিন্দা বলে পরিচয় দেয়। পরে তাদের তল্লাশির চেষ্টা করলে একজন অস্ত্র বের করে ইউসুফকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে ইউসুফ নিহত হন। এ সময় এলোপাতাড়ি গুলিতে সবজি বিক্রেতা নালাম সরদার ও মনির হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন।

ডিবির দাবি, গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, সিএনজি হাফিজ চার শুটারকে ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে ভাড়া করেন। চুক্তির একটি অংশ অগ্রিম দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া তাদের হোটেল ভাড়া ও অন্যান্য খরচও বহন করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, তদন্তে হাফিজকে এ পরিকল্পনার মূলহোতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং ব্যবহৃত অন্যান্য অস্ত্রের উৎস শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডই বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে আইনের আওতায় আনা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা-উত্তর বিভাগের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ কামরূজ্জামান, গোয়েন্দা (ডিবি) মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রাকিব খান, মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মোস্তাক সরকার এবং ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) নিয়াজ মেহেদী।