বিদেশে বসে ঢাকার ওয়ারীতে ‘কুশ’ ল্যাব পরিচালনা, ডিএনসির অভিযানে গ্রেফতার ২
- আপডেট: ০৮:০৭:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১৮০৩৪
বিদেশে অবস্থান করেও ঢাকার ওয়ারীর একটি আবাসিক ভবনে অপ্রচলিত ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মাদক ‘কুশ’ উৎপাদন ও সংরক্ষণের একটি পূর্ণাঙ্গ ল্যাব পরিচালনা করছিল একটি সংঘবদ্ধ চক্র। সম্প্রতি ওই ভবনে অভিযান চালিয়ে চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।
বৃহস্পতিবার(০৮ জানুয়ারি) সেগুনবাগিচায় ডিএনসির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএনসির পরিচালক (অপারেশনস) মো. বশির আহমেদ।
ডিএনসি জানায়, বিদেশে ইয়াবা পাচারের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় একটি কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে বিদেশগামী একটি পার্সেল তল্লাশি করে বিশেষ কৌশলে লুকানো অ্যামফিটামিনযুক্ত ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পার্সেলটি গত ৩ জানুয়ারি কুরিয়ার সার্ভিসে বুকিং দেওয়া হয়েছিল।
তদন্তে জানা যায়, একটি ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে ইয়াবার চালানটি বিদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল। এ ঘটনায় কুরিয়ার অফিসের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে একজন নারীকে শনাক্ত করা হয়। পরে ঢাকার খিলগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার হওয়া ওই নারীর নাম সুমেহরা তাসনিয়া ওরফে তাসনিয়া হাসান। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তার বয়ফ্রেন্ড মো. তৌসিফ হাসানের সংশ্লিষ্টতার কথা জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রবাসী তৌসিফ হাসান তাকেই ব্যবহার করে ঢাকার ওয়ারীতে নিজ বাসায় ‘কুশ’ উৎপাদনের একটি ল্যাব স্থাপন করেন।
এই তথ্যের ভিত্তিতে ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে একটি দল ওয়ারী এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালায়। অভিযানে ল্যাব পরিচালনায় জড়িত বাসার তত্ত্বাবধায়ক রাজু শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে উদ্ধার করা হয় বিশেষ পদ্ধতিতে ল্যাবে চাষকৃত ও অঙ্কুরিত কুশ প্ল্যান্ট, কুশ চাষের আধুনিক সরঞ্জাম, সদ্য হারভেস্টকৃত কুশ (২০ গ্রাম), কুশ প্ল্যান্টের বীজ, ক্যানাবিনয়েড রেজিন, সীসা ১৫০ গ্রাম ও সেবনের সরঞ্জাম, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশি মদ এবং ৪২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট।
ডিএনসির তদন্তে উঠে এসেছে, ওয়ারীর ‘কুশ’ ল্যাবের মূল পরিকল্পনাকারী ও নিয়ন্ত্রক পলাতক মো. তৌসিফ হাসান। তিনি ঢাকার ওয়ারীতে জন্ম ও বেড়ে ওঠেন এবং ইংরেজি মাধ্যম থেকে ‘ও’ লেভেল সম্পন্ন করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাড়ি জমান। পরবর্তীতে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিদেশে অবস্থান করেও তিনি ইন্টারনেটনির্ভর প্রযুক্তির মাধ্যমে ঢাকার ল্যাবের তাপমাত্রা, আলো ও পরিবেশ পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করতেন। দেশে থাকা সহযোগীদের নিয়মিত নির্দেশনা দিতেন এবং পুরো কার্যক্রম তার ‘রিমোট কন্ট্রোলেই’ পরিচালিত হতো।
ডিএনসির অভিযানে আরও জানা যায়, ওই বাসার একটি কক্ষে উন্নত জাতের মারিজুয়ানা ‘কুশ’ চাষের জন্য একটি আধুনিক ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়েছিল। সেখানে কৃত্রিম আলো, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণের যন্ত্রপাতির পাশাপাশি কুশ সেবনের উপকরণ, শিশা ও বিদেশি মদ পাওয়া যায়। এছাড়া বাসার ছাদে টিন ও ফয়েল পেপার দিয়ে তৈরি তাপমাত্রানিয়ন্ত্রিত একটি বিশেষ ঘরে একাধিক টবে কুশ গাছ চাষ করা হচ্ছিল।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত আলামত রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পলাতক মূল অভিযুক্ত মো. তৌসিফ হাসানকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, সে বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএনসি।



















