০৩:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

শাহজাহানপুরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা,স্বামী গ্রেফতার

  • আপডেট: ০৩:১৪:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৮০০২

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

রাজধানীর শাহজাহানপুরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে রুবেল মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, দাম্পত্য কলহের জেরে স্ত্রী স্বপ্না খাতুন আক্তারকে গলা টিপে হত্যা করে পালিয়ে যান রুবেল।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য জানান।

তিনি জানান,প্রায় ১১ বছর আগে পারিবারিকভাবে স্বপ্না খাতুন আক্তারের সঙ্গে রুবেল মিয়ার বিয়ে হয়। তাদের দুই সন্তান রয়েছে। রুবেল মিয়া মাদকাসক্ত ও বর্তমানে কর্মহীন বলে জানিয়েছে পুলিশ। দাম্পত্য কলহের জেরে স্বপ্না এর আগে দুইবার রুবেলকে তালাকের নোটিশ দিয়েছিলেন। পরে রুবেলের অনুরোধে তারা আবার সংসার শুরু করেন।

পুলিশের ভাষ্য, গত ৭ আগস্ট রুবেল তার স্ত্রীকে মারধর করেন। এর পরদিন রাতে শাহজাহানপুর থানার গুলবাগ এলাকার ভাড়া বাসায় পারিবারিক ও স্থানীয় ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। ওই সময় রুবেল আর স্ত্রীকে মারধর করবেন না বলে জানান। তবে ওই রাতেই তাদের মধ্যে আবার ঝগড়া হয় এবং বাসার কিছু হাঁড়ি-পাতিল ভাঙচুর করা হয়।

পরদিন ৯ আগস্ট সকালে ভাঙা জিনিসপত্র দেখে স্বপ্না রুবেলকে বাসা থেকে চলে যেতে বলেন। এ সময় পূর্ববিরোধের জেরে রুবেল তাকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন বলে পুলিশের ভাষ্য। এরপর তিনি বাসা থেকে পালিয়ে যান।

পুলিশ জানায়, ওই দিন দুপুর ১২টার দিকে স্বপ্নার এক আত্মীয় ওই বাসায় গিয়ে ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। তখন খাটের ওপর স্বপ্নার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর দেওয়া হলে শাহজাহানপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই ওয়াহেদ আলীর অভিযোগের ভিত্তিতে শাহজাহানপুর থানায় হত্যা মামলা করা হয়।

মামলার পর গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় রুবেলের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ। পরে ৯ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে শাহজাহানপুর থানার আমতলা মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রুবেল হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পরে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

শাহজাহানপুরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা,স্বামী গ্রেফতার

আপডেট: ০৩:১৪:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

রাজধানীর শাহজাহানপুরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে রুবেল মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, দাম্পত্য কলহের জেরে স্ত্রী স্বপ্না খাতুন আক্তারকে গলা টিপে হত্যা করে পালিয়ে যান রুবেল।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য জানান।

তিনি জানান,প্রায় ১১ বছর আগে পারিবারিকভাবে স্বপ্না খাতুন আক্তারের সঙ্গে রুবেল মিয়ার বিয়ে হয়। তাদের দুই সন্তান রয়েছে। রুবেল মিয়া মাদকাসক্ত ও বর্তমানে কর্মহীন বলে জানিয়েছে পুলিশ। দাম্পত্য কলহের জেরে স্বপ্না এর আগে দুইবার রুবেলকে তালাকের নোটিশ দিয়েছিলেন। পরে রুবেলের অনুরোধে তারা আবার সংসার শুরু করেন।

পুলিশের ভাষ্য, গত ৭ আগস্ট রুবেল তার স্ত্রীকে মারধর করেন। এর পরদিন রাতে শাহজাহানপুর থানার গুলবাগ এলাকার ভাড়া বাসায় পারিবারিক ও স্থানীয় ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। ওই সময় রুবেল আর স্ত্রীকে মারধর করবেন না বলে জানান। তবে ওই রাতেই তাদের মধ্যে আবার ঝগড়া হয় এবং বাসার কিছু হাঁড়ি-পাতিল ভাঙচুর করা হয়।

পরদিন ৯ আগস্ট সকালে ভাঙা জিনিসপত্র দেখে স্বপ্না রুবেলকে বাসা থেকে চলে যেতে বলেন। এ সময় পূর্ববিরোধের জেরে রুবেল তাকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন বলে পুলিশের ভাষ্য। এরপর তিনি বাসা থেকে পালিয়ে যান।

পুলিশ জানায়, ওই দিন দুপুর ১২টার দিকে স্বপ্নার এক আত্মীয় ওই বাসায় গিয়ে ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। তখন খাটের ওপর স্বপ্নার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর দেওয়া হলে শাহজাহানপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই ওয়াহেদ আলীর অভিযোগের ভিত্তিতে শাহজাহানপুর থানায় হত্যা মামলা করা হয়।

মামলার পর গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় রুবেলের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ। পরে ৯ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে শাহজাহানপুর থানার আমতলা মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রুবেল হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পরে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।