‘পুলিশকে দুর্বল করতে পরিকল্পিত অপতৎপরতা চলছে’
- আপডেট: ০৫:১২:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৮০০৩
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
পুলিশ বাহিনীকে দুর্বল ও বিতর্কিত করতে পরিকল্পিতভাবে অপতথ্য, গুজব ও কুৎসামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। এ ধরনের অপতৎপরতায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে প্রচলিত আইন, বিধি ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা অনুযায়ী কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
রবিবার (৯ আগস্ট) এক বিবৃতিতে এসব কথা জানায় বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বিবৃতিতে সই করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে পুলিশের ভঙ্গুর মনোবল যখন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে এবং বাহিনীর সদস্যরা নতুন উদ্যমে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালনে ফিরে আসছেন, ঠিক সেই সময়ে পলাতক, জনবিচ্ছিন্ন ফ্যাসিস্ট শক্তি এবং কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহল একটি পরিকল্পিত অপতৎপরতায় লিপ্ত হয়েছেন বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের অভিযোগ, পুলিশ বাহিনীর বাইরে ও অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা এ সকল গুপ্ত ও ফ্যাসিস্টদের দোসররা দেশ-বিদেশে অবস্থানরত বিভিন্ন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও নামধারী সাংবাদিকের কাছে মিথ্যা, উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহ করছেন। এসব তথ্যের সত্যতা, প্রেক্ষাপট ও যথার্থতা যাচাই না করে কথিত সাংবাদিক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টরা সেগুলোকে অতিরঞ্জিত করে নানা মনগড়া ও বিভ্রান্তিকর গল্প তৈরি করছেন এবং নিজেদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন প্লাটফর্মে প্রচার করছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের অপতথ্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা ব্যক্তিবিশেষের পাশাপাশি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এমনকি বাহিনীর প্রধানের বিরুদ্ধেও কুৎসা ও অপপ্রচারে রূপ নিচ্ছে। এতে দায়িত্ব পালনে ফিরে আসা পুলিশ সদস্যদের মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনীর কর্মস্পৃহা ও কার্যক্ষমতাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সংগঠনটি বলেছে, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের মনোবল ও পেশাগত সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপতথ্য, গুজব ও কুৎসামূলক প্রচারণার মাধ্যমে বাহিনীকে দুর্বল ও বিতর্কিত করার চেষ্টা শুধু পুলিশ বাহিনীকে নয়, রাষ্ট্র ও জনগণকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ব্যক্তিস্বার্থ, গোষ্ঠীগত স্বার্থ কিংবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য একটি সুশৃঙ্খল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে দায়িত্বহীন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অংশ হতে পারে না। এ ধরনের কর্মকাণ্ড পেশাগত নৈতিকতা, রাষ্ট্রীয় স্বার্থ এবং বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার পরিপন্থী।
বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এ ধরনের ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার’, বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং পুলিশ বাহিনীকে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল ও বিতর্কিত করার অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
এ ধরনের অপতৎপরতায় জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় ও কর্মকাণ্ড যথাযথভাবে শনাক্ত করে প্রচলিত আইন, বিধি ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা অনুযায়ী কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
একই সঙ্গে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি বিনষ্ট এবং আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড থেকে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন।



















