১২:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

কেরাণীগঞ্জে প্রেমের দ্বন্দ্বে কিশোরীকে গলা কেটে হত্যা, গ্রেফতার ১

  • আপডেট: ০৬:৩৬:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • / ১৮০০৫

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

ঢাকার কেরাণীগঞ্জ খালার বাসা থেকে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে নিখোঁজ হন কিশোরী মোসা.তানজিলা। পরে মদিনানগর এলাকা থেকে গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তার মৃতদেহ। এ ঘটনায় ওই কিশোরীর প্রেমিক মো.রানা হাওলাদার (৩০)-কে গ্রেফতার করেছে পিবিআই।

পিবিআই বলছে, ভিকটিম মোসা. তানজিলার সঙ্গে তার গত ৬/৭ মাস ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল রানার। তানজিলা রানার কাছে ৩০ হাজার টাকা চাইলে তা দিতে না পারায় তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় রানা তানজিলার গলা চেপে ধরে ফল কাটার চাকু দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর উত্তরা পিবিআই ঢাকা জেলা অফিসে এক সংবাদ সন্মেলনে এসব জানান পিবিআই ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ।

মোর্শেদ বলেন, কিশোরী মোসা. তানজিলা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনসহ হত্যাকারী মো. রানা হাওলাদারকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই ঢাকা জেলা। গতকাল ২৯ জুলাই তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু, ভিকটিমের ব্যবহৃত স্মার্টফোন এবং তার ব্যবহৃত অলংকার উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, গত ২৭ জুলাই দুপুরে কিশোরী মোসা. তানজিলা (১৭) দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের বাঘৈরে তার খালার বাসায় দুপুরের খাবার খেয়ে বিকেলে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে নিখোঁজ হয়। পরদিন গত ২৮ জুলাই কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার মদিনানগর এলাকা থেকে গলাকাটা অবস্থায় তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিকটিমের মা মরদেহটি তানজিলার বলে শনাক্ত করেন। এই ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার মামলা করেন।

তিনি আরও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গতকাল হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামি মোঃ রানা হাওলাদার (৩০)-কে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি, ভিকটিমের দুটি স্মার্টফোন ও অলংকার উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলেও জানান তিনি।

তদন্তের তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃত মো.রানা হাওলাদার কেরানীগঞ্জে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করত। ভিকটিম মোসা. তানজিলার সঙ্গে তার গত ৬/৭ মাস ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তানজিলা রানার কাছে ৩০ হাজার টাকা চাইলে তা দিতে না পারায় তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। গত ২৭ জুলাই বিকেলে রানা নিজ অটোরিকশায় তানজিলাকে নিয়ে কেরানীগঞ্জের কালিন্দী ইউনিয়নের মদিনানগর এলাকাস্থ ফাঁকা হাউজিং প্লটে নিয়ে যায়। সেখানে ঝগড়ার একপর্যায়ে রানা গলা চেপে ধরে ফল কাটার চাকু দিয়ে গলা কেটে তাকে হত্যা করে। পরে ভিকটিমের দুটি স্মার্টফোন, রূপার চেইন ও ব্রেসলেট নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনার সাথে অন্য আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

কেরাণীগঞ্জে প্রেমের দ্বন্দ্বে কিশোরীকে গলা কেটে হত্যা, গ্রেফতার ১

আপডেট: ০৬:৩৬:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

ঢাকার কেরাণীগঞ্জ খালার বাসা থেকে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে নিখোঁজ হন কিশোরী মোসা.তানজিলা। পরে মদিনানগর এলাকা থেকে গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তার মৃতদেহ। এ ঘটনায় ওই কিশোরীর প্রেমিক মো.রানা হাওলাদার (৩০)-কে গ্রেফতার করেছে পিবিআই।

পিবিআই বলছে, ভিকটিম মোসা. তানজিলার সঙ্গে তার গত ৬/৭ মাস ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল রানার। তানজিলা রানার কাছে ৩০ হাজার টাকা চাইলে তা দিতে না পারায় তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় রানা তানজিলার গলা চেপে ধরে ফল কাটার চাকু দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর উত্তরা পিবিআই ঢাকা জেলা অফিসে এক সংবাদ সন্মেলনে এসব জানান পিবিআই ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ।

মোর্শেদ বলেন, কিশোরী মোসা. তানজিলা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনসহ হত্যাকারী মো. রানা হাওলাদারকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই ঢাকা জেলা। গতকাল ২৯ জুলাই তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু, ভিকটিমের ব্যবহৃত স্মার্টফোন এবং তার ব্যবহৃত অলংকার উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, গত ২৭ জুলাই দুপুরে কিশোরী মোসা. তানজিলা (১৭) দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের বাঘৈরে তার খালার বাসায় দুপুরের খাবার খেয়ে বিকেলে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে নিখোঁজ হয়। পরদিন গত ২৮ জুলাই কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার মদিনানগর এলাকা থেকে গলাকাটা অবস্থায় তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিকটিমের মা মরদেহটি তানজিলার বলে শনাক্ত করেন। এই ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার মামলা করেন।

তিনি আরও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গতকাল হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামি মোঃ রানা হাওলাদার (৩০)-কে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি, ভিকটিমের দুটি স্মার্টফোন ও অলংকার উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলেও জানান তিনি।

তদন্তের তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃত মো.রানা হাওলাদার কেরানীগঞ্জে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করত। ভিকটিম মোসা. তানজিলার সঙ্গে তার গত ৬/৭ মাস ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তানজিলা রানার কাছে ৩০ হাজার টাকা চাইলে তা দিতে না পারায় তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। গত ২৭ জুলাই বিকেলে রানা নিজ অটোরিকশায় তানজিলাকে নিয়ে কেরানীগঞ্জের কালিন্দী ইউনিয়নের মদিনানগর এলাকাস্থ ফাঁকা হাউজিং প্লটে নিয়ে যায়। সেখানে ঝগড়ার একপর্যায়ে রানা গলা চেপে ধরে ফল কাটার চাকু দিয়ে গলা কেটে তাকে হত্যা করে। পরে ভিকটিমের দুটি স্মার্টফোন, রূপার চেইন ও ব্রেসলেট নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনার সাথে অন্য আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।